তৌকির আহাম্মেদ হাসু:

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধিঃ

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিবল্পনা কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ সহ হাসপাতাল চিকিৎসা সেবার দাবীতে ঘেরাও করে চিকিৎসা বঞ্চিত বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।গতকাল সোমবার সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটেছে।এ সময় হাসপাতালে সব ধরনের চিকিৎসা সেবা বন্ধ থাকে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও সরেজমিন চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।এতে সরিষাবাড়ী সহ পাশ্ববর্তী মাদারগঞ্জ,ধনবাড়ী,গোপালপুর,কাজীপুর উপজেলা সহ প্রায় ৫ লাখ লোক দীর্ঘ দিন ধরে চিকিৎসক সংকট ও যন্ত্র বিকল থাকায় রোগীদের চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।এ হাসপাতালটি ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ২১ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও সেখানে চিকিৎসক রয়েছে ১ জন।ওই এক জন চিকিৎসক দিয়ে চলে চিকিৎসা সেবা। হাসপাতালে ২১ জন চিকিৎসকের মধ্যে ১০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ থাকার কথা। সেখানে ১০ জন চিকিৎসকের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে ৯ টি পদ শূণ্য রয়েছে।এ ছাড়াও ৫০ শয্যার বিছানা থাকার কথা থাকলেও পুরুষ ও নারী রোগীর জন্য বিছানা রয়েছে ৪০টি।এ নিয়ে এলাকাবাসী ক্ষোভে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কাজী এনামুল হক কে অবরুদ্ধ সহ হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও এর ফলে সাড়ে ১১টায় বহিঃ বিভাগে চিকিৎসক না থাকায় ঘন্টার পর ঘন্টা রোগীরা বসে থেকে চিকিৎসা না নিয়ে বাড়ীতে চলে যান।
এ খবর পেয়ে সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইয়েদ এজেড মোরশেদ আলী,উপজেলা আ,লীগের সভাপতি ছানোয়া হোসেন বাদশা,সরিষাবাড়ী থানার ওসি(তদন্ত)তাহেরুল ইসলাম,জেলা মিজানুর রহমান সহ পুলিশ ঘটনা স্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। পরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীকে হাসপাতালে শত ভাগ চিকিৎসক সেবা সহ চিকিৎসা সেবার মান বৃদ্ধি’র আশ্বাস দেওয়া হলে এলাকাবাসী ঘেরাও ও অবরোধ তুলে নেন।
উপজেলা আ,লীগের সভাপতি ছানোয়ার হোসেন বলেন, হাসপাতালে কর্মকর্তা নিয়মিত কার্যালয়ে আসেন না। এ হাসপাতালের চিকিৎসকগন সাটিফিকেট বানিজ্যে লিপ্ত রয়েছেন।তাই বিক্ষুব্ধ চিকিৎসা বঞ্চিত এলাকাবাসী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কাজী এনামুল হক কে অবরুদ্ধ সহ হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করেন। আমাদের আশ্বাসে এলাকাবাসী ঘেরাও ও অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইয়েদ এজেড মোরশেদ আলী বলেন,স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটের বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে পত্রের মাধ্যমে অবগত করা হবে।ঘটনা স্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করা হয়।
জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সিভিল সার্জন গৌতম রায় বলেন,উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কাজী এনামুল হক দীর্ঘ দিন অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে তাকে কার্যালয়ে ডেকে আনা হয়েছিল।শিঘ্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ সরিষাবাড়ী হাসপাতালের চিকিৎসক স্বল্পতায় এক জন চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা সেবা চলে আসছে।এ ছাডাও হাসপাতালের যন্ত্র পাতি বিকল সহ রোগীদের চিকিৎসা সেবা ব্যাহত সহ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিবল্পনা কর্মকর্তা কাজী এনামুল হক অননুমোদিত কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ ওঠেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here