উত্তরায় হাইব্রিড নেতাদের দাপটে দলের প্রকৃত নেতারা কোন ঠাসা হয়ে পড়েছে

প্রকাশ : শুক্রবার, জুন ১৪, ২০১৯ অপরাহ্ণ ১:০৭

 

ইমরান হোসাইন:

 

 

রাজধানীর উত্তরায় হাইব্রিড নামধারী নেতারা আওয়ামী লীগে জড়িয়ে পড়েছে। এসব হাইব্রিড নেতাদের দাপটে দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতা থেকে শুরু করে দলের প্রকৃত ও সিনিয়র নেতারা তাদের কাছে মূল্যায়িত না হয়ে তার পরিবর্তে অনেকটা কোন ঠাসা হয়ে পড়েছে। এক্ষেত্রে ঢাকা-১৮ আসনের আওয়ামী লীগ সহ তার সহযোগী অংগ সংগঠনের নেতা ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা প্রতিকার চেয়ে দলের সভানেত্রী জাতির জনকের সুযোগ্য কণ্যা বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার দলের শীর্ষ সিনিয়র নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। খবর সংশ্লিষ্ট দলীয় একাধিক বিশ্বস্থ তথ্য সুত্রের।

 

এদিকে, জাতির জনকের সুযোগ্য কণ্যা বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ঢাকা-১৮ নির্বাচনী এলাকায় হাইব্র্রড টাউট-বাটপাররা আওয়ামী লীগে জড়িয়ে পড়েছে। তাদেরকে বিভিন্ন জনসভা, কর্মীসভা সহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় ঢাকা মহানগর ও স্থানীয় থানা পর্যায়ের দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে প্রথম সারিতে চেয়ারে বসতে দেখা যায়। ওই সব হাউব্রিড নেতারা (ওরা) এখন নিজেদের গা বাঁচাতে আওয়ামী লীগের ওপর ভর করেছে। একদিন ওরাই দলে ঢুকে আওয়ামী লীগের বড় ধরনের ক্ষতি করে সুবিধা নিয়ে কৌশলে চলে যাবে বলে মনে করছে দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক,সচেতনমহল ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গরা। বিষয়টি নিয়ে এখনই গুরুত্ব সহকারে ভেবে দেখা এবং এ বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব সহকারে নজর দেওয়া একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তা না হলে আগামীতে ওই সকল হাইব্রিড টাউট বাটপার লোকদের ধারাই আওয়ামীলীগের বড় ধরনের ক্ষতি হবার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

এ ব্যাপারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কণ্যা বর্তমান সফল প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা ও দলের শীর্ষ সিনিয়র নেতাদের সু-দৃষ্টি কামনা করছে দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ,সচেতনমহল ও সংশ্লিষ্টরা। আওয়ামী লীগের মাঠ পর্যায়ের ত্যাগী ও তৃণমূল নেতারা মনে করছেন- আওয়ামী লীগকে আগামী দিনে শক্তিশালী করতে থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট পর্যায়ের কমিটি গুলোকে এখন থেকে সক্রিয় করে গড়ে তুলতে হবে। এখানে যারা প্রকৃত আওয়ামী লীগ করে, দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে আছে, যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ^াসী তাদেরকে নিয়ে কমিটি করতে হবে। হাইব্রিড টাউট-বাটপাররা আওয়ামী লীগে দলে ভেড়াবেন না, কারণ ওরা সুবিধা নিয়ে চলে যাবে। তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা মনে করেন, যেসব টাউট-বাটপাররা আমাদের দলে ভিড়ে অর্থের বিনিময়ে চাকরি দিয়েছেন, দালালি করে বিএনপি-জামায়াত পরিবারকে চাকরিসহ অন্যান্য সুবিধা দিয়েছেন এদেরকে দূর করতে হবে। যারা দলের সাথে বেঈমানি আর বিশ্বাসঘাতকতা করেছে তাদেরকে দল থেকে বিতাড়িত করতে হবে। ওরাই ভাইরাস, ওরাই ক্ষতিকর, ওরাই সুবিধাবাদী, তাদের দলে কোন জায়গা নেই।

 

 

বৃহত্তর ঢাকা-১৮ আসনের আওয়ামী লীগের একটি সুত্র জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিগত প্রায় ৪ থেকে ৫ মাস ধরে ঢাকা-১৮ নির্বাচনী এলাকায় হাইব্রিড নেতাদের উৎপাত, আনাগোনাসহ টাউট পাটপাররা আওয়ামী লীগে জড়িয়ে পড়েছে। যারা আওয়ামী লীগের কর্মী নন, যারা কোন দিন আওয়ামী লীগ করেনি তারাই এখন দলে প্রবেশ করেছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের অন্যতম সদস্য,সাবেকমন্ত্রী ও ঢাকা-১৮ সংসদ সদস্য এডভোকেট সাহারা খাতুন (এমপি) অনুষ্ঠানে যে সব হাইব্রিড নেতাদের উপস্থিতি চোখে পড়ে। অনুষ্টানের প্রথম সারিতে তাদেরকে চেয়ারে বসতে ও ফুল দিয়ে নেতাদের সাথে ছবি তুলতে দেখা যায়।

 

এ নিয়ে সম্প্রতি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড নব নির্বাচিত কাউন্সিলর আলহাজ্ব মো: নাছির উদ্দিনের রানাভোলা অফিস শুভ উদ্বোধনী মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠানে তুরাগ থানা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্থানীয় সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন (এমপি) কাছে হাউব্রিড টাউট বাটপার নেতাদের বিষয়ে এই অভিযোগ করেন। তুরাগ থানা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচছাসেবকলীগের একটি সূত্র জানায়, ঢাকা-১৮ আসনের মধ্যে হরিরামপুর ইউপি তথা ডিএনসিসি’র অর্ন্তভূক্ত নবগঠিত ৩টি ওয়ার্ড ৫২, ৫৩ ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত তুরাগ থানা এলাকাটি। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ডিএনসিসি নির্বাচনের পর থেকে মূল দল আওয়ামী লীগ সহ সহযোগী অংগ সংগঠনের হাইব্রিড, বিএনপি সহ তার সহযোগী সংগঠন থেকে কতিপয় টাউট বাটপার নেতারা সুযোগ নিয়ে কৌশলে আওয়ামী লীগের পকেট কমিটিতে জায়গা পেয়েছে। এক সময় এসব হাইব্রিড নেতারা বিরোধী দলে থেকে আন্দোলন সংগ্রাম সহ ধানের শীর্ষের ব্যানার,ফেস্টুন লিখে নিজ নিজ দলের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেছি। তারাই এখন নব্য আওয়ামী লীগ সেজেছে। ওই সব হাউব্রিড নেতারা (ওরা) এখন নিজেদের গা বাঁচাতে আওয়ামী লীগের ওপর বর করেছে। একদিন ওরাই দলে ঢুকে আওয়ামী লীগের বড় ধরনের ক্ষতি করে সুবিধা নিয়ে কৌশলে কেটে পড়বে।

 

 

সুত্র আরও জানান, বিশেষ করে তুরাগের ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড চন্ডালভোগ ও ডিয়াবাড়ি পুকুরপাড় এলাকার তুরাগ থানা কৃষকলীগের একনেতা সহ বিএনপি সমর্থিত আরও কিছু নেতা আওয়ামী লীগের ব্যানারে ঢুকে পড়েছে। এছাড়া ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের বেশ কিছু নেতাকর্মী আওয়ামী লীগের কমিটিতে স্থান পেয়েছে। প্রায় তাদেরকে আওয়ামী লীগের মিটির মিছিলে,সমাবেশে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে দেখা যাচেছ। ডিএনসিসি নির্বাচনের আগেও তুরাগ থানা ও ঢাকা মহানগরের বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল সহ সহযোগী অংগ সংগঠনের অনেক নেতারা ৫১, ৫২, ৫৩ ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডস্থ সরকার দলীয় নেতা ও হেভিওয়েট নৌকার প্রার্থীর পক্ষে গনসংযোগ, পথসভা এবং মিটিং মিছিলে সরাসরি অংশ গ্রহন করেছেন। তারাই এখন অত্যন্ত সুকৌশলে হাইব্রিড হয়ে আওয়ামী লীগের কমিটিতে জায়গা করে নিয়েছেন।

 

এসব হাইব্রিড ও টাউট বাটপার নেতাদেরকে নিয়ে তুরাগ থানা আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের বিরোধ মতানৈক্য ও মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি রানাভোলা ডিএনসিসির ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিস উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দলের একাধিক সিনিয়র নেতারা স্থানীয় এমপি এডভোকেট সাহারা খাতুনের দৃষ্টি আকর্ষন করে বক্তব্য রাখেন।

 

তুরাগ থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক ছাত্রনেতা মো: নুরুল ইসলাম মোল্লা সুরুজ বলেন,বর্তমান সময়ে ঢাকা-১৮ নির্বাচনী এলাকায় হাইব্রিড নেতারা দলের জন্য অধিক ক্ষতিকর। তাদেরকে বিতাড়িত করতে হলে সবাইকে একত্রিত হতে হবে। তিনি আরও বলেন, ২০০৮ সালের আগে যারা আওয়ামী লীগের সাথে জড়িত ছিল,যারা দলের কর্মী হলে নিষ্ঠার সাথে মাঠ পর্যায়ে কাজ করেছেন তাদেরকে মূল্যায়ন করতে হবে। হাইব্রিড ও টাউটদেরকে আওয়ামী লীগে জায়গা নেই।

 

তুরাগ থানা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সভাপতি ও ডিএনসিসি ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বীরমুক্তিযোদ্বা আলহাজ মো: নাছির উদ্দিন বলেন, হাইব্রিড লোকদেরকে দলে নিলে আগামীতে দলের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে এমন লোক ও নেতাদেরকে আমরা দলে সম্পৃক্ত করবো না। তাদের বিরুদ্ধে আমরা দলীয় ভাবে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

 

তুরাগ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমডি হালিম বলেন, তুরাগ থানা আওয়ামী লীগে কোন হাইব্রিড নেতার জায়গা হবেনা। হাইব্রিড ও টাউট বাটপারদেরকে আমরা অচিরেই চিহ্নিত করে তাদেরকে বিতাড়িত করবো। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। তুরাগ থানা আওয়ামী যুবলীগের আহবায়ক বাবু নিত্যচন্দ্র ষোঘ বলেন, আগামীতে তুরাগ থানা যুবলীগে কোন টাউট বাটপার ও হাইব্রিডদের স্থান হবে না। যাচাই বাচাই করে তাদেরকে দলে সম্পৃক্ত করা হবে। তৃণমূল পর্যায়ের যারা পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতারাই আগামী দিনে দলে জায়গা পাবেন।

 

উত্তরখান থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডিএনসিসির ৪৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: জয়নাল আবেদীন বলেন, আগামীতে উত্তরখান থানা আওয়ামী লীগে কোন টাউট বাটপার ও হাইব্রিডদের স্থান হবে না। যাচাই বাচাই করে তাদেরকে দলে সম্পৃক্ত করা হবে। তৃণমূল পর্যায়ের যারা পরীক্ষিত নেতারাই আগামী দিনে দলে জায়গা পাবেন। এতে কোন সন্দেহ নেই।

 

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো: হাবিব হাসান বলেন, হাইব্রিড নেতারা এখন আওয়ামী লীগের ওপর বর করতে শুরু করেছে। তাদের মধ্যে অনেকে দলের ভেতরে ও বাহিরে যুক্ত হয়েছে। হাইব্রিডও টাউট বাটপার লোকদেরকে আমরা দলে স্থান দিবোনা। তাহলে আগামীতে দলের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। তিনি আরও বলেন, হাইব্রিড নেতাদেরকে আমরা দলে আর সম্পৃক্ত করবো না। তাদেরকে আমরা চিহ্নিত করবো। তাদের বিরুদ্বে আমরা দলীয় ভাবে ব্যবস্থা গ্রহন করবো। আলহাজ্ব মো: হাবিব হাসান বলেন, বিগত দিনে যারা দলের জন্য শ্রম দিয়েছে,যারা দলের পরীক্ষিত নেতা, যারা তৃনমূল পর্যায়ে দলের জন্য রাত দিন পরিশ্রম করে যাচেছন।

 

 

তাদেরকে দলে নতুন করে সংযুক্ত করা হবে। তাহলে দল আগামী দিনে আরও শক্তিশালী ও বেগমান হবে। আওয়ামী লীগের দলে সম্প্রতি সময়ে সম্পৃক্ত হওয়া এসব হাইব্রিড নেতাদের এ বিষয়টি নজরে আনার জন্য দলের তৃণমুল পর্যায়ের নেতারা জাতির জনকের সুযোগ্য কণ্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা,দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সহ দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সহ শীর্ষ নেতাদের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অংগ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।