আব্দুল্লাহ আল মামুন, ঝিনাইদহ॥
পাঁচ বছর আগে শখের বশে ঢাকার কাটাবন এলাকা থেকে একজোড়া কিং কবুতর কিনে বাড়ীতে আনেন ঝিনাইদহ শহরের পাগলাকানাই ইউনিয়নের কোরাপাড়া গ্রামের বেকার যুবক মেহেদী হাসান। কিছুদিন পালন করার পর একজোড়া বাচ্চাও হয় সেই কবুতরের। বড় করে সেই কবুতর জোড়া বিক্রি করেন ৬ হাজার টাকা। তখন থেকেই মাথায় আসে বাণি জ্যিক ভাবে কবুতর পালন করা। এরপর আরও কিছু কবুতর কিনে বাড়ীর আঙ্গিনায় বাণিজ্যিকভাবে গড়ে তোলেন কবুতরের খামার। এ খামারের আয় থেকে ক্রয় করেছেন জমি, গড়ে তুলেছেন পাকা বাড়ি। মেহেদী হাসান এখন বেকার যুবকদের অনুকরণীয় মডেল। প্রতিদিনই দেশের দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছে মেহেদী হাসানের বাড়ীতে।
মেহেদী হাসান জানান, ৫ বছর আগে ঢাকার কাটাবন এলাকা থেকে একজোড়া কিং কবুতর ক্রয় করেন। প্রথম একজোড়া বিক্রি করে তার মাথায় আসে বাণিজ্যিক ভাবে কবুতরের খামার করার। স্ত্রী শারমিন হাসানের সহযোগীতায় বাড়ীর আঙ্গিনায় গড়ে তোলেন মেহেদি প্রিজন ফার্ম। বর্তমানে তার খামারে ৫০ প্রজাতির বিদেশি কবুতর রয়েছে। এর মধ্যে ৪২ হাজার টাকা জোড়া মূল্যের ইয়োলো বোখরা, ১০ হাজার টাকা মূল্যের মডেনা বু কিং, ম্যাগপাই ও আওল এবং ৬ হাজার টাকা মূল্যের বিউটি হুমার। আছে ৬ থেকে ২০ হাজার টাকা মূল্যের পাকিস্থানি ব¬ু সিরাজি, কালো কিং, লাল কিং, হলুদ কিং, হোয়াইট কিং, সাটিং, শ্যালো, নানপারভিন, সিংহ ও হাইপিলার। ৬ হাজার টাকা মূল্যের অস্ট্রেলিয়ার কিং। ২ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় বোম্বাই ও লোটন এবং দেশি সোয়াচন্দন। ২০ হাজার টাকা খরচ করে এক জোড়া বিদেশি কবুতর পুষলে বছরে সব খরচ বাদ দিয়ে ৩০ হাজার টাকা লাভ থাকে। এক জোড়া কবুতর কমপক্ষে ৪ জোড়া বাচ্চা দেয়। প্রতি জোড়া বাচ্চার দাম ১০ হাজার টাকা। কবুতরের খাবার বাবত এক বছরে খরচ হয় ১৫ শ’ থেকে ২ হাজার টাকা। অন্যান্য খরচ ৪ হাজার টাকার মতো। এ হিসাবে খরচ বাদ দিয়ে ২০ হাজার টাকার এক জোড়া কবুতরে ৩০ হাজার টাকার ওপর লাভ থাকে। এভাবেই ৪ বছর খামারে উৎপাদিত বাচ্চা ও কবুতর বিক্রি করে উলে-খযোগ্য আর্থিক পরিবর্তন আনতে পেরেছেন।
মেহেদি হাসান আরও জানান, বিদেশি জাতের এসব কবুতর দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে যেমনÑ ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা, নাটোর, পাবনা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, রাজবাড়ী, মাগুরা ও ফরিদপুর থেকে সংগ্রহ করেছেন। বর্তমানে তার খামারে উৎপাদিত বিদেশি জাতের কবুতরের বাচ্চা দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকারদের কাছে ১ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা জোড়ায় বিক্রি করেন। কবুতর বিক্রির জন্য তিনি ফেসবুকে পেজ খুলেছেন। যার মাধ্যমে ঘরে বসেই সে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের সাথে যোগাযোগ করতে পারছেন।
স্ত্রী শারমিন হাসান জানান, আমি ও আমার স্বামী দুজনা মিলে ফারমটি দেখাশুনা করি। এভাবে সামনের দিকে আরো এগিয়ে যেতে চায়।
প্রতিবেশী স্কুল ছাত্র সাব্বির হোসেন জানান, মেহেদি হাসানের কাছ থেকে কবুতর কিনে লালন-পালন করে বিক্রি করে নিজের খরচ চালাচ্ছেন তিনি।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডা: মোঃ গোলাম মোস্তফা জানান, মেহেদি হাসান বিদেশী বিভিন্ন জাতের কবুতর পালন করে আজ স্বাবলম্বী হয়েছেন। মেহেদী কবুতরের সমস্যা নিয়ে আসলে তাকে সঠিক পরামর্শ দেওয়া হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here