কঠোর শাস্তির আওতায় আসছেন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা বাড়িওয়ালারা

প্রকাশ : শুক্রবার, মে ১৭, ২০১৯ অপরাহ্ণ ৫:০২

শের ই গুলঃ

 

বাড়ি ভাড়া নিয়ে দেশের শহরগুলোয় রীতিমত নৈরাজ্য চলছে। সবচেয়ে বেশি নৈরাজ্য চলছে রাজধানীতে। বাড়ির মালিকরা বছরের শুরুতেই কারন ছাড়াই ভাড়া বাড়িয়ে দেন। কষ্ট হলেও ভাড়াটিয়ারা মুখ বুঝে সহ্য করে যান। বাড়ির মালিকদের এই অন্যায় দেখার যেন কেউ নেই। তবে বাড়িভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য ঠেকাতে পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে জাতীয় ভুক্তাঅধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তর।

 

ভুক্তভোগী ভাড়াটিয়ারা বাড়ির মালিকদের অন্যায় কাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন। অযোক্তিক ভাবে ভাড়া বাড়ানো হলে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে বাড়িওয়ালা সহ সংশ্লিষ্টদের। সম্প্রতি ভোক্তাঅধিকার আইন ২০০৯ সংশোধন করে ভোক্তাঅধিকার আইন ২০১৮ নামে একটি খসরা তৈরি করেছে অধিদপ্তর। সেই খসরা পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানা গেছে। জানতে চাইলে ভোক্তাঅধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক মোঃ শফিউল আলম লস্কর বলেছিলেন অধিদপ্তর ভোক্তার অধিকার অক্ষুন্ন রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন। সপ্তাহের ছয় দিন তিনটি করে বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে ।

 

এছাড়া ভোক্তারা যেন আরো বেশি সুফল পান এজন্য আইনে বেশ কিছু ধারা পরিবর্তন ও সংযোজন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে আইনের খসরা তৈরি করা হয়েছে যা চুড়ান্ত করতে বানিজ্য মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে। ভোক্তাঅধিকার সংরক্ষন বিষয়ক সংগঠন কনজুমারস এসোসিয়োশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সর্বশেষ সমিক্ষায় দেখা যায় পচিঁশ বছরে রাজধানীতে বাড়িভাড়া বেড়েছে প্রায় চারশত শতাংশ। অথচ একই সময়ে নিত্য পণ্যের দাম বেড়েছে মাত্র দুইশত শতাংশ। অথাৎ নিত্য পণ্যের দামের তুলনায় বাড়িভাড়া বৃদ্ধির হার প্রায় দ্বিগুন।

 

রাজধানীতে ১৯৯০ পাকা ভবনে দুই কক্ষের একটি বাসার ভাড়া ছিল ২ হাজার ৯৪২ টাকা। দুই হাজার পনের সালে সেই ভাড়া দাড়িছে ১৮ হাজার ২৫০ টাকা। গত বছরে এই ভাড়া এসে ঠেকেছে ২১ হাজার ৩৪০ টাকায়। সমিক্ষায় আরো বলা হয় ২০০৬ সাল থেকে ১০ বছরে ভাড়া বেড়েছে আরো বেশি। মধ্যবিত্ত মানুষ যেসব এলাকায় বসবাস করেন সে সব এলাকায় বাড়ির সংখ্যা চাহিদার তুলনায় কম, ফলে বাড়িওয়ালার বাড়াটিয়াদের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারেন। তাছাড়া বাড়িভাড়া, গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ বিল, সার্ভিস চার্জ সব কিছু ঢাকা বাসির জন্য দৈনন্দিন ব্যয় ভাড়ার মধ্যে সহায়ক হয়ে বসবাসের জনজীবনে দীর্ঘশ্বাস এনে দিয়েছে।

 

 

বাড়িভাড়া নিয়ে যে আইন আছে তা ভাড়াটিয়া সহায়ক নয়। তাই সরকারের আইন প্রয়োগ এর বিষয়ে সচেতন হওয়ার পাশপাশি গৃহায়ন কর্মসূচির উদ্যেগ বাড়াতে হবে। তবে জাতীয় ভোক্তাঅধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তরের খসরা আইন পাস হয়ে বাস্তবায়ন করা হলে ভাড়াটিয়াদের দীর্ঘশ^াস একটু হলেও কমবে।