সিরাজুল ইসলাম, অভয়নগর সংবাদদাতাঃ খুলনা বিভাগের বোরো মৌসুমে ৬৫ উপজেলায় হাইব্রিড বীজ ধানের সংকট দেখা দিয়েছে। এ সুযোগে বিভিন্ন কোম্পানী বীজ ধানের মূল্য ব্যাপকহারে বাড়িয়ে দিয়েছে। এ সকল কোম্পানীর ডিলাররা আঞ্চলিক পর্যায়ে ধান সরবরাহ করতে হিমশিম খাচ্ছে। হাইব্রিড ধান না থাকায় দেশী নিন্ম মানের বীজ হাইব্রীড ধানের প্যাকেটে ভরে বেশী মূল্যে বিক্রি করছে, যার ফলে ধানের জার্মিশন না থাকায় প্রতারণার শিকার হচ্ছে কৃষকরা। এ বছরে বীজ ধান সরবরাহ করছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কোম্পানী এসিআই, ব্যবিলন, সুপ্রিম, অটোপ্রুফ কেয়ার, গ্যাটকো, ইস্পাহানী, ব্রাক ইত্যাদি। এ কোম্পানীগুলো হাইব্রীড বীজ ধান কম আমদানী করার কারণে কৃষকরা পর্যাপ্ত পরিমাণে বীজ ধান পাচ্ছে না। যে সকল কোম্পানী অল্প কিছু হাইব্রীড ধানের বীজ আছে ডিলাররা ব্যাপকহারে তার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। হাইব্রীড জাতীয় হীরা ধানের বীজের দাম সবচেয়ে বেশী বৃদ্ধি করেছে। ব্রী-২৮ হাইব্রীড ভিত্তি বীজ ধানের প্যাকেটে নি¤œ মানের বীজ ভরে হাইব্রীড ধানের দামে বিক্রি করছে। বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায় যশোর, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও চুয়াডাঙ্গার কৃষকরা তাদের প্রয়োজন মত হাইব্রীড বীজ ধান সংগ্রহ করতে পারেনি, যার ফলে এবার বোরো মৌসুমে বীজ ধানের অভাবে কৃষকদের উৎপাদনে ক্ষেত্রে ব্যহত সৃষ্টি হতে পারে। খুলনা বিভাগের বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও নড়াইল জেলায় ঘের-ভেড়ী আগে ভাগে সেচ দিয়ে সময়মত ধানের চারা ফেলে দিয়েছে। কিছু সংখ্যক উপজেলায় শস্যের চাষ বেশি থাকায় দেরি করে বীজ বপন করতে হবে বলে তারা এখন বীজ ধান সংগ্রহ করতে পারছে না। এ ব্যাপারে দুই একটি কোম্পানীর সাথে কথা বলে জানা যায়, এ বোরো মৌসুমে হাইব্রীড বীজ ধান ব্যাপক হারে বিক্রি হওয়ায় ধান বীজের সংকট হয়েছে। শেষ সময়ে এসে কিছু হাইব্রীড-২৮ মজুদ থাকায় আমরা সেই ধান বীজ বিক্রি করার চেষ্টা করছি। এ ব্যাপারে ডিলার আব্দুর রউফ জানান, আমি ৩টি কোম্পানীর বীজ ধান বিক্রি করি, কোম্পানী আমাকে বীজ ধান দিতে পারছেনা, সেহেতু এলাকার কৃষকের চাহিদা আমি কি করে মেটাবো? অভয়নগর উপজেলার ডিলার আব্দুল হাকিম জানান, আমার নিকট ব্রী-২৮ ধান ছাড়া অন্য কোন ধান নেই। এ বছর কৃষকরা হাইব্রীড ধান খুব বেশী পরিমাণ বাড়িয়েছে। এ বিষয়ে ব্লক সুপারভাইজার ইউনুস সাহেব জানান, অভয়নগরে শস্যের চাষ বেশি, নাবিতে এরা ধান বপন করে। হাইব্রীড বীজ ধান না পেলে অভয়নগরের কৃষকরা বোরো মৌসুমে ধানের চাষ করতে পারবেনা। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষন করছে কৃষকরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here