ফিরোজ তালুকদার, কলাপাড়া প্রতিনিধি:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কুয়াকাটাকে একসময় কেউ চিনতোনা। এই কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে দাড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়। আমি ১৯৯৬ সালে এসে সূর্যাস্ত দেখেছি। ইচ্ছেছিল রাতের আকাশের চাঁদ আর সূর্যোদয় দেখব, ওইদিন প্রবল ঝড়-বৃষ্টির কারনে তা আর সম্ভব হয়নি। এরপর আমরা ক্ষমতায় এসে কুয়াকাটাকে পর্যটন কেন্দ্র ঘোষণা করি। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ সব সময় উন্নয়ন বঞ্চিত ছিল। আমরা ক্ষমতায় এসে ধারাবাহিকভাবে উন্নয়ন করে চলেছি। বহুবিধ উন্নয়নের পাশাপাশি কলাপাড়া উপজেলায় পায়রা বন্দর হয়েছে। এবার রেল লাইন নিয়ে যাব আমরা পায়রা বন্দরে। পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল্ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেছেন। রোববার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ৬ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ও ‘সি-মি-উই-৫’ এর উদ্বোধন করেন। এ সময় কুয়াকাটা প্রান্তে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মাছুমুর রহমানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার, পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাড. মো. শাহজাহান মিয়া, সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব মাহাবুবুর রহমান এমপি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব খান মোশারেফ হোসেন ও উপকারভোগী লতাচাপলী ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার উদ্যোক্তা মো. মঞ্জুরুল আলম প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুজ্জামান, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল্ কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনোয়ার হোসেন, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম বিপিএম, কলাপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেব তালুকদার, ইউএনও এবিএম সাদিকুর রহমানসহ জেলা উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারী কর্মকর্তা, রাজনীতিক এবং বিভিন্ন গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল্ কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনোয়ার হোসেন জানান, দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল উদ্বোধনের ফলে আজ (১০ সেপ্টেম্বর) থেকে ২০০ জিবিপিএস (গিগাবাইট পার সেকেন্ড) ব্যান্ডউইথ এবং পর্যায়ক্রমে তা ১ হাজার ৫০০ জিবিপিএসে উন্নীত হবে। মো. মনোয়ার হোসেন আরও বলেন, ‘সি-মি-উই-৫ কনসোর্টিয়াম আমাদেরকে ১ হাজার ৫০০ জিবিপিএসই ব্যান্ডউইথ দিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু আমাদের বাজার কতটা তৈরি, কতটুকু প্রয়োজন এসব আগে জানতে হবে। বাজারে যদি ব্যান্ডউইথের চাহিদা না থাকে তাহলে বেশি নিয়ে আমরা কি করব।’ এর আগে গত ২১ ফেব্রুয়ারি তুরস্কের ইস্তাম্বুলে এই কনসোর্টিয়ামের উদ্বোধন হয়। গত ১৬ জানুয়ারি হাওয়াইয়ের হনুলুলুতে ২০ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ২৪ টেরাবাইট পার সেকেন্ড (টিবি/এস) গতির এই সি-মি-উই-৫ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়। এই কনসোর্টিয়ামে যুক্ত রয়েছে বাংলাদেশসহ ১৭টি দেশ এবং এই ক্যাবলের মোট ল্যান্ডিং পয়েন্ট রয়েছে ১৮টি। উল্লেখ্য, ‘সি-মি-উই-৫’ হলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া-মিডল ইস্ট-ওয়েস্টার্ন ইউরোপ-৫-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। এই কনসোর্টিয়ামে রয়েছে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, জিবুতি, ইয়েমেন, সৌদি আরব, মিসর, ইতালি ও ফ্রান্স।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here