আমার দৃষ্টিতে এ্যাড. সাহারা খাতুন (এমপি) এর জনপ্রিয়তা শীর্ষে

আলহাজ্ব মোঃ খসরু চৌধুরী:

 

 

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক সফল স্বরাষ্ট্র, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী এ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন (এমপি) দলমত নির্বিশেষে সকলের কাছে সর্বজন স্বীকৃত জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। সর্বোচ্চ ক্ষমতার সিড়িতে চলেও তার সততা, ন্যায়, নিষ্ঠা বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সহ সারা দেশের মধ্যে তার প্রশংসা ছড়িয়ে পড়ে তাকে মর্যাদার শীর্ষ স্থানে অধিষ্ঠিত করেছে।

 

 

এ্যাড. সাহারা খাতুন (এমপি) ১৯৪৩ সালে ১ লা মার্চ ঢাকার কুর্মিটোলায় জন্মগ্রহন করেন। পিতার নাম মরহুম ডা. আব্দুল আজিজ মাষ্টার ও মাতার নাম মরহুমা তুরজান নেছা। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ এর সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী আইনজীবি পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন প্রতিষ্টা কালিন সময় থেকে। সাহারা খাতুন একজন সফল রাজনৈতিক সংগঠক ও মুজিব আদর্শের একজন নির্ভীক সৈনিক ও নিবেদিত প্রাণ আওয়ামীলীগ নেত্রী।

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষনের দিন তিনি আওয়ামীলীগের মহিলা শাখার নেতাকর্মীদের নিয়ে সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভার মঞ্চের সামনে খুব কাছাকাছি বসেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সাথে আছে তার অনেক দূলর্ভ ছবি। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে এ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন প্রথমে নগর আওয়ামীলীগের মহিলা সম্পাদিকা নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে মহিলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদিকা, এবং একই সাথে নগর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

 

এরপর তিনি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ-আইন সম্পাদিকা, পরে তিনি আইন সম্পাদিকা নির্বাচিত হন। তখন তিনি নগর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি পদ আর গ্রহন করেননি। কাউন্সিলে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হন। এখনও তিনি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে আছেন। এ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন ১৯৮১ সাল থেকে আইন পেশা শুরু করেন। তিনি আইনজীবিদের বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ করে সংগঠিত করা শুরু করেন। জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৮১ সনে দেশে ফিরে দেখেন যে, আইনজীবিদের মধ্যে সকল রাজনৈতিক দল আজ সংগঠন গড়ে তুলেছেন।

 

তখন তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে পরামর্শ করে কয়েকজন আইনজীবি নিয়ে তাকে আহŸবায়ক করে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ আইনজীবি পরিষদ গঠন করেন। সাহারা খাতুন ১৯৯১ সনের সংসদ নির্বাচন তৎকালিন ঢাকা-৫ আসন থেকে মনোনয়ন পেয়ে বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়ার সাথে প্রতিদ্বন্দিতা করেছিলেন। কিন্তু ভোট কারচুপি করে তাকে হারিয়ে দেওয়া হয়। পরে একই আসনে খালেদা জিয়ার সিট না থাকার কারনে শূণ্য আসনের নির্বাচনেও তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। তখনও বিএনপি ক্ষমতায় থেকে ভোট কারচুপি করে তাকে হারিয়ে দেয়। ১৯৯৬ ও ২০০১ সনে তাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।

 

এরপর তিনি ২০০৮ সনের ২৯ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসন থেকে মনোনয়ন পেয়ে বিপুল ভোটে জয় লাভ করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামীলীগ তথা ১৪ দলীয় জোট ক্ষমতায় আসে। তাকে ৬ জানুয়ারী ২০০৯ সনে চ্যালেঞ্জিং মন্ত্রনালয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে যুক্ত হলো প্রথম মহিলা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সফলতার সাথে তিনি নির্ভীকভাবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে চার বছরের মাথায় তাকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি পূণরায় ঢাকা-১৮ আসন থেকে ২০১৪ সনের ৫ জানুয়ারী পূণরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল সাহারা খাতুন। আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে তিনি বহুবার নির্যাতিত হয়েছেন, জেল খেটেছেন।

 

তারপরও তিনি কখনও থেমে থাকেননি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রতিষ্ঠায় কাজ করে গেছেন এবং তিনি আজীবন কাজ করে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ওয়ান ইলেভেনের সময় আওয়ামীলীগ এর দুঃসময়ের কান্ডারী হিসাবে দলের নেতাকর্মীদের কাছে প্রিয় ও আস্থাভাজন হয়ে উঠেন এ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন ঢাকা-১৮ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য বর্ষীয়ান এই নেত্রী সকলের অভিভাবক হয়ে মনের মনি বেষ্ঠায় স্থান পেয়েছে। তার সততা, সত্যবাদিতা, ন্যায়-নিষ্ঠা আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের সোপানে কাজ করা তার রাজনৈতিক ইতিহাস আগামী প্রজন্মের কাছে একটি উজ্জল দৃষ্টান্ত হবে।