ঈদে বাড়ি ফেরা নাড়ির টানে পরিবারের সাথে মিলিত হওয়া

প্রকাশ : রবিবার, জুন ২, ২০১৯ অপরাহ্ণ ৫:১০

শের ই গুলঃ

 

 

(আনন্দ, উচ্ছাসে চোখে ভাসে গ্রামের চেনা পথ, চেনা মুখ, আছে হাজারো ভোগান্তির আদ্যোপ্রান্ত, ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতারক চক্ররা ঐ সক্রিয়, গাড়ির জ্যাম, দূর্ঘটনা সব মাথায় নিয়ে নাড়ির টানে ছুটে চলার আনন্দে প্রিয়জনকে দেখার বাসনায় সব কষ্ট হয়ে যায় ম্লান)

 

 

 

যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং যাতায়াত খাতে টেকসই উন্নয়নের চেষ্টা করে আসছে সরকার শতভাগ সফলতা সময়ের ব্যাপার বটে। ঈদে বাড়ি ফিরতে হবে এই একটি শব্দের টানে, নাড়ির টানে পরিবারের সাথে মিলিত হওয়ার জন্য প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের কর্মক্ষেত্র ছেড়ে পাড়ি জমান। কেউ বাসে, কেউ লঞ্চে, কিংবা ট্রেনে, অনেকে আবার আকাশ পথে। তবে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই রাজধানী ঢাকায় উন্নয়ন হয়েছে আর দশটা শহরের চেয়ে অনেক দ্রুত গতিতে। শিল্পায়নের কেন্দ্র হয়ে ওঠায় সারা দেশ থেকে মানুষ কর্মসংস্থানের জন্য ঢাকা পাড়ি জমিয়েছে। ঈদকে কেন্দ্র করে এই বিপুল সংখ্যক মানুষ একসাথে আবারো প্রান্তিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। কোন উৎসবকে কেন্দ্র করে রাজধানী ছেড়ে বাড়ির দিকে পাড়ি জমানোর এমন ঘটনা বিশে^ প্রায় দূর্লভ। আর বাড়ির দিকে রওয়ানা হওয়া মানুষের সংখ্যাও পিলে চমকে ওঠার মতো।

 

২০১৮ সালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এক হিসেবানুযায়ী প্রায় নব্বই লাখ মানুষ ঈদকে কেন্দ্র করে ঢাকা ছেড়েছে। প্রতি বছর শিক্ষা কর্মসংস্থান কিংবা ভাগ্য বদলের তাড়নায় ঢাকায় আসা মানুষের ¯্রােত যখন একসাথে রাজধানী ছাড়ে তখন সৃষ্টি হয় ভোগান্তির। প্রতিবছর ঈদে বাড়ি ফিরে যাওয়ার যাত্রায় জন্ম নেয় অনেক মানবিক বিপর্য। বিপুল মানুষের চাপ নিতে পারে না আমাদের সড়ক আর মহাসড়কগুলো। মাইলের পর মাইল যানজটে বসেও বাড়ি ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন এই মানুষেরা। লঞ্চ কিংবা ট্রেনে ধারন ক্ষমতার অধিক যাত্রী নিয়ে চলাচল জন্ম দেয় অনেক দূর্ঘটনার। স্বপ্ন এবং জীবন দুটোকেই হাতের মুঠোয় নিয়ে বাড়ি ফিরেন এই সংগ্রামী মানুষেরা। স্বাধীনতার দীর্ঘ বছর পেরিয়ে গেলেও রাজধানী ঢাকার সাথে অনেক জেলা কিংবা বিভাগীয় শহরের যোগাযোগের ব্যবস্থা তেমন উন্নত নয়। সারা বছর টের না পাওয়া গেলেও ঈদের সময় বাড়ি ফিরতে মহাসড়কেই মানুষকে পোহাতে হয় দীর্ঘ যানজট। ফেরি ঘাটগুলোতে ভীড় চোখে পড়ার মতো। ছোট-বড় দূর্ঘটনায় প্রাণ হারায় অনেকেই।

 

 

ঈদ যাত্রা কিংবা এ-সময়ের চাপের কথা মাথায় রেখে সাময়িকভাবে ঠিকঠাক করা হলেও লম্বা দৌড়ে এই রাস্তাগুলোর বেশিরভাগেই টেকশই উন্নয়ন হয়নি। ঈদে ঘরমুখো মানুষের অন্যতম একটি ভোগান্তির কারন সার্জন। এবারের ঈদে যাত্রায় দেশের ১৪টি পয়েন্টে যানজটের আশঙ্কা আছে। বড় ধরনের যানজটের সৃষ্টি হয় মূলত ৪টি এলাকায়। এগুলো হল ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়ক, জয়দেবপুর চৌরাস্তা, যমুনা সেতুর পূর্ব স্টেশন আশুলিয়া। পাশাপাশি ঢাকার ভেতরে ১০টি পয়েন্টে যানজট সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এগুলো হলো আশুলিয়ার জিরাবো বাজার, ফ্যান্সাসি কিংডমের সামনে, বাইপাইল মোড়, চন্দ্রা মোড়, কোণাবাড়ি, কালিয়াকৈর, নবীনগর, কাঁচপুর, ভুলতা ও মেঘনা।

 

বাংলাদেশের সড়কগুলো যেন হয়ে উঠেছে এক একটি মৃত্যু ফাঁদ। প্রতিনিয়ত সড়ক দূর্ঘটনার খবর আমরা পাচ্ছি। যতদিন যাচ্ছে আহত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। বাংলাদেশের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হলো সড়কপথ। আর কদিন পর মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল-ফিতর। মুসলিম প্রধান দেশ বাংলাদেশ। তাই একমাস সিয়াম সাধনার পর ঈদ আসে খুসি আর আনন্দের বার্তা নিয়ে।