বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :

খননের নামে মৎস্য নিধন, সেচের হিড়িক হাওরগুলোতে, বে-পরোয়া প্রভাবশালী,আইন মানছেনা কেহই

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮
  • ১৫ Time View

আজিজুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ ঃ সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা একটি হাওরাঞ্চলখ্যাত এলাকা। এখানকার জলাশয়গুলো বাৎসরিক লিজ নিয়ে থাকে এলাকার মৎস্যজীবিগন। ছোট ছোট বিল,ডোবা ইত্যাদি মাছের বংশ রক্ষার্থে সেচ বা বিষ প্রয়োগে মাছ ধরা নিষেধ করলেও বাংলাদেশ সরকারের আইনকে তোয়াক্কা করছে না এখানকার স্থানীয় বিল,ডোবা ইত্যাদির লিজগ্রহনকারী কর্তা ব্যক্তিবর্গ। গতকাল বুধবার(৭ ফেব্রুয়ারী) হাওরাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, প্রত্যেক রাতে মেশিন চালিয়ে সেচা হচ্ছে হাওর ও ডোবাগুলো। দিনের আলোয় ঢেকে রাখা হচ্ছে রাতের আধারে আবার চালু হচ্ছে এসব মেশিন। বাঁধা দিলে ঘটছে নানান অপ্রীতিকর ঘটনা এমনকি মামলায় জরিয়ে দেওয়া হচ্ছে সাধারন জনগনদের। ভয়ে অনেকেই এ অন্যায়ের বিরোদ্ধে রুখে দাঁড়াতে রাজি হচ্ছে না। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, পানি সেচার ফলে তৈরী হচ্ছে নানান কৃষিজ সমস্যা এমনকি মাছের বংশ ও জলজ প্রাণী নিধন সহ দৈনন্দিন জীবন যাপনের কেন্দ্র বিন্দুও অনেক ডোবা,নালা সহ হাওরাঞ্চলকে কেন্দ্র করে। পানি সেচের ফলে মৌসুমী চাষ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে অনেক এলাকায়। উর্ধ্বতনদের সজাকদৃষ্টি নেই বললেই চলে। কৃষকসমাজের অনেকেই জানান, অভিযোগ করে লাভ নেই কারন, অভিযোগ নিয়ে গেলে কর্তাব্যক্তিগন কর্তব্যপালন না করে বা সরেজমিন তদন্ত না করে অভিযোগে ব্যক্তিদের নামাংকিত করে আমাদের বাদী সাজিয়ে ঐ প্রভাবশালীদের দিয়েই আমাদের বিচার বা হয়রানী করা হয়। তারা উল্টো প্রশ্ন জুরে দেন, হাওরব্যবস্থাপনার শতভাগ কাজ! কাগজে কলমেই, প্রকৃত মৎস্যজীবি ক’জন রয়েছেন? কার্ডধারী মৎস্যজীবি কারা? কাদের দেওয়া হচ্ছে হাওর? সবই টাকা। আর কোথাও সমস্যা হলে দায় সাধারণ খেটে খাওয়া মৎস্যজীবিদের উপরই পরে কারন উল্লেখ করে তারা বলেন পানি সব সময় নিচের দিকেই গড়ায়। সরেজমিনে দেখা যায়, বাদাঘাট(দঃ) ইউনিয়নের ডোবাগুলোর পারে মেশিন বসিয়ে সেচ চালিয়ে যাচ্ছে বিগত কয়েকদিন ধরেই। সেচ কার্যে মাছ নিধন করা গেলে বিষ প্রয়োগে বাঁধা কোথায়? এমনকি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাই কি এর জন্য দায়ী নয়। সম্প্রতি ধরেরপার এলাকায় ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক একটি বিল সেচাকে কেন্দ্র করে সুশিল সমাজের নেতৃবৃন্দের সাথে প্রভাবশালীদের সৃষ্ট অপ্রিতিকর ঘটনার সমাধান দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সমির বিশ্বাস। জানা যায়, পানি ধারন ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় কিছু হাওরের গভীরতা বাড়ানোর জন্য খনন কার্যের সুবিধার্থে এ সেচ করা হচ্ছে কিন্তু স্থানীয় মহলে বিষ প্রয়োগের প্রশ্নও উঠেছে। জেলা প্রশাসক বরাবর এক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অনুলিপি প্রাপ্তি স্বীকার নাকচ করে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সমির বিশ্বাস জানান তিনি জানান, আমি অভিযোগের ব্যপারে জানি না তবে কিছু কিছু বিলের খননকার্য চালু হবে বিধায় সেচ ব্যবহার করা হচ্ছে,তবে সব বিল বা খালে নয়। জনগনের প্রশ্ন সরকারের নীতি অনুসরণ ও যথাযথ পালন করার দায়িত্ব কার? লিজ দিয়েই সরকারের কোষাগার রক্ষিত করার মানে এই নয় রাষ্ট্রীয় সম্পদের যাচ্ছে তাই ব্যবহার করা হোক। এ ব্যপারে, বিভিন্ন ডোবা ও হাওর সেচ বৈধ করতে অনেকে অনেকে খনন কার্যের ইস্যুকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও দাবী করেন স্থানীয় মৎস্যজীবি মহল। বিগত বছর বোর মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্যপক অনিয়ম ও দূর্ণিতির ফলে দূর্বল হাওর রক্ষা বাধ ভেঙ্গে বোরফসলের ক্ষতিতে মৎস্য সম্পদও বিনষ্ট হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে সারা বাংলাদেশের মানুষের উপর। হাওর ব্যবস্থাপনার ক্ষতি হলে বিচার করে লাভ কি? যদি সময় থাকতে বিচক্ষনতার সাথে শুধু অফিসিয়াল নয় মাঠপর্যায়ে গিয়ে দায়িত্ববান ব্যক্তিবর্গ তাহাদের নিজ দায়িত্ব যথাযথ পালন করেন তাহলে এই হাওর হতে পারে বাংলার অর্থসমৃদ্ধ সম্পদ। জনগনই দেশের সকল ক্ষমতার উৎস এবং এই জনগনের সুবিধার্থেই রাস্ট্রের সকল বিধি-বিধান। বার বার এ হাওরাঞ্চল রাজনৈতিক ও প্রভাবশালীদের খোরাক বনে যাচ্ছে, সুষ্ঠো ব্যবহার করা হচ্ছে না খাল,বিল,নদী,বালু,পাথর ইত্যাদি সমৃদ্ধ সম্পদগুলোকে। তাই এখানকার দরিদ্র থেকে দরিদ্র এবং অসহায় শ্রেনি-পেশার মানুষের পাশাপাশি শোষকগোষ্ঠি। কর্তৃপক্ষের সজাকদৃষ্টিভঙ্গিই পারে সঠিকভাবে হাওরের প্রতিটি কাজ শতভাগ নিরাপদভাবে বাস্তবায়িত করা। এ ব্যপারে উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ এর মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগে ব্যর্থ হলে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সুলেমান তালুকদার জানান, তিনিও বেশ কিছু এলাকা ঘুরেছেন এভাবে সেচের কারনে মাছের বংশ অর্থাৎ দেশীয় সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে বিধায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে এর যথোপযোক্ত ব্যবস্থা করবেন বলে জানান। তিনি আরোও জানান, লোকচক্ষুর অন্তরালে রাতের আধারে এভাবে সেচ দিয়ে মাছ ধরা একটি জঘন্যতম অপরাধ আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

এই সাইটের কোন লেখা কপি পেস্ট করা আইনত দন্ডনীয়

Headlines