দুর্নীতি, চুরি আর ভূলনীতিতে বাংলাদেশ রেলওয়ে

প্রকাশ : শুক্রবার, জুন ১৪, ২০১৯ অপরাহ্ণ ১:০৯

 

(দুর্নীতি, ষড়যন্ত্র আর ভূলনীতিতে রেল। দশ বছরে খরচ ৩২ হাজার কোটি টাকা, আয় নয় হাজার কোটি টাকা। এদিকে বেসরকারী রেলে আয় আছে সরকারীতে নেই। রেলের টিকিট কাটতে গেলে নাই নাই নাই অন্যদিকে সারাবছর ট্রেনে যাত্রীর অভাবও নাই। প্রশ্ন টাকা যায় কই?)

 

 

শের ই গুল :

 

রাহুমুক্ত হচ্ছে না সাধারণ মানুুষের সবচেয়ে সহজলভ্য যানবাহন রেলগাড়ি। বিশেষ করে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেলের উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা নেয়ার পরও আলোর মুখ দেখেনি এই সংস্থা। দেশীয় পরিবহন ব্যবসায়ীদের ষড়যন্ত্র, ভূল নীতি, দুর্নীতি আর অনিয়মের কারনে বিগত ও বর্তমান সরকারের নানা উন্নয়ন পরিকল্পনা বার বার মুখ থুবড়ে পড়ছে। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলা ও উদাসীনতার সুযোগে বাড়ছে সকল শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতা। উপড়-নিচ সবাই একই রকম বড়-ছোট পদমর্যাদা অনুযায়ী ঘুষ-দুর্নীতি আর চুরী সবাই সমহারে করার কারনে জবাবদিহীতা নাই।

 

 

মেরুদন্ডহীন অকালপক্ক সিস্টেমের কারনে গত দশ বছরে বাংলাদেশ রেলওয়ে খরচ করেছে ৩২ হাজার কোটি টাকা আর আয় করছে ৯ হাজার কোটি টাকা। বছরের পর বছর ধরে রেল লোকসানী খাত হয়ে থাকার পেছনে রয়েছে আরও অনেক কারন এর মধ্যে অব্যবস্থাপনা ও জনবল সংকট অন্যতম। স্বাধীনতার ৪৮ বছরে রেলের উন্নয়নে প্রায় পাঁচ শতাধিক প্রকল্পের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট পাট হয়েছে এখনো হচ্ছে। শুধু রেলকে সাজিয়ে গুছিয়ে তোলার স্বপ্ন দেখিয়ে নেয়া হয়েছে একের পর এক নানা পরিকল্পনা। এসব প্রকল্প ভবিষ্যতে কতটুকু বাস্তবায়ণযোগ্য হবে সেদিকে লক্ষ না রেখে শুধু পরিকল্পনার সম্ভাব্যতা যাচাই। পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর প্রকল্প কাজের নামে খরচ দেখানো হয়েছে প্রায় দু’ লক্ষ কোটি টাকা কিন্তু প্রকল্প অনুমোদন ও বাজেট বরাদ্দ পাওয়ার পরই থেমে গেছে সব দৌড়ঝাঁপ। অসাধু রেল কর্মকর্তা, কথিত কর্মচারী, নেতা আর ঠিকাদাররা মিলে প্রকল্পের টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছেন।

 

 

নিজেরাই বনে গেছেন কোটিপতি। রেলওয়ের জনপ্রিয়তা কাজে লাগাতে বর্তমান সরকার বন্ধ হয়ে যাওয়া রেল-লাইন নতুন করে চালু করেছে। খুলে দেওয়া হয়েছে বন্ধ হয়ে যাওয়া অনেক ষ্টেশন ও ট্রেন। নতুন রেলপথ নির্মিত হয়েছে। অনেক রেলপথ নির্মিত হচ্ছে। অথ্যাৎ সরকার রেলওয়ের উন্নয়ন ও সম্প্রসারনে যথেষ্ট আন্তরীক ও যতœশীল। কিন্তু এতো কিছুর পরও লোকসান থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না বাংলাদেশ রেলওয়ে। সরকারের আন্তরিকতার অভাব না থাকলেও রেলওয়ে লোকসান গুনছে কেন? সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ মহলের ধারণা, লুটপাট ও দুর্নীতির কারনেই বাংলাদেশ রেলওয়ে লাভের মুখ দেখতে পারছে না। আন্তনগর ও মেইল ট্রেন থেকে শুরু করে লোকাল ট্রেনেও যাত্রীর অভাব নেই। টিকিট পাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।

 

 

তারপরও কেন লোকসান গুনতে হবে। চট্রগ্রাম থেকে ঢাকা আসা মহানগর এক্সপ্রেসের একজন যাত্রী সালেহা সুলতানা নিনার সাথে আলাপকালে তিনি জানান, ¯িœগ্ধা বগিতে যাত্রী হয়ে একটু বাড়তি খরচে এসিতে আসলেও নিসতার পাওয়া যায়না অতিরিক্ত যাত্রীদের ভীর-বাট্টা থেকে, হুমরী খেয়ে পড়ে একজন আরেকজনের উপর। ট্রেনের দরজায় ঝুলে থাকে অনেকে, সেবাতো দূরে থাক সব সময় উল্টা টেনশন করতে হয় মান-সম্মান ব্যাগ নিয়ে সুস্থ শরীরে কখন গন্তব্যে পৌঁছা যায়। সারা দেশে রেলপথের কোন না কোন জায়গায় প্রতিদিন ট্রেনে কাটা পড়ে মানুষ লাশ হচ্ছে। রেলপথের দু-পাশের নির্দিষ্ট জায়গার মালিক রেলওয়ে। কিন্তু বস্তি ও রেল-লাইনের মাঝখানে বাজার বসলেও দেখার কেউ নাই।

 

 

অবিলম্বে, রেলের সকল প্রকার দুর্নীতি বন্ধ করার ব্যবস্থাগ্রহন করে দুর্নীতিগ্রস্থ কর্মকর্তা কর্মচারীদের চিহিৃত করে এই সংস্থাটিকে পরিপূর্ণভাবে নতুন আঙ্গিকে সাজিয়ে সুশাসন নিশ্চিত করতে পারলে বাঁচবে বাংলাদেশ রেলওয়ে, জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার সোনার সম্পদ বাংলাদেশ রেলওয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সাহসী ভূমিকায় মহা পরিকল্পনায় নতুন রুপে লাভের মুখ দেখবে দেশের অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখবে এই সংস্থাটি এমনটাই আশাবাদী সবাই।