গৌরনদী (বরিশাল) সংবাদদাতাঃ
গৌরনদীতে এক সহকারী শিক্ষিকাকে যৌন হয়রানীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি বরিশালের গৌরনদী উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক সমাজের সভাপতি ও পশ্চিম খাঞ্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ আবু হানিফ মোল্লা। অভিযোগ করেছেন একই বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা।
নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষিকা জানান, তিনি গৌরনদী পৌর মেয়র ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান, বরিশাল বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে বিচার চেয়েও বিচার পাননি। উল্টো বিপাকে পড়েছেন।জানা গেছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য অভিযুক্ত শিক্ষক, স্থানীয় শিক্ষক সংগঠনের কয়েকজন নেতা বিভিন্ন জায়গায় ঘুষ দিয়েছেন।নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষিকা উপজেলার ১২নং পশ্চিম খাঞ্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি লিখিত অভিযোগে জানান, ‘আমার সহকর্মী মোঃ আবু হানিফ দীর্ঘদিন যাবত আমাকে যৌন হয়রানি করে আসছে। এ থেকে তাকে নিবৃত্ত করতে আমি বিভিন্ন সময় বোঝানোর জন্য চেষ্টা করেছি। এমনকি আমার স্বামীও তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সে নিবৃত্ত হয়নি। সে সরাসরি মোবাইল ফোনে এমনকি চিঠিপত্রের মাধ্যমে আমাকে যৌন হয়রানী করে আসছে।সর্বশেষ কিছুদিন আগে বিরতির সময় আমার স্বামীর সাথে জরুরী ফোনালাপের জন্য আমি বিদ্যালয়ের ছাদে উঠি। এ সময় সহকারী শিক্ষক হানিফ হঠাৎ করে পিছন থেকে আমাকে জড়িয়ে ধরে শ্লীলতাহানী করে। আমি চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী হালিমের নাম ধরে ডাক দিয়ে নিচে নেমে আসি। তাৎক্ষনিক বিষয়টি প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষিকা সুমা পালকে জানাই।প্রধান শিক্ষিকা কোন ভুমিকা না নেয়ায় বিষয়টি আমি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের মাধ্যমে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে জানাই। কিন্তু শিক্ষা অফিসার দীর্ঘদিনেও কোন প্রকার পদক্ষেপ নেয়নি। এরপর আমি গৌরনদীর পৌর মেয়র মোঃ হারিসুর রহমান ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করি।বিচার চাওয়ার ব্যাপারটি আবু হানিফ জানতে পারায় সে আমাকে ফোন দিয়ে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য হুমকি দেয়।’এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ আবু হানিফের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফয়সাল জামিল বলেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফরহাদ মুন্সী ও ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা খাদিজা আক্তার বিষয়টি আমাকে মৌখিক ভাবে অবহিত করেন। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।বরিশাল বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উপ-পরিচালক এস.এম ফারুক বলেন, এখনও লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে ডিডি জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here