Amar Praner Bangladesh

উত্তরায় চাঁদাবাজ শফিকের দৌরাত্ম্যে প্রশাসন থাকে নিশ্চুপ

 

নার্গিস আক্তার :

 

উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখল করে নিয়মিত প্রায় দেড় হাজার অবৈধ দোকান বসে। এতে সৃষ্টি হয় যানজটের। চলাচলে ভোগান্তিতে পড়তে হয় পথচারী ও সাধারণ মানুষকে। উত্তরার বাসিন্দারা বলছেন, পুলিশ নিয়মিত তদারক না করার কারণেই ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা ফুটপাত-রাস্তা দখল করার সাহস পাচ্ছেন। অভিযোগ আছে, পুলিশের অনেক সদস্যই ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা পান। আর এই চাঁদা উত্তোলনের দায়িত্ব পালন করে শফিক ও তার সৃষ্ঠ কিশোর গ্যাং। চাঁদাবাজ শফিক তার প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে উঠতি বয়সের তরুণ যুবকদের নিয়ে তৈরি করেছে কিশোর গ্যাং।

এসব গ্যাংয়ের ছেলেরা ফুটপাতের অবৈধ দোকানের আশেপাশে অলি-গলিতে ঘুরে বেড়ায়। কোন ফুটপাতের দোকানদার চাঁদা দিতে অপরগতা প্রকাশ করলে শফিক প্রকাশ্যে দোকান ও দোকানের মালিককে মারধর করে এমনকি লাথি মেরে দোকান ভেঙ্গে দেয়। প্রয়োজনে তার কিশোর গ্যাং বাহিনী মটরসাইকেল এবং অন্যান্যভাবে শোডাউন দিয়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয় তারা। এমনকি ভুক্তভোগী কিছু দোকানদাররা জানান, পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের নাকের ডগায় এসব চাঁদাবাজি চললেও তারা অজানা রহস্যে থাকে নিশ্চুপ। তাই তাঁরা এসব অবৈধ দোকান উচ্ছেদের ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেন না।

ফুটপাতে বসা ব্যবসায়ীরা জানান, ব্যবসা করতে দৈনিক তাঁদের ১০০-২০০ টাকা চাঁদা দিতে হয়। প্রতিদিন এই চাঁদা তোলার দায়িত্বে আছেন বেশ কয়েকজন লাইনম্যান। আর চাঁদা আদায় শেষে লাইনম্যানরা রাজউক কমার্শিয়াল কমপ্লেক্সের পেছনে জড়ো হয়ে আদায় করা টাকার হিসাব করেন। প্রতিদিন দেড় থেকে পৌনে দুই লাখ টাকা ওঠে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, চাঁদা দিতে না চাইলে ব্যবসা বন্ধ করে দোকানের মালামাল রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়। টহল পুলিশ এসে থানায় কিংবা ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে যায়।

এই ভয়েই তাঁরা সবাই চাঁদা দেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিয়মিত বসে এমন দোকানের সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার। বেশির ভাগ দোকান ভ্যানগাড়ির। এ ছাড়া কাঠের চৌকি এবং বাঁশ-টিনের তৈরি টং দোকানও অনেক। উত্তরার ওই দুই থানা এলাকার ফুটপাত ও রাস্তাঘাট নিয়মিত দখলমুক্ত রাখার দায়িত্ব আজমপুর পুলিশ ফাঁড়ির। উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় ফুটপাত ও সড়ক দখল করে নিয়মিত বসা দোকানের সংখ্যা বেশি। উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় এমন দোকানের সংখ্যা প্রায় এক হাজার।

প্রশাসনের দাবী ফুটপাত ও সড়ক দখল করে বসা ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আমরা নিয়মিত অভিযান করছি। যাঁরা এভাবে ব্যবসা করেন, তাঁদের আইনের আওতায় এনে মামলাও দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ নিয়মিতই অবৈধ দোকানের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান চালায়। চাঁদাবাজ শফিকের হুশিয়ারী বর্তমান সময়ে উত্তরাজুড়ে যত ফুটপাতের দোকান আছে সব আমি একক ভাবে আমি নিয়ন্ত্রণ করছি এবং প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাদের আমি নিয়মিত খুশি করছি। আমার কাজ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কিশোর হোন্ডা বাহিনী সহ একাধিক কর্মী আছে।

আমরা সামাজিক কাজও করি কিন্তু সেগুলো আপনারা চোখে দেখেন না। বর্তমান সরকারের দলে আছি, আমার উপরেও আছে বড় ভাইরা। আমার কিছু করবেন, আমাকে নিয়ে কিছু লিখবেন, লেখেন কিচ্ছু আসে যায়না। চাঁদাবাজি করছি, চাঁদাবাজি করবো, পুলিশ জানে, পুলিশকেও ভাগ দেই।

নর্থ টাওয়ারের মতো জমজমাট জায়গায় রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে ফুটপাতে জমে উঠেছে শফিকের চাঁদাবাজি। বেশিরভাগ ভুক্তভোগী দোকানদারদের দাবী চাঁদাবাজ শফিককে গ্রেফতার না করলে তার তৈরি নব্য কিশোর গ্যাং হয়ে উঠতে পারে ভয়ংকর কিশোর গ্যাং।