Amar Praner Bangladesh

উত্তরায় ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে রাসেল ও সোমা চালিয়ে যাচ্ছে রমরমা দেহ ব্যবসা

 

রবিউল আলম রাজু :

 

ঢাকা মহানগরীর নিরিবিলি পরিবেশ ও আধুনিক এলাকা উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ৪ নাম্বার রোডের ২০ নাম্বার হাউসে দ্বিতীয় তলায় রাসেল ও সোমা স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে সুন্দরী মেয়ে রেখে ব্যাপক ভাবে চলাচ্ছে দেহ ব্যবসা। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রাসেলের ফ্ল্যাটে সাংবাদিকরা উপস্থিত হলে রাসেলের স্ত্রী সোমা জানান, তার বাসায় মাঝে মাঝে দু একটা ভি আই পি কাস্টমার আসে।রাসেলের স্ত্রী সোমা আরও জানান তার ছেলের পড়াশুনার খরচ চালাতে না পারায় এসব দেহ ব্যবসা কাজের সাথে লিপ্ত হয়েছেন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান হওয়ায় রাসেল উত্তরায় বিভিন্ন সেক্টরে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে জমজমাট দেহ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। অনেক ফ্ল্যাট সাবলেট নিয়েও দেহ ব্যবসা চলাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে রাসেল এর বিরুদ্ধে তারা দীর্ঘ এক যুগ ধরে এ দেহ ব্যবসার সাথে জড়িত। জানা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে রাসেল ও তার স্ত্রী বিভন্ন জায়গায় ভুয়া নাম পরিচয় দিয়ে বাসা ভাড়া করে থাকে। স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে বাসা ভাড়া করলেও আসলে স্বামীর পরিচয় দানকারী ব্যক্তিটি রাসেল থাকে দালাল। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় তারা উভয়েই চাকরির কথা বলে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে।

এদের পোশাক-পরিচ্ছদে এবং আচার-আচরণে বোঝার উপায় নেই যে এরা দেহ ব্যবসার সাথে জড়িত। ভদ্র শিক্ষিত মহিলার লেবাসে ঘুরে বেড়ায়। এমনকি আশেপাশের বাসিন্দারাও সহজে এদের অপকীর্তি বুঝতে পারে না। খদ্দেররা যখন বাসায় যাতায়াত করে তখন আত্মীয়ের পরিচয় দিয়ে দেহ ব্যবসায়ী রাসেল এর বাসায় নির্বিঘ্নে যাতায়াত করে। হাতে থাকে মিষ্টি কিংবা ফলের প্যাকেট। দেখে মনে হবে কেউ বেড়াতে এসেছে। খদ্দেররা কখনোই একসাথে আসে না, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে তাদের আসার সময় জানানো হয়। একজন চলে গেলে অন্য একজন আসে।

এসব ফ্ল্যাটে রাখা হয় সুন্দরী নারীদের। উওরার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রী ও অনেক গৃহবধূরাও রাসেলের চক্রের খপ্পরে পড়ে এ পেশায় জড়িয়ে পড়েছে। রাসেল এর এ সব দেহ ব্যবসা ব্যাপারে এলাকার কেউ জেনে ফেললে কিংবা পরিচয় ফাঁস হওয়ার উপক্রম হলে রাসেল বাসা পাল্টিয়ে ফেলে। তবে তারা কখনোই এক বছরের বেশি কোনো এলাকায় ভাড়া থাকে না। এসব মক্ষীরাণীরা যখন যে এলাকায় ফ্ল্যাট ভাড়া নেয় সে এলাকার উঠতি সন্ত্রাসীদের হাত করে নেয়। আবার খদ্দের ধরার জন্য এদের রয়েছে একাধিক দালাল।

অভিযোগ রয়েছে, দেহ ব্যবসায়ীদের সহযোগী সন্ত্রাসীরা অনেক ক্ষেত্রে বিত্তবান কিংবা সমাজে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদেরকে পতিতাদের সাথে উলঙ্গ ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করে থাকে। সামাজিক মান ইজ্জতের ভয়ে ওই ব্যক্তিরা সন্ত্রাসীদের চাহিদা মোতাবেক মোটা অংকের টাকা প্রদান করতে বাধ্য হয়।