টাঙ্গাইল-২ আ’লীগ নেতা সাংসদ ছোট মনিরের নামে দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

বছরের বেশিরভাগ সময় বিদেশ সফরের নামে ঘুরাঘুরী, অস্ত্র ব্যবসায়ী এবং চোরা কারবারির অভিযোগ উঠেছে, বালুর গদিসহ পরিবহন লাইনে তার মদদে চাঁদাবাজির মেলা বসেছে, টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর), ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে প্রশাসন, সাংবাদিক, সুশিল সমাজ নিশ্চুপ থাকার কারনে উন্নয়ন শূণ্যের কোঠায়, বর্তমানে টাঙ্গাইল ভূঞাপুরে বানবাসী মানুষের আর্তনাদে সাড়া দেশের টনক নড়লেও ছোট মনিরের ভূমিকাহীন কর্মকান্ডে সবার মধ্যে হতাশার ছবি ফুটে উঠেছে

 

দুলাল হোসেন চকদারঃ

২০১৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দরে জার্মান থেকে আসা মোঃ মনির বিন আলী ও আনিসুল ইসলাম তালুকদার নামক দুই ব্যক্তি পিস্তল নিয়ে গ্রেফতার হন। তৎসময়ে নামে নামে জমে টানে এই বিষয়টিকে দামা চাপা দেয়।

 

মিডিয়াকে জানায় এ ব্যাপারে কাস্টমস কর্মকর্তা বাদী হয়ে বিমান বন্দর থানায় একটা মামলা হয়। বিমান বন্দরে জার্মান প্রবাসী দুজনের গ্রেফতারের পরই বর্তমান সাংসদ ছোট মনিরের ভাই জানায়, গ্রেফতারকৃত একজনের নাম মনির, এই মিলকে পুঁজি করেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, অনলাইন নিউজ পোর্টালে, ও টেলিভিশনে আমাদের দু’ভাইকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করছে একটি মহল।

 

বর্তমান এলাকার জনগণ বলছে, আসল খবর আমরা জানি, শুধু প্রকাশ করিনা জীবনের ভয়ে, যে লোকগুলো ধরেছিল তারাও জার্মানের আর সাংসদ ছোট মনির এবং তার ভাইও তখন জার্মান থাকে। এখন তিনি এতো বিদেশে থাকেন কেন, টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) এ উন্নয়নের কোন ছোয়া পড়েনি কেন, তার নিজ উদ্যোগে কোন কাজ নেই ভূঞাপুরে, রাস্তায় খানা-খন্দ আর বড় বড় গর্ত বুঝিয়ে দেয় দায়িত্বশীল ছোট মনিরের অবহেলা আর অবজ্ঞতার প্রতিচ্ছবি।

 

একটি অনলাইন সংবাদপত্রে এবং একটি বেসরকারী টেলিভিশনের টকশোতে জেলা আওয়ামীলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক তানভীর হাসান ছোট মনির ও তার বড় ভাই গোলাম কিবরিয়া (বড় মনির) অস্র ব্যবসায়ী এবং চোরা কারবারি সহ নানা রকম সমালোচনা করে। যদিও ঐ সময় সাংবাদিক সম্মেলন করে এসবের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন হয়েছিল। সংবাদ সম্মেলনে জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র জামিলুর রহমান মিরন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আনসারী, টাঙ্গাইল এ্যাডভোকেট বার সমিতির সাবেক সভাপতি বড় মনির ও ছোট মনিরের বাবা আব্দুল গফুর, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রৌফ রোকন, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মাহমুদ তারেক পুলু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

কয়লা ধুলেও ময়লা যায় না, যমুনা নদী আর ছুটে চলা স্রোতে সৃষ্ট ছোট নদ ও বড় খালের অনেক জায়গায় বসেছে বালুর গদি, এসব গদি থেকে রাত-দিন চলছে বালুর উত্তোলন, সারী সারী শত-শত ট্রাকের লাইনে চলে যাচ্ছে বালু শহর থেকে শহরে, এই বালু বাণিজ্যের রাজ্যকে কেন্দ্র করে হাজার – হাজার খেটে খাওয়া মানুষ বেঁচে আছে। কিন্তু এখানেও টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) এর বর্তমান সাংসদের ব্যর্থতা, এসব কাজকে সুন্দর ভাবে আঞ্জাম দেওয়ার পরিবর্তে তার লেলিয়ে দেয়া ক্যাডার বাহিনীর দৌরাত্মে বসেছে চাঁদাবাজির হাট। প্রতি ট্রাক প্রতি টাকা, বালুর গদিতে টাকা, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে টাকা, চাঁদাবাজির ধুম পড়েছে এসব এলাকায় এমনটাই দাবী সংশ্লিষ্ট বালু ব্যবসায়ীদের একাংশের, নাম না জানাতে এসব লোক আরোও বলে শুধু বালু নয়, কারো কোন ব্যবসা ভালো চললেই এদের চাঁদা দিতে হবে, এমনকি এরা গরুর খামারকেও ছাড় দেয় না।

 

এদিকে টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসন থেকে নির্বাচিত সাংসদ ছোট মনির বলেছেন, বিগত দশ বছরে গোপালপুর উপজেলার টি আর- কাবিখার কয়েক হাজার টন চাল, গম ও নগদ টাকা কারা কিভাবে আত্মসাৎ করেছেন তার হিসাব নেয়া হবে। ছোট মনির বলেন, শেখ হাসিনা সরকার দেশকে দূর্নীতিমুক্ত ও উন্নত রাষ্ট্র বির্নিমানে কাজ করে যাচ্ছেন। একটি উপজেলার প্রতিবছর বিপুল পরিমান বাজেট আসে। কিন্তু গোপালপুরে সে বাজেটের টাকা ও অন্যান্য বরাদ্ধ অতীতে ঠিক মতো বন্টন বা উপযুক্ত কাজে ব্যবহার করা হয় নাই। এখন থেকে সরকারী বরাদ্ধের টাকা আর নয় ছয় করতে দেয়া হবেনা। কে চোর আর কে সাধু কেন দায়িত্বশীলরা এলাকার বাহিরে বিদেশ নিয়ে ব্যস্ত মূল ঘটনার আদিপাত্য নিয়ে আগামী পর্বে থাকবে বোম ফাটানো সংবাদ।

 

বর্তমানে টাঙ্গাইল ভূঞাপুরে বানবাসী মানুষের আর্তনাদ। উজান থেকে আসা পাহাড়ী ঢল ও টানা বর্ষনে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি ও ভাঙ্গন অব্যহত রয়েছে টাঙ্গাইল ভূঞাপুর উপজেলার অংশে। এতে করে উপজেলার গাবসারা, গোবিন্দাসী, অর্জুনা, নিক্রাইল ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্ধি রয়েছে। দুর্গতির শেষ নেই এলাকার মানুষের প্রশ্ন আমাদের সাংসদ ছোট মনির এখন কোথায়, এটা কি বিদেশ ঘুরার সময় নাকি অসহায় মানুষের পাশে দাড়ানোর সময়। তার কি মনে নেই এই মানুষগুলোই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডাকে সাড়া দিয়ে তাকে ভোট দিয়েছিল।

 

ভেবে দেখার অনেক কিছু আছে, অপরাধী যেই হোক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষনা দেশ হবে দূর্নীতিমুক্ত, কোন দলমত নয় মুখোশ খুলবে সে যেই হোক। আগে সোনার বাংলা, সাধু সাবধান।