টঙ্গীতে স্ত্রীর মামলায় স্বামী পলাতক মাদরাসায় তালা

 

মো: বশির আলম, টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি :

টঙ্গীতে দারুন নাজাত মহিলা মাদরাসায় গত ১২ জানুয়ারি ২০২১ইং তারিখে বেআইনি ভাবে তালাবদ্ধ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দারুন নাজাত মহিলা মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মোহতারীম মুফতি নিয়ামত উল্লা খান অভিযোগ করে বলেন, আমার প্রতিষ্ঠিত অত্যান্ত স্বনামধন্য এই মাদরাসাটি গত এক বছর পূর্বে মরকুন টিএন্ডটি গেইট আল আকসা মসজিদ রোডে ইয়াকুব মিয়ার বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ৮কক্ষ বিশিষ্ট রুম ভাড়া নিয়ে নিয়মিত ভাড়ার টাকা পরিশোধ করে মাদরাসা পরিচালনা করে আসছি।

গত মঙ্গলবার বাড়ির মালিক ইয়াকুবের দ্বিতীয় স্ত্রী মুক্তা মনি আমার কাছে ভাড়ার দাবীতে মাদরাসার ভিতরের কক্ষে কোমলমতি ছাত্রী ও অভিভাবকদের আটক রেখে মাদরাসা কক্ষে তালা লাগিয়ে দেয়। আমি নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করে আসছি। তার এইসকল কর্মকান্ড জানতে চাইলে মুক্তা মনি জানান বাড়ির মালিক আমি। আমাকে ভাড়া দিতে হবে। প্রকৃত পক্ষে আমি চুক্তিপত্রের মাধ্যমে ভাড়া নিয়েছি তার স্বামী ইয়াকুবের কাছ থেকে। সে মোতাবেক ইয়াকুবের কাছে নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করে আসছি। পরবর্তীতে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় তালা খুলে ছাত্রী ও অভিভাবকদের উদ্ধার করা হয়। একই দাবীতে আবারো গতকাল বুধবার মুক্তা মনি মাদরাসা কক্ষে তালাবদ্ধ করে দেয়। এই ঘটনায় বাড়ির মালিক ইয়াকুবের প্রথম স্ত্রীর মেয়ে ইয়াসমিন টঙ্গী থানায় অবগত করেন। তাদের পারিবারিক দ্বন্দ্বে আমার প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুন্নসহ বর্তমানে ভয়ে ও আতঙ্কে আছি।

এ বিষয়ে বাড়ির মালিক ইয়াকুবের মেয়ে ইয়াসমিন আক্তার জানান, আমার মা মারা যাওয়ার পর বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। আমার সৎ মায়ের সম্পত্তির লোভ লালশায় বাবাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। এমনকি গতকাল বুধবার সৎ মায়ের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দ্বারা আমাদের এক ভাই ও দুই বোনকে ব্যাপক মারধর গুরুতর আহত করে বাসা থেকে টেনে হেঁছড়ে জোরপূর্বক বের করে দেয়। এ সময় আমাদের রুমে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাপয়সা লুট করে নিয়ে যায়। আমাদের আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী জানান, ইয়াকুবের দ্বিতীয় স্ত্রী চলাফেরা অনেকটা বেপরোয়া। বিভিন্ন সময় সে মধ্য রাত পর্যন্ত বাড়ির বাহিরে থাকে। এছাড়াও স্থানীয় কাউন্সিলর এর ছত্রছায়ায় এ সকল কর্মকান্ড চালিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর মো: সাদেক আলীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়টি আমি অবগত আছি। মাদরাসার মালিকের কাছে ইয়াকুবের স্ত্রী ভাড়া চাইলে তাকে ভাড়া না দিয়ে তার বড় মেয়ে ইয়াসমিন আক্তারকে ভাড়া পরিশোধ করেছে। এই কারণে তালাবদ্ধ করেছে বলে আমি জানি।

অপরদিকে এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইয়াকুবের দ্বিতীয় স্ত্রী মুক্তা মনির সাথে মুঠোফোনে জানান, মাদরাসা তালা দেয়ার বিষয়টি সত্য। আমার স্বামী ইয়াকুব আমার দুই সন্তানের নামে ২০১৩ সালে এই বাড়িটি দলিল করে দিয়েছে। বর্তমানে আমার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছি। সে ১৯দিন যাবত পলাতক। ভাড়াটিয়া মাদরাসার পরিচালককে আমার কাছে ভাড়া পরিশোধ করার কথা বলেছিলাম। গত ডিসেম্বর মাসের ভাড়া চলতি মাসের ১০তারিখে আমাকে দেয়ার কথা থাকলেও সে ইয়াকুবের নির্দেশে তার প্রথম স্ত্রীর মেয়ে ইয়াসমিনের কাছে পরিশোধ করে। আমি তালা দিয়েছি, আবার খুলে দিয়েছি, তবে আবারো তালা দিব। সে খুব চালাকি করিতেছে। তার খুব খারাপ হবে।