বি এম রাকিব হাসান, খুলনা ব্যুরো:
বিগত বছরগুলোতে শীতের তীব্রতা কমে গেলে শীতবস্ত্র বিতরণের হিড়িক পড়ে। কিন্তু এই তীব্র শৈত্যপ্রবাহে সে সব দাতাদের দেখতে পাচ্ছে না শীতার্তরা। ফলে শীতের তীব্রতায় শিশু ও বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এ জন্য বাড়তি সতর্কতার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
খুলনা শিশু হাসপাতাল সূত্র মতে, ঠান্ডাজনিত কারণে শিশু রোগী আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। এ জন্য চিকিৎসার চেয়ে জরুরী বিষয় হচ্ছে অভিভাবকদের সচেতনতা। শিশুর শরীরে সার্বক্ষণিক আরামদায়ক উষ্ণ কাপড় পরিয়ে রাখতে হবে, শিশু খাবারের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে এবং তার ঘুমানোর সময়েও সজাগ নজর রাখতে হবে। ঠান্ডাজনিত কোন সমস্যা দেখা দিলে প্রাথমিক অবস্থাতেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরী বলে মনে করা হচ্ছে। এ রকম আবহাওয়ার কারণে দিনকে দিন শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এর মধ্যে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। গত ১ জানুয়ারি থেকে ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা ৩৪ এবং ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়েছে ৯০ জন। এই তথ্য মতে, গড়ে প্রতিদিন নিউমোনিয়ায় ৫ জন ও ডায়রিয়ায় ১৫ জন করে আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া রোববারও ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া মিলে আরও ২৫-৩০ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে।
খুলনা শিশু হাসপাতালের মেডিসিন ওয়াডের্র সিনিয়র স্টাফ নার্স মরিয়াম জানান, দিনে-রাতে সমানতালে শিশুরা ডায়রিয়া নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। তাদেরকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। যার মধ্যে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যাই বেশি দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, কোন বেড বা কেবিন খালি পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক রোগীর মা-বাবা দুইদিন আগে থেকে এসে কেবিনগুলো বুক করে যাচ্ছেন।
এদিকে, মৌসুমের শুরুতে এ অঞ্চলে শীতের তেমন দেখা না মিললেও গত কয়েকদিন ধরে শীতের তীব্রতা বেড়েই চলেছে। আর শীত থেকে বাঁচতে শীত কাপড় কেনাকাটার ধুম পড়েছে। এর মধ্যে নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং হতদরিদ্র শ্রেণীর মানুষ ভীড় জমাচ্ছে ফুটপথে। নগরীর ফেরীঘাট থেকে ডাকবাংলা মোড় পর্যন্ত ফুটপথ ঘুরে দেখা গেছে, সীমিত আয়ের নারী-পুরুষ ফুটপথে এসে শীত নিবারনের জন্য পছন্দের জ্যাকেট, সোয়েটার, জাম্পার কিনছে। এখানে অর্ধশতাধিক ভ্রাম্যমাণ দোকানি শীতকাপড়ের পশরা সাজিয়ে বসেছে। নারী-পুরুষের প্রতিপিস জ্যাকেট ও ব্লেজার দেড়শ’ থেকে দুইশ’ টাকা এবং সোয়েটার ও জাম্পার ৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে জ্যাকেট, ব্লেজার, সোয়েটার ও জাম্পারের বেল্ট কিনে তারা ব্যবসা করছেন। প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার বিকিকিনি করছে এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। এসব ব্যবসায়ীরা জানান, ডিসেম্বর মাসে শীত কম থাকায় বেচাকেনা মন্দাভাব ছিল। এতে তারা লোকশানের আশঙ্কায় ছিল। কিন্তু জানুয়ারির শুরু থেকে শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় শীত নিবারনের জন্য সীমিত আয়ের মানুষ গরম কাপড় কেনার জন্য এখানে এসে ভীড় জমাতে শুরু করেছে। ফলে ভ্যানে রাখা এসব ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতে বেচাবিক্রি পুরোপুরি জমে উঠেছে। ক্রেতারা পছন্দের গরম কাপড় কিনছে স্বাচ্ছন্দে। সকালে বেচাকেনা একটু কম থাকলেও বিকেলে এসব দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভীড় পরিলক্ষিত হয়। পুরো ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত এ শীত কাপড় ব্যবসা চলবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here