ডাঃ এম. এ. মান্নান, কুষ্টিয়া:

কুষ্টিয়ার বিভিন্ন উপজেলার নারীরা শীত মৌসুম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে শুরু করেছে সুস্বাদু কুমড়োর বড়ি তৈরির প্রতিযোগিতা। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের নারী শীত মৌসুমে এ সুস্বাদু কুমড়ো বড়ি তৈরি,  উৎপাদন ও বাজারজাত করণের সঙ্গে জড়িত। এ পরিবারগুলো শুধু শীত মৌসুমের পুরোটা সময় কুমড়োর বড়ি উৎপাদন ও বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। বাড়ির নারীরাই মূলত বড়ি তৈরি করে। পুরুষরা বাজারজাত করে থাকেন। বাজার থেকে মাশকলাই কিনে বাড়িতে এনে পানিতে ভিজিয়ে নরম করে পাটায় বেটে বুড়া (বয়স্ক) চালকুমড়া মিশিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় বড়া তৈরি করে রোদে শুকাতে দেয়।

বাড়ির আঙিনায় সারি সারি ভাবে কুমড়া বড়ি তৈরি করে রোদে শুকাতে দেয়া হয়েছে। বড়ি গুলো সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেলে সেগুলোকে বাজারে তুলে বিক্রি করা হয়ে থাকে। বাজারে কুমড়ো বড়ির কদর থাকায় পরিবার গুলো বাড়তি আয়ের সুযোগ পেয়ে থাকে। স্থানীয় বাজারে সুস্বাদু হিসেবে কুমড়ো বড়ির বেশ কদর রয়েছে। ভোক্তারা বাজার থেকে কুমড়ো বড়ি কিনে এনে তেলে ভেজে বিভিন্ন তরকারিতে দিয়ে রান্না করে খেয়ে থাকেন। কুমড়ো বড়ি দেয়া তরকারি বিশেষ স্বাদের হওয়ায় বহু মানুষ এ বড়ি পছন্দ করে থাকেন। মিরপুর উপজেলার মশান গ্রামের কুমড়োর বড়ি তৈরির কারিগর মেহেরুন্নেসা জানান, এই বড়ি তৈরিতে বুড়ো চালকুমড়া আর মাশকলাইয়ের ডাল লাগে। মাশকলাইয়ের ডাল ছাড়াও অন্য ডালেও তৈরি হয় এ বড়ি। রোদে মচমচে করে শুকালেই এর ভালো স্বাদ পাওয়া যায়।
একই এলাকার শাহাপাড়ার আরেক বড়ি প্রস্তুতকারক আয়েশা খাতুন জানান, এই শীতের সময় বড়ি তৈরি করে থাকি। নিজেরা খাওয়া সহ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতেও পাঠিয়ে থাকি। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জগতি এলাকার শীত মৌসুমে এ কুমড়োর বড়ি তৈরি করে বিক্রি করে যা লাভ হয় তা দিয়েই আমার সংসার চলে। ১ ছেলে, ২ মেয়ে। মেয়ে ২টা লেখা পড়া করছে। আমি বাড়িতে কুমড়োর বড়ি তৈরি করি আর তা ছেলে বাজারে বাজারে বিক্রি করে। কুমড়োর বড়ি তৈরির কারিগর মনোয়ারা, রাবেয়া, শাহানুরজানান, অনেক পরিশ্রম করতে হয় কুমড়োর বড়ি তৈরিতে। রাত জেগে শীল-পাটায় কেজি কেজি ডাল বাটা সহজ কাজ নয়। তবুও পেটের তাগিদে অনেক কষ্ট করে আমাদের কুমড়োর বড়ি তৈরি করতে হয়। শীত মৌসুমে এ বড়ি তৈরি করে সংসারে বাড়তি আয় কিছু করা সম্ভব হয়। বাজারের কুমড়োর বড়ি বিক্রেতা আবুল হোসেন জানান, কুমড়োর বড়ি তৈরি এবং বিক্রির ব্যবসা করে শীত কালে আমাদের ঘরে মোটামুটি একটা আয় আসে। বাজারে কুমড়োর বড়ির যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। আশপাশের অনেক এলাকা থেকে বহু মানুষ আমাদের বাজার থেকে কুমড়োর বড়ি কিনে নিয়ে যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here