Amar Praner Bangladesh

ইউপি নির্বাচনে নির্বাচিত সৎ ব্যক্তি জনগণের কল্যাণ বয়ে আনবে

 

(গোল টেবিল বৈঠকে দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশের সহকারী সম্পাদক এস এম মাসুদ রানা সহ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সহকারী সম্পাদক আওলাদ হোসেন, টঙ্গী প্রতিনিধি বশির আলম, আইটি বিভাগের হেড অব ইনচার্জ সোহরাব হোসেন সহ সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন। ক্যামেরায় ছিলেন মাহবুব আলম, সার্বিক সহযোগীতায় ছিলেন আবু তৈয়ব।)

 

প্রাণের বাংলাদেশ ডেস্ক :

 

বাংলাদেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ কি পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ পাচ্ছে এমনকি কোন খাতে এসকল অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায়, কি ধরনের উন্নয়ন কাজে ব্যয় হয়। এই হিসাব সাধারণ জনগণ কখনোই জানেনা বা জানার প্রয়োজনবোধ করেনা।

রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে ভোটাধিকার একটি পবিত্র আমানত। আপনার ভোটে নির্বাচিত প্রার্থী রাষ্ট্রের উন্নয়নের বরাদ্দ লুটপাট করে খাচ্ছেনা তো। তথ্য জানার অধিকার আছে সবার!

তাই সামনে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিগত দিনের নির্বাচিত প্রার্থীরা বরাদ্দের টাকায় আপনার এলাকার উন্নয়নের কতটুকু কল্যাণ বয়ে এনেছে হিসেবের অংকটা আপনাকে মেলাতে হবে! জেনে নেওয়া যাক সাধারণত ইউপি উন্নয়নে কোন খাতে কত বরাদ্দ আছে তার একটি সম্ভাব্য তালিকা- দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকার এক ঝাক সংবাদ কর্মীদের গোল টেবিল আলোচনায় উঠে আসে যে বিষয় গুলো।

ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয় সরকারের মজবুত ও শক্তিশালী একটি প্রতিষ্ঠান। সরকারের পাশাপাশি বিশ্ব ব্যাংকও বড় অংকের অনুদান প্রদান করে থাকে। আয়তন লোকসংখ্যা বিবেচনায় বিশ্ব ব্যাংকের এলজি এসপি-৩ এর আওতায় প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি ইউনিয়নে বছরে ২৫ লাখ থেকে আনুপাতিক হারে প্রায় ১ কোটি টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ দিয়ে থাকে।

এই অর্থ বরাদ্দ কোন ঝক্কি-ঝামেলা উপরি দেয়া ছাড়াই সকল দলের নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদে ফান্ডে আসে। এই অর্থ বরাদ্দ থেকে গ্রামীণ রাস্তা উন্নয়নে, কালভার্ট, বাচ্চাদের স্কুল ব্যাগ, বেসরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের জন্য আধুনিক মানের ড্রেসিং, স্বাস্থ্য সম্মত ল্যাট্রিন, এমন আরও অনেক উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা হয় এই টাকাগুলো।

হিসেব করলেও প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে শুধু বিশ্ব ব্যাংক থেকে ৫ বছরে প্রায় দেড় থেকে পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়ে থাকে।

যা দিয়ে অনায়াসে একটা ইউনিয়ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করে গ্রামকে আধুনিক ও সুন্দর করে সাজানো সম্ভব।

এছাড়াও রয়েছে কর্মসৃজন প্রকল্প থেকে ৩৫-৪০ লাখ টাকা। এডিবি থেকে ১২-১৪ লাখ টাকা, কাবিখা ১০-১২ লাখ টাকা এছাড়া বন্যার বাঁধ উন্নয়নে পিআইসি’র টাকা বাদেও আরো অসংখ্য বরাদ্দ আসে ইউনিয়ন পরিষদে।

বিভিন্ন দুর্যোগ, মহামারীতে আসে বিশেষ বরাদ্দ। যা আকারে ক্ষেত্র বিশেষ অনেক মোটা অংকের হয়ে থাকে। কিন্তু টাকাগুলো ব্যয় হয় কোথায় ? একজন ইউপি চেয়ারম্যানের স্বদিচ্ছা আর মানুষের প্রতি ভালবাসা এলাকার প্রতি দায়বদ্ধতা থাকলে তার নিজ ইউনিয়নের ভেতর পাড়া-গাঁয়ে প্রায় সকল কাঁচা-কাঁদা রাস্তা সংস্কার ব্যবস্থাসহ জন দুর্ভোগ লাঘবে ছোট ছোট সকল সমস্যা সমাধান সরকারী ফান্ড থেকে করে দিতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

অথচ চেয়ারম্যানের কাছে জিজ্ঞাসা করলে বলে বরাদ্দ নেই, তাহলে সরকার প্রতি বছর ইউনিয়নে যে টাকাগুলো দেয় সেগুলো কোথায় যায় ? যদিও নামমাত্র কিছু কাজ দেখালেও বাকিটুকু আর খোজ পাওয়া যায় না। কিন্তু বাস্তবতা কি? আমরা কি ইউপি থেকে সেই কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছি ? উত্তর আসবে না । আমরা সরকারকে দোষারোপ করি আসলে সরকার থেকে ইউনিয়ন পরিষদে কি পরিমাণ বরাদ্দ আসে তার খবর কি আমরা নিতে পারছি? আমরা কি আমাদের মনের মতো চেয়ারম্যান জনসেবক বানাতে আদৌ কি সক্ষম হচ্ছি?

ভেবে দেখুন যদি সৎ যোগ্য জনবান্ধব চেয়ারম্যান বানাতে পারতাম তাহলে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি ইউনিয়ন আজ মডেল ইউনিয়নে পরিণত হত। বিষয়টি গ্রামের সকল শিক্ষিত ও সচেতন মানুষকে ভাবতে হবে আসুন আসন্ন ইউপি নির্বাচনে জবাব দিহিতামূলক প্রার্থী নির্বাচন করবো।