উদ্বোধনের আগেই দেবে যাচ্ছে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দু’পাশ!

মোঃ দুলাল হোসেন চকদার:

ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু ৭০ কিলোমিটার চার লেন মহাসড়কটি উদ্বোধনের আগেই কিছু কিছু এলাকায় দেবে যেতে শুরু করেছে। আবার কোথাও কোথাও সড়কের মাঝখানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এতে এ মহাসড়কে চলাচল করা বিভিন্ন যানবাহনের চালক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

 

টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা মহাসড়কটি চার লেনে নির্মাণ করছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতর। ৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের প্রতি কিলোমিটারের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৮ কোটি টাকারও বেশি। চার লেনের মহাসড়কটি ২০২০ সালের জুনের মধ্যে উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে।

 

শুক্রবার (১২ জুলাই) দুপুরে সরেজমিন মহাসড়কে গিয়ে দেখা যায়, কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের পর থেকে ঢাকার দিকে (ডান পাশে) প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক দেবে গেছে। এছাড়া সদর উপজেলার রসুলপুর সিএনজি পাম্পের সামনে কোথাও কোথাও গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। আবার উত্তরবঙ্গের দিকে (ডান পাশে) এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড পযন্ত চার লেনের মহাসড়ক দেবে গেছে। এর মধ্যে কোথাও একটু বেশি আবার কোথাও একটু কম।

 

এদিকে দেবে যাওয়া কয়েকটি স্থানে নতুন করে কার্পেটিং করে মেরামতও করা হয়েছে। তার চিহ্ন এখনও রয়ে গেছে।

 

সড়ক দেবে যাওয়ার এ সমস্যাকে প্রকৌশলীদের ভাষায় ‘রাটিং’ বলা হয়। সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় সড়ক গবেষণাগারের প্রকৌশলীরা বলছেন, পিচের জন্য পাথর-বিটুমিনের যে মিশ্রণ তৈরি করা হয়, সেটি ঠিকমতো না হলে রাটিং বা সড়ক দেবে যেতে পারে। সড়ক দেবে যাওয়ার আরেকটি কারণ যানবাহনের ‘ওভারলোড’। এর বাইরে দুর্বল নকশা বা দুর্বল নির্মাণকাজের কারণেও সড়ক দেবে যেতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

]

এছাড়া মাটির ধাপগুলোতে ঠিকমতো রোলিংয়ের কাজ না করা হলেও ‘রাটিং’ দেখা দিতে পারে বলে প্রকৌশলীরা জানান।

 

ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী নাবিল পরিবহনের চালক আব্দুল মোতালেব বলেন, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে এক পাশে দেবে যাচ্ছে। নিম্নমানের কাজের কারণেই দেবে যাচ্ছে।

 

উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী বিনিময় পরিবহনের চালক মিন্টু মিয়া বলেন, উদ্বোধনের আগেই মহাসড়ক এক পাশে দেবে যাওয়া খুবই দুঃখজনক। ঠিকমতো ভিটুমিন দিয়ে কাজ করলে হয়তো মহাসড়কটি আরও ভালো হতো। অল্পদিনেই এভাবে দেবে যাবে এটি ধারণাই করা যায় না।

 

এ মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্পটি ২০১৩ সালে একনেক সভায় অনুমোদিত হয়ে কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালে। চার প্যাকেজে কাজ হচ্ছে। এর মধ্যে প্যাকেজ-৪ নম্বর পড়েছে এলেঙ্গা-টাঙ্গাইলের ১০ কিলোমিটার। দক্ষিণ কোরিয়ার জিডিসিএলের এ অংশের নির্মাণকাজ করছে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডিয়েনকো লিমিটেড। কাজের চুক্তিমূল্য ৩৫৬ কোটি টাকা।

 

দ্বিতীয় প্যাকেজে টাঙ্গাইল থেকে কালিয়াকৈর বাইপাস ইন্টারসেকশন পর্যন্ত আরও ১৯ কিলোমিটার নির্মাণ করছে বাংলাদেশের আব্দুল মোমেন লিমিটেড ও মালয়েশিয়ার এইচসিএম ইঞ্জিনিয়ারিং। তৃতীয় প্যাকেজে দুল্লামারী রোড থেকে টাঙ্গাইল পযন্ত ২২ দশমিক ৪০ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নয়ন করছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামহোয়ান ও বাংলাদেশের মীর আখতার।

 

চার লেন প্রকল্পের ব্যবস্থাপক অমিত দেবনাথ বলেন, মহাসড়কে যেসব স্থানে দেবে গেছে সে জায়গাগুলো থেকে কার্পেটিং উঠিয়ে আবার নতুন করে কাজ করা হবে। আর মহাড়কে কোনো নিম্নমানের কাজ হয়নি। দেবে যাওয়াটা ওভারলোডেড গাড়ি এবং গাড়িগুলো একপাশ দিয়ে চলাচলের কারণেই হয়েছে।