ঢাকা ক্রেডিটের অবৈধ ব্যাংকিং কার্যক্রম সমবায় অধিদপ্তর নির্বিকার

 

আমেনা ইসলাম :

সমবায় আইন লংঘন করে অবৈধ ব্যাকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে দি খ্রিষ্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লি:( যা ঢাকা ক্রেডিট নামে সমধিক পরিচিত)। সমবায় সমিতি আইন ২০০১ (সংশোধিত ২০০২,ও ২০১৩) এর ২৬ ধারায় বলা হয়েছে- ”বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক ব্যতিত কোন সমবায় সমিতি উহার সদস্য ছাড়া অন্যকোন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে আমানত গ্রহন বা ঋণ প্রদান করতে পারবেনা”।

অথচ ঢাকা ক্রেডিট অসদস্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে আমানত গ্রহন ও ঋণ প্রদান করছে। আবার ঢাকা ক্রেডিটও অনেক অব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আমানত রাখছে। ঢাকা ক্রেডিটের বার্ষিক অডিট রিপোর্টে অবৈধ ব্যাংকিং সহ উঠে এসেছে নানা অনিয়ম দুর্নীতি। তথ্য মতে, সমবায় অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ ব্যাংক বারবার অবৈধ ব্যাংকিং কার্যক্রম তথা ব্আেইনি কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়া সত্ত্বেও কর্র্তৃপক্ষ তোয়াক্কা না করে ঠুনকো যুক্তি দেখানোর চেষ্টা করছেন। তবে তা বেআইনি হওয়ায় অডিট দল প্রত্যাখ্যান করেছে।

এছাড়া সমবায় সমিতি আইন -২০১৩ (সংশোধন) এর ১৮(১) ধারা ভঙ্গ করে অনেকগুলো শাখা কার্যালয় পরিচালনা করছে ঢাকা ক্রেডিট। এসব শাখা কার্যালয়ের মাধ্যমেও আমানত সংগ্রহ ও ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।নাম দেয়া হয়েছে বুথ। অবৈধ ব্যাংকিং কর্মকান্ড অবাধে চললেও সমবায় অধিদপ্তর নির্বিকার। দেশের সকল সমবায় সমিতির অডিট সমবায় অধিদপ্তর করলেও ক্রেডিট ইউনিয়নগুলোর অডিট ক্ষমতা প্রদান করেছে দি কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লীগ অব বাংলাদেশ লি: ( কালব) কে। ঢাকা ক্রেডিট কালবের সদস্য হওয়ায় কালব অডিট করে। কালবের অদক্ষ, অস্বচ্ছ, জালিয়াতিপূর্ণ অডিটের কারনে সদস্য সমিতিগুলোর অনিয়ম দুর্নীতির প্রকৃত চিত্র পাওয়া যায় না।

ঢাকা ক্রেডিটের ক্ষেত্রে তাই ঘটেছে। নিয়ম অনুযায়ি বেআইনি আমানত ও ঋণের পরিমান কত, কোন কোন প্রতিষ্ঠানের আমানত ঢাকা ক্রেডিট গ্রহন করেছে ; বেআইনি ভাবে কোন কোন অব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানে ঢাকা ক্রেডিট আমানত রেখেছে- তার পুর্ণ বিবরণ থাকার কথা। কিন্ত কালবের অডিট রিপোর্টে সুস্পষ্ট কোন তথ্য পরিসংখ্যান, মন্তব্য, ব্যাখা, বিশ্লেষণ নেই। ঢাকা ক্রেডিটের ২০১৬-১৭ ও ১৭-১৮ অর্থ বছরের ২টি অডিট রিপোর্ট পর্যালোচনা করে একই চিত্র পাওয়া গেছে। এবিষয়ে কালবের অডিট দলের একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার একান্ত শর্তে বলেন, আমরা এখানে অসহায়।

ঢাকা ক্রেডিট কেন কালবের কোন সদস্য সমিতিই আমাদের আমলে নেয়না। সমবায় অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের তারা যেভাবে সমীহ করে সেভাবে আমাদের করেনা। তথ্য, উপাত্ত,বিল বাউচার যেভাবে চাওয়া হয় সেভাবে দেয়না। আবার সংশ্লিষ্ট সমিতির নেতৃবৃন্দ কালবের নেতাদের শরণাপন্ন হলে আমাদের বারাবারি না করার জন্যে নির্দেশ দেয়। তাছাড়া, অডিটের জন্যে কালবের পর্যাপ্ত দক্ষ লোকবল নেই। যে কারনে কালবের সদস্য সকল সমিতির অডিট রিপোর্টই দায়সারা গোছের হয়।

সমবায় অধিদপ্তর অডিট না করলে যথাযথ অডিট সম্ভব নয়। এ বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঢাকা ক্রেডিটের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলতে চাইলে বার বার তারা বিষয়টি এড়িয়ে যায়।

ঢাকা ক্রেডিট সহ কিছু সমবায় সমিতি আইন ভঙ্গ করে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যে কারনে সম্প্রতি সমবায় অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ ব্যাংক সংবাদ মাধ্যমে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এই ধরনের প্রতিষ্ঠানের সাথে লেনদেন করার ব্যাপারে জনসাধারণকে সতর্ক করেছে। অথচ লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছেনা এই সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলোর। সমবায় আইন বিধিমালা কিছুই তোয়াক্কা করছে না তারা।