Amar Praner Bangladesh

উইন্ডোজ ১১ নতুন অপারেটিং সিস্টেম বাজারে, নতুন যেসব ফিচার থাকছে

 

 

তথ্য প্রযুক্তি ডেস্কঃ

 

উইন্ডোজ ১১

মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ ১১ অপারেটিং সিস্টেম চালু করা হয়েছে মঙ্গলবার। যারা উইন্ডোজ ১০ ব্যবহার করছেন তারা বিনামূল্যে নতুন উইন্ডোজ ১১ অপারেটিং সিস্টেমটিতে আপগ্রেড করতে পারবেন।

উইন্ডোজের প্রধান পণ্য কর্মকর্তা প্যানোস পানে বলেন, নতুন ভার্সনটি ব্যবহারকারীদের জন্য ‘পরিচ্ছন্ন এবং সহজতর’ করে তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রযুক্তি সম্পর্কে সবচেয়ে কম জানা মানুষেরাও সহজে নতুন এই সিস্টেমে আপগ্রেড করতে পারবেন।

তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞ ব্যবহারকারীরা এরই মধ্যে উইন্ডোজ ইনসাইডার ট্রায়াল প্রোগ্রাম ব্যবহার করে নতুন অপারেটিং সিস্টেমটি পরীক্ষা করেছেন এবং এতে কোন সমস্যা তারা পাননি। সিস্টেমটি এখন আপগ্রেডের জন্য সম্পূর্ণ তৈরি বলে জানান তিনি।

নতুন যেসব ফিচার ও যে পরিবর্তন: উইন্ডোজ ১১-এর নকশায় সুনির্দিষ্ট পরিবর্তন আনা হয়েছে। টাস্কবারের একেবারে কেন্দ্রে ডিফল্ট আকারে থাকবে স্টার্ট মেন্যু। পাশাপাশি থাকবে অন্যান্য আইকন।

স্টার্ট বাটনে ক্লিক করলে, এটি বারবার ব্যবহৃত অ্যাপসগুলো সম্বলিত একটি মেন্যু সামনে নিয়ে আসবে। কিছু ক্ষেত্রে এটা স্মার্টফোনের অ্যাপ মেন্যু কিংবা লঞ্চারের মত মনে হতে পারে। উইন্ডোজ ১০-এর স্টার্ট মেন্যুতে যে ‘টাইলস’ রয়েছে, নতুন অপারেটিং সিস্টেম থেকে সেটি বাদ দিয়েছে মাইক্রোসফট।

উইন্ডোজের প্রধান পণ্য কর্মকর্তা প্যানোস পানে বলেন, তারা উইন্ডোজ ৮ থেকে শিক্ষা নিয়েছেন, যেটি থেকে স্টার্ট মেন্যু পুরোপুরি বাদ দেয়া হয়েছিল। এর কারণে বহু ব্যবহারকারী অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন। উইন্ডোজ ১১ তৈরির ক্ষেত্রে মানুষ কীভাবে কম্পিউটার ব্যবহার করে সেই বিষয়টা বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

উইন্ডোজ ১১

পানে ব্যাখ্যা দেন, ‘ব্যবহারকারীরা কোথায় ক্লিক করতে চান, কম্পিউটারের কোন অংশে তাদের নজর থাকে আমাদের গবেষণাগারে সেটা আমরা দেখেছি।’ তিনি বলেন, ‘উইন্ডোজ ১১-এর ক্ষেত্রে স্টার্ট বাটন রয়েছে। এটা স্ক্রিনের একেবারে মাঝখানে রয়েছে। এটাকে বাদ দেয়া হয়নি।’

পুরো সিস্টেমজুড়ে গোলাকার কোনসমৃদ্ধ নকশা করা হয়েছে। এটির মেন্যু এবং ফোল্ডার দেখার ব্যবস্থা সহজ করা হয়েছে। উইন্ডোগুলোকে সাজানো এবং গ্রিডে ভাগ করার অপশনটি নতুন ও আরও উন্নত।

২০০৭ সালের উইন্ডোজ ভিস্তার গুরুত্বপূর্ণ একটি ফিচার উইজেট ফিরিয়ে আনা হয়েছে আবার। তবে তখন উইজেটকে স্ক্রিনে যে কোনো জায়গায় ইচ্ছেমত রাখা যেত, কিন্তু এখন উইজেটগুলো বামপাশের একটি সাইডবারে থাকবে। এগুলো যুক্ত থাকবে মাইক্রোসফট সার্ভিসের সাথে। ইন্টারফেস ও নকশায় পরিবর্তন ছাড়া আরো কিছু পরিবর্তনও আনা হয়েছে উইন্ডোজ ১১-তে।

স্কাইপের স্থান নেয়া মাইক্রোসফট টিমস এবং এক্সবক্স অ্যাপে যে সিস্টেম ইন্টেগ্রেশন করা হয়েছে সেগুলোর ব্যাপক প্রচারণা রয়েছে মাইক্রোসফটের বিজ্ঞাপনে।

অ্যাপ স্টোরের উইন্ডোজ ভার্সন, মাইক্রোসফট স্টোরকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। এখানে এখন থেকে তৃতীয় পক্ষকে তাদের অ্যাপ্লিকেশন বিক্রির সুযোগ দেয়া হবে।

তবে নতুন যে ফিচারটি প্রযুক্তি বিশ্বে ভ্রুকুঞ্চনের কারণ হয়েছে, সেটি হচ্ছে উইন্ডোজ ১১-তে অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের জন্য তৈরি অ্যাপসগুলো চলবে। এটা হবে অ্যামাজন অ্যাপ স্টোরের মাধ্যমে।

প্রথম ব্যবহারকারী যারা তারা বলছেন, নতুন ভার্সনের অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান ব্যবস্থাটি আগের চাইতে দ্রুততর। তবে এটি ওয়েব অনুসন্ধানের ফলাফল প্রদর্শনের ক্ষেত্রে মাইক্রোসফটের নিজস্ব সেবা বিং এবং এজ ব্রাউজারকে অগ্রাধিকার দেয়।

গেমারদের জন্য মাইক্রোসফট প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এটির নতুন ড্রাইভ প্রযুক্তি ডিরেক্ট স্টোরেজ গেম লোডের সময়ের ক্ষেত্রে কিছু সুবিধা দেবে। তবে এ ফিচারের সুবিধা নিতে নতুন হার্ডওয়্যারের প্রয়োজন হবে। ফলে সব কম্পিউটার নতুন এই সুবিধার সুযোগ নিতে পারবে না।

এ সুবিধা নিতে কম্পিউটারে এক ধরণের সিকিউরিটি চিপ থাকতে হবে, যেটাকে বলা হয় টিপিএম। শুধুমাত্র আধুনিক কম্পিউটারগুলোতে এ চিপ যুক্ত করা হয়। মাইক্রোসফট নতুন কিছু হার্ডওয়্যারও উন্মুক্ত করেছে সম্প্রতি, যেগুলো উইন্ডোজের নতুন এ ভার্সনের সাথে সম্পর্কিত।

কিন্তু যেসব ব্যবহারকারী উইন্ডোজ ১০ ব্যবহার করছেন তাদের কম্পিউটার সচল থাকলে নতুন এ হার্ডওয়্যারগুলোর জন্য খরচ করতে হবে না। উইন্ডোজ ১০ই অক্টোবর ২০২৫ সাল পর্যন্ত নিরাপত্তা আপডেট ও সাপোর্ট পেতে থাকবে।

উইন্ডোজ ১১: উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

উইন্ডোজ এনটি অপারেটিং সিস্টেমের একটি সংস্করণ

উইন্ডোজ ১১-এর মুক্তির আগের স্ক্রিনশট, নতুন স্টার্ট মেনু এবং মাঝের টাস্কবার দেখাচ্ছে

ডেভলপার মাইক্রোসফট

প্রোগ্রামিং ভাষা
সি, সি++, সি#, অ্যাসেম্বলি ভাষা
ওএস পরিবার মাইক্রোসফট উইন্ডোজ
সোর্স মডেল
ক্লোজড সোর্স
সোর্স-এভেইলএবল (শেয়ার্ড সোর্স ইনিশিয়েটিভ প্রকল্পের মাধ্যমে)

উইন্ডোজ ১১ ২৪ জুন ২০২১-এ ঘোষিত উইন্ডোজ এনটি অপারেটিং সিস্টেমের একটা উল্লেখযোগ্য সংস্করণ। ধারণা করা হচ্ছে, জনসাধারণের জন্য এটি ২০২১-এর শেষের দিকে মুক্তি পাবে, এবং উইন্ডোজ ১০ ব্যবহারকারীরা উইন্ডোজ ১০ আপডেট ফিচার ব্যবহার করে এটি বিনামূল্যে হালনাগাদ করতে পারবে।

পরিচ্ছেদসমূহ

১ উন্নয়ন
১.১ ঘোষণা
১.২ মু্ক্তি
২ বৈশিষ্ট্যসমূহ
৩ সিস্টেম রিকোয়ারমেন্ট
৪ গ্রহণযোগ্যতা
৪.১ মুক্তির পূর্বে
৫ তথ্যসূত্র
৬ আরও দেখুন

উন্নয়ন

২০১৫ সালের ইগনাইট কনফারেন্সে মাইক্রোসফটের জেরি নিক্সন জানান, উইন্ডোজ ১০-ই হবে ‘উইন্ডোজেরে শেষ সংস্করণ’, যেটা পরে মাইক্রোসফটও নিশ্চিত করে। অপারেটিং সিস্টেমটিকে একটা সার্ভিস হিশেবে ধরা হচ্ছিলো, যেটার ধীরে ধীরে নতুন বিল্ড ও আপডেট মুক্তি দেয়া হবে। তবে জানুয়ারি ২০২১ সালে মাইক্রোসফট তাদের একটা জব লিস্টিঙে “উইন্ডোজ এর দৃষ্টিনন্দন পুনর্নির্মাণের ধারায়” বাক্যাংশটি যুক্ত করার পর, নতুন একটা উইন্ডোজ সংস্করণ অথবা একটা উল্লেখযোগ্য রিডাইজন নিয়ে জল্পনা কল্পনা শুরু হয়। নতুনভাবে উইন্ডোজের ভিজুয়াল পরিবর্তনটি ”সান ভ্যালি” কোডনামে উন্নয়ন করা হচ্ছিলো।

জুন ২০২১ সালে মাইক্রোসফট সাপোর্ট ডকুমেন্টে ভুল করে উইন্ডোজ ১১ নামটি প্রকাশ হয়ে যায়। ১৫ জুন ২০২১ সাল থেকে ফাঁস হওয়া উইন্ডোজ ১১-এর বেটা বিল্ডের ছবি অনলাইনে ঘুরছিলো, এবং একই দিনে একটা ডেভেলপার চ্যানেলের বিল্ডও অনলাইনে প্রকাশ হয়ে পড়ে। নতুন এ ছবিগুলো আর ফাঁস হওয়া বিল্ড থেকে দেখা যায়, এর সাথে মাইক্রোসফটের রহিত করা উইন্ডোজ ১০এক্সের বেশ সাদৃশ্য রয়েছে। তবে নতুন আউট-অব-বক্স এক্সপেরিয়েন্ট আর নতুন উইন্ডোজ ১১ ব্র্যান্ডিংও সবার নজর কাড়ে।

ঘোষণা

মাইক্রোসফট বিল্ড ২০২১ ডেভেলপার কনফারেন্সে, সিইও ও চেয়ারম্যান সত্য নাদেলা তার কিনোট স্পিচে নতুন প্রজন্মের উইন্ডোজের ব্যাপারে ইঙ্গিত দেন। তার ভাষ্যমতে তার নিজের ব্যক্তিগত কম্পিউটারে তিনি এটি বেশ কয়েক মাস যাবৎ ব্যবহার করছে। নাদেলা একই সাথে প্রাতিষ্ঠানিক ঘোষণাও যে শিঘ্রই আসছে তারও ইঙ্গিত দেন। নাদেলার এ কিনোটের এক সপ্তাহ পরেই, মাইক্রোসফট ২৪ জুন ২০২১ স্বকীয় একটা উইন্ডোজ মিডিয়া ইভেন্টের বিষয়ে সবাইকে ইনভাইট করা শুরু করে। মাইক্রোসফট ১০ জুন উইন্ডোজের স্টার্টাপ শব্দের ১১ মিনিটের একটা ভিডিও পোস্ট করে, যেখান থেকে অনেকেই ধারণা করে নতুন উইন্ডোজ সংস্করণটি হবে উইন্ডোজ ১১।

২৪ জুন ২০২১, মাইক্রোসফটের চিফ প্রোডাক্ট অফিসার পানোস প্যানের উপস্থাপনায় একটা ভার্চুয়াল ইভেন্টে উইন্ডোজ ১১ এর ঘোষণা দেওয়া হয়। নাদেলার মতে, উইন্ডোজ ১১ ‘অপারেটিং সিস্টেমকে নতুন চোখে দেখা’। এখানে এছাড়াও নতুন মাইক্রোসফট স্টোর, উইন্ডোজ এপ এসডিকে, আর ফ্লুয়েন্ট ডিজাইন নিয়েও কথা বলা হয় ।

মু্ক্তি

২৪ জুনের মিডিয়া ইভেন্টে, মাইক্রোসফট জানায় ২০২১-এর শেষের দিকে উইন্ডোজ ১১ সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত হবে, যদিও কোন নির্দিষ্ট তারিখের কথা তারা উল্লেখ করেনি। তবে ডেভেলপার ইন্সাইডার প্রিভিউ ইন্সাইডার ব্যবহারকারীদের কাছে ২৮ জুন ২০২১ এ আসা শুরু হয়।

বৈশিষ্ট্যসমূহ

২০১৫ সালের উইন্ডোজ ১০-এর পর উইন্ডোজ ১১-ই উইন্ডোজের প্রথম বড় মুক্তি এবং এটাতে মাইক্রোসফট তাদের নতুন ফ্লুয়েন্ট ডিজাইন গাইডলাইনের উপর ভিত্তি করে এর ইউজার ইন্টারফেস হালনাগাদ করেছে। তারা এ রিডিজাইনে ব্যবহারের সহজীয়তা, এবং নমনীয়তার সাথে , নতুন প্রমোদ ও সামাজিক সুবিধা, নিরাপত্তায় নতুন হালনাগাদ নিয়ে এসেছে। একই সাথে এটি উইন্ডোজ ১০-এর কিছু সীমাবদ্ধতারও সমাধান করেছে।

মাইক্রোসফট স্টোর, যেটা মাইক্রোসফটের সমস্ত এপ ও অন্যান্য কন্টেন্টের জন্য সমন্বিত স্টোর হিশেবে কাজ করছে, এটাও উইন্ডোজ ১১তে রিডিজাইন করা হয়েছে। এখন মাইক্রোসফট ডেভেলপারদের উইন৩২, প্রোগ্রেসিভ ওয়েব অ্যাপলিকেশন এবং অন্যান্য প্যাকেজিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা অ্যাপকেও প্রকাশের সুযোগ দিচ্ছে, যেটা আগে শুধু ইউনিভার্সাল উইন্ডোজ প্ল্যাটফর্ম অ্যাপলিকেশনে সীমাবদ্ধ ছিলো।