করোনা মহামারীতে উত্তরায় অবৈধ মেলায় অতিষ্ঠ লোকজন

 

 

রবিউল আলম রাজু :

 

রাজধানী উত্তরার ১৩ নং সেক্টর জমজম টাওয়ারের পশ্চিমপার্শ্বে রয়েল ক্লাবের উত্তরপাশে সোনার গাঁও জনপথে মূল সড়ক ঘেষে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী মেলা। তবে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এই মেলার কোনো বৈধতা নেই।

জেলা প্রশাসনের কাছ থেকেও নেওয়া হয়নি কোনো অনুমোদন। তবু রহস্যজনকভাবে প্রতিদিনই মেলা জমজমাটভাবে চলছে। মেলা শুরু হওয়ার পর এই মেলায় উচ্চ শব্দে মাইক বাজানো হচ্ছে অথচ মাত্র কিছু দূরে উত্তরা পশ্চিম থানা।

মেলার মাঠে গিয়ে দেখা যায়, আলোকসজ্জা ও উচ্চ শব্দে বিভিন্ন হিন্দি গানের মাধ্যমে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা চলছে। মেলার আয়োজন ব্যাপক জমজমাট। মেলা প্রাঙ্গণজুড়ে প্রায় শ-খানেক ছোট বড় স্টল।

এ ছাড়া রয়েছে ট্রেন, নাগরদোলা, নৌকা, গেম জোন ও খাবারের দোকান। রাইডগুলোতে শিশুদের আধিক্যই বেশি। স্টলগুলোতে বেচাকেনা ভালোই হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন বিক্রেতা।

মেলার আয়োজকদের কেউকে মেলা প্রাঙ্গণে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে আওয়ামী লীগের আওয়ামীলীগের কিছু নেতারা এর মূল আয়োজক। মেলা আয়োজনে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী লোকজন রয়েছেন। এ কারণে মেলার আয়োজনের বৈধতা নিয়ে এবং অন্য সমস্যা নিয়ে উত্তরা এলাকার কেউ প্রকাশ্যে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, এই মেলা আয়োজনের ফলে তাঁদের বিক্রির পরিমাণ আগের চেয়ে বেশ কমে গেছে। এর বেশি তাঁরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। দেশে এখনও করোনা মহামারী শেষ হয়নি, চলছে শীতকালে করোনা ছড়িয়ে পড়তে পারে ব্যাপক ভাবে। এর মধ্যে উত্তরায় এরকম মেলার আয়োজন রীতিমতো সবাইকে অবাক করে দিয়েছে।

প্রশাসনের হর্তাকর্তারা মুখে বড় বড় বুলি ছাড়ে কেউ মাস্ক ছাড়া হাঁটবেন না, দূরত্ব বজায় রাখবেন। কিন্তু তারাই অদৃশ্যভাবে লাভবান হয়ে থানার সামনে মেলার আয়োজকদের দেখেও না দেখার বান করে চোখে কাঠের চশমা পড়ে বসে আছে। উত্তরা সচেতন মহলের দাবী মেলাকে কেন্দ্র করে করোনা মহামারী আকার ধারণ করার সম্ভাবনা আছে। তাই মেলা বন্ধের জোর দাবি জানান তাঁরা।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তরা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার মহোদয়ের নিকট আকুল আবেদন, তিনি যেন মেলা কমিটিকে মেলা বন্ধের জন্য নির্দেশ দেন।