Amar Praner Bangladesh

কাশবনের গোঁছা বিক্রি করছে পুলিশ, ট্রাক প্রতি প্রায় ১২ হাজার টাকা

 

 

রবিউলআলম রাজু :

 

রাজধানীর বহুল পরিচিত দিয়াবাড়ির অপরুপ সৌন্দর্য মন্ডিত কাশফুল গাছ ট্রাক ভরে বিক্রি করে দিচ্ছেন তুরাগ থানার অফিসার ইনচার্জ ও ওসি অপারেশন।

শারদ বিকেলে একগুচ্ছ কাশফুল স্নিগ্ধতার পরশ বুলিয়ে যায়, হাতের স্পর্শ পৌঁছে যায় হৃদয়ে … শরতের কাশফুল অগোচরে হৃদয়ে দোলা দিয়ে যায় তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা সকলের মনে। শারদীয় বিকেলগুলো শুধু কাশফুলের জন্যই হয়ে ওঠে মনোরম। নদীর ধারে, জলের ধারে, উপকূলেই এই ফুল স্ব-মহিমায় নিজেদের জানান দিয়ে যায়।

ডিয়াবাড়িসহ ঢাকার উপকণ্ঠের নানাপ্রান্তে শারদ মধ্যপ্রান্তে রাশি রাশি শ্বেতশুভ্র কাশফুল এখন নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়ে যাচ্ছে। আর এই মৌসুমী কাশফুলের মহিমা পৌঁছে গেছে সুদূর বিদেশে। চীনের একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ঢাকার উপকণ্ঠে ফোটা এই কাশফুল নিয়ে কয়েক কলম লিখেছেও। বর্ণনা করার চেষ্টা করেছে শরতের বাংলাদেশের সৌন্দর্য।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঠাঁই পাওয়া ডিয়াবাড়ির এই মনোরম সুন্দর কাশবনের কাশফুল বিক্রি করে দিচ্ছেন বলে জানা যায়। খবর পেয়ে অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা যায় সারি সারি করে কেটে রাখছেন কিছু শ্রমিক, কেউ আবার আঁটি বেধে দিচ্ছেন, কেউবা মাথায় করে তুলছেন ট্রাকে। তাদেরকে এই কাশফুল কিভাবে নিচ্ছেন বা কার অনুমতিতে নিচ্ছেন জিজ্ঞাসা করলে কোন উত্তর দিতে অনিহা প্রকাশ করে।তারা বলেন “আমরা জানিনা আমরা শ্রমিক আমাদের সরদার জানে ”

সংবাদকর্মী বুঝতে পেরে কেউ মুখ খুলছেনা বিধায় ছদ্ম বেশে ক্রেতা সেজে কথা হয় ভিন্ন ২ জন সরদার এবং এক শ্রমিকের সাথে। রাজশাহী থেকে কাশফুল গাছ নিতে আসা সরদার রফিকের কাছে কাশফুল কিভাবে নিচ্ছে জানতে চাইলে তিনি জানান, “ওসি সাহেবের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে আমরা নিচ্ছি।” কিভাবে বা নিতে কি লাগবে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি বলেন, “ট্রাক প্রতি ৮ হাজার বা ১০ হাজার টাকা হলেই নেওয়া যাবে।আপনার লাগলে স্যারের সাথে যেয়ে কথা বলেন।আপনি শ্রমিক দিয়ে কেটে নিয়ে যাবেন প্রতি ট্রাকের টাকা দিয়ে দিলেই হবে ” টাকা কার কাছে দিচ্ছে জানতে চাইলে তিনি জানান, “এ.এস.আই হাবিব এসে নিয়ে যায় আবার মাঝে মধ্যে থানার গাড়ির ড্রাইভার শরিফ এসে নিয়ে যায়।”

আরেকজন সরদার সিদ্দিক এর কাছে কিভাবে কাশফুল নিব জানতে চেয়ে কল করলে তিনি জানান, “প্রতি ট্রাক কাশফুল গাছ লাখ দেড়েক টাকা লাগবে। আর যদি আঁটি হিসেবে নেন তাহলে ১২ থেকে ২৪ টাকা প্রতি আঁটি।এক ট্রাকে ৫ হাজার অাঁটি নিতে পারবেন। আপনি আমাকে জানান কিভাবে নিবেন।”

অন্যদিকে রাজশাহী থেকে আসা এক শ্রমিকের কাছে এই সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, “ওসি স্যার এর পারমিশন নিয়েই আমরা নিচ্ছি।এগুলি নিতে হলে ওসি স্যারকে গাড়ি প্রতি ১০/১২ হাজার টাকা দিতে হয়। ” কে এসে টাকা নেয় জানতে চাইলে তিনি জানান, আমাদের লোক আছে রাজশাহীতে সেখান থেকে বিকাশে টাকা পাঠায়।” কোন নাম্বারে টাকা পাঠানো হয় সেই নাম্বার দেখতে চাইলে তিনি বলেন এটা ওসি অপারেশন স্যারের নাম্বার।এই নাম্বারে বিকাশ করে তারপরে ছন/কাশফুল গাছ নিয়ে যাই।

আরেকজন শ্রমিক থেকে জানা যায় প্রতিটি ট্রাক নতুন তুরাগ থানার সামনে থেকে রাত ০৮ঃ০০ টায় ছেড়ে যায় সকালে গন্তব্যে পৌঁছায়।

রাজধানীর বুকে বেড়ে উঠা এই সাদা কাশফুলের মঞ্জরি ১৫ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার লম্বা। বীজে সূক্ষ্ম সাদা রোম। ঘাসের জ্ঞাতি কাশ হয় ০৩ মিটার পর্যন্ত লম্বা। ঘাসের মতোই এর মূল গুচ্ছ। পাতা রুক্ষ ও সোজা রেখার মতো। লম্বায় আঁধা থেকে এক মিটার আর চওড়া ছয় থেকে ১৫ মিলিমিটার। আর এই অপরুপ সৌন্দর্য মন্ডিত এই কাশবনের কাশফুল বিক্রি করে দিচ্ছেন হর হামেশাই।

এ সম্পর্কে উত্তরা জোনের উপ পুলিশ কমিশনারকে মুঠোফোনের মাধ্যমে প্রশ্ন করা হলে তিনি প্রথমে ডিয়াবাড়ি তার এরিয়ার মধ্যে নয় বলে কথা এড়িয়ে যান। পরে আবার তুরাগ থানাধীন এরিয়া উল্লেখ করে বিক্রির অনুমতি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি কোন বক্তব্য না দিয়ে কল রেখে দেন।

অত:পর তুরাগ থানার ওসি অপারেশনের কাছে কাশফুল বিক্রি ও বিকাশে টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি কোন কাশফুল বা ছন বিক্রি করছি না, আমার এই নাম্বারে বিকাশই করা নেই।” অত:পর শ্রমিকের বক্তব্য ওসি অপারেশনকে “হোয়াটসঅ্যাপ” এ দেখিয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি এই বিষয়ে আর কথা না বলে প্রশ্ন এড়িয়ে যান।