স্টাফ রিপোর্টার :

 

কখনো ডিজিএফআই কর্মকর্তা, কখনো বা প্রধানমন্ত্রীর এসএসএফের অফিসার আবার কখনো বা বিচারপতির ছেলে। এভাবেই বিভিন্ন পরিচয় দিয়ে অভিনব ভাবে বিভিন্ন মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছে কুমিল্লার ছেলে যোবায়ের আহমেদ তালুকদার। সম্প্রতি মহামান্য হাইকোর্ট থেকে একজন মার্ডার কেসের আসামীকে জামিন করিয়ে দিবে জোবায়ের, এই মর্মে প্রতারণা করে কিছু ভুক্তভোগীর নিকট থেকে হাতিয়ে নেয় মোটা অংকের অর্থ। এরকম একটি তথ্য সাধারণ ডায়েরীর মাধ্যমে বেরিয়ে আসলে যোবায়েরের গোপন মুখোশে ডাকা চরিত্রের উন্মোচন হয়।

সে বিভিন্ন পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন লোকের সাথে প্রতারণা করে আসছে অনেক দিন যাবৎ। চোখে সানগ্লাস, গায়ে দামী জামা, কথাবার্তায় চটপট স্মার্ট তার প্রতারণার প্রধান পুঁজি। ভুক্তভোগী এইচ এ ববি এবং এবং ফরিদপুর ভাঙ্গার বাচ্চু কমিশনারের ছেলে রিজু দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশকে জানান, আমাদের নিকট থেকে একটি মামলার বিষয়ে হাইকোর্ট থেকে জামিন করিয়ে দিবে বলে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় যোবায়ের আহমেদ তালুকদার। অন্যদিকে তানজিল নামক একজন ব্যবসায়ীর নিকট থেকে কিছু ব্যবসা পাইয়ে দিবে ইত্যাদি নয় ছয় বুঝিয়ে বিভিন্ন মিথ্যা পরিচয় দিয়ে ৩ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় যোবায়ের আহমেদ তালুকদার।

যোবায়ের আহমেদ তালুকদারের ০১৬২৯২১৬১৮০ এই নাম্বারটি দিয়ে সবার সাথে সম্পর্ক গড়লেও বর্তমানে তার নাম্বারটি বন্ধ করে রেখেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতারক যোবায়ের আহমেদ তালুকদার ফুটপাত থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থান ও প্রতিষ্ঠানে নিজেকে এসএসএফ’র কর্মকর্তা বলে পরিচয় দিতো। সে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন মানুষের নিকট থেকে সরকারী চাকুরী পাইয়ে দিবে আবার মামলা থেকে অব্যাহতি দিবে আবার ব্যাংক লোন করিয়ে দিবে ইত্যাদি কথা বলে অনেক অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানা যায়। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরী সহ রয়েছে মামলা। কিছুদিন পর পর গণমাধ্যমের সংবাদে উঠেছে বিভিন্ন প্রতারকের চিত্র। দূর্নীতিগ্রস্থ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান আর প্রতারকদের দৌরাত্ম্যে জাতি আজ বেসামাল।

প্রতারকরা করছেনা এহেন কোন কাজ নেই। একজন ব্যক্তি কত বড় বাটপার হলে মাননীয় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সাথে নিজের ছবিকে সম্পৃক্ত করে মানুষকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব পরিচয় প্রদান করে ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ভিআইপি ব্যক্তিদের সাথে ছবি এডিট করে ফেসবুকে দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিতে পারে টাকা। কিন্তু চোরের দশদিন গৃহস্তের একদিন। কিছুদিন পূর্বে প্রতারক শরীফ উদ্দিন ওরফে আকাশ আটক হয় কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের হাতে। কখনও পরিচয় দেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী রাজনৈতিক সচিব, আবার কখনও উপসচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। আবার নিজেকে দাবি করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক। বর্তমানে আওয়ামীলীগের সদস্য। সে নাম বলে থাকে শেখ আকাশ আহমেদ শরীফ, বাড়ি গোপালগঞ্জ। পরিধান করেন মুজিব কোট এবং নৌকার ব্যাজ।

এমন পরিচয় ব্যবহার করেই সম্পর্ক গড়ে তোলেন মানুষের সাথে। এসব প্রতারকদের দৌরাত্ম্য এতটাই বেশি নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর পার্সোনাল প্রটোকল অফিসার বলে পুলিশের ডিআইজি সহ বিভিন্ন দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট থেকে লাল গালিচা সংবর্ধনা নিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে ভালো মন্দ খেয়ে সবাইকে ধোকা দিয়ে প্রতারণা করতেও ভয় পায়না এসব প্রতারকরা। কিছুদিন পরপর বিভিন্ন প্রতারকরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হলেও আইনের ফাঁক ফোকর দিয়ে বেরিয়ে এসব প্রতারকরা আবার কৌশল পরিবর্তন করে নতুন করে শুরু করে প্রতারণা।

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here