(বিজ্ঞাপন সুপার ভাইজার আকরামুজ্জামান (রাজস্ব বিভাগ) অঞ্চল-১, সে শত প্রকার অপরাধ করেও রয়েছে অধরা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তাদের মুখোশ উন্মোচিত সংবাদ প্রকাশ হলে সাংবাদিকদেরকে ক্ষতি করার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র করছে আকরামুজ্জামানের নেতৃত্বে তার বহিরাগত টেন্ডুলগং।)

 

স্টাফ রিপোর্টার :

 

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব বিভাগ অঞ্চল-১ লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন বিভাগের আকরামুজ্জামানের দূর্নীতির বিরুদ্ধে কয়েক পর্ব সংবাদ প্রকাশ হলেও দায়িত্বশীলদের টনক নড়ছেনা। উল্টো তাকে বাঁচাতে কিছু সিটি কর্পোরেশনের অসাধু কর্মকর্তারা মরিয়া হয়ে উঠেছে। আকরামুজ্জামান ঘুষ নামক সোনার ডিম পাড়ে। এই ডিম থেকে ভাগ পায় সিটি কর্পোরেশনের বেশ কিছু ঘুষখোর কর্মকর্তারা। তারাই তাকে এই পদে বহাল রাখতে চালাচ্ছে উপর মহলে বিভিন্ন তদবীর। সিটি কর্পোরেশনের কর্মচারীরা আকরামুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় বিচারের আশায় বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ পাঠিয়েছে। কিন্তু এসব অভিযোগ অনেক টাকার বিনিময়ে আকরামুজ্জামান ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মেয়র আতিকুল ইসলাম দূর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা দিলেও দূর্নীতিবাজদের সাথে পেরে উঠছেন না বলে জানিয়েছেন সিটি কর্পোরেশনের চাকুরিরত সাধারণ কর্মচারীরা। সিটি কর্পোরেশনের প্রধান কার্যালয় থেকেই দূর্নীতির পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসছে কিছু অসাধু দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা। সরিষা খেতেই ভুত থাকলে সেই ভুত সহজে তাড়ানো সম্ভব নয়। কথায় আছে ছাগলের খুঁটির জোর না থাকলে ছাগল লাফাতে পারেনা। মোঃ আকরামুজ্জামান, পদবি- লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন সুপার ভাইজার, রাজস্ব বিভাগ, অঞ্চল-১, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০। তার দূর্নীতির বিরুদ্ধে দূর্নীতি দমন কমিশন সহ একাধিক গণমাধ্যম ও বিভিন্ন সরকারী দপ্তরে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা কর্মচারীরা আবেদন করলে বিষয়টি জনসম্মুখে প্রকাশ পায়।

কে এই আকরামুজ্জামান ? চাকুরিতে যোগদান করেন ১৫/৯/১৯৯০ সালে। যোগদানের সময়ে তার পদবী কি ছিল, গ্রহন ও বিতরণ সহকারি। আকরামুজ্জামানের যোগ্যতা এইচএসসি পাস। তদবির করে লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন সুপারভাইজার হিসাবে কর অঞ্চল ৪ মিরপুরে যোগদান করে। আবারো তদবির করে কর অঞ্চল -১ উত্তরায় জয়েন্ট করেছে ঐএকই পদে।এখানে স্থায়ী হওয়ার জন্য উপর মহলে দৌঁড়ঝাপ করছে বলে গোপন সুত্রে জানা যায়।এ ব্যাপারে লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন সুপারভাইজার আকরামুজ্জামান কে মুঠো ফোনে তথ্য জানতে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানায় আমার অফিসের পিয়ন সমশের আলী আমার বিরুদ্ধে তথ্য দিচ্ছে বলে তিনি প্রতিবেদকে জানায়। আপনি কয়েক দিন আগে একজনকে লাইসেন্স দিবেন বলে ১৬ হাজার ৫শত টাকা ঘুষ নিয়েছেন জানালে ঝটপট উত্তর দেয় এগুলো শমসের জানে। বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ওয়াস রুমে যাবো বলে ফোন কেটে দেয়। সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন ঘাটে চাকরি করে দূর্নীতির স্ট্রীম রোলার চালিয়ে পুরান ঢাকা নারিন্দা সহ রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক এলাকা ও রংপুরে গড়ে তুলেছে সম্পদের পাহাড়। লাইসেন্স প্রতি দেড় হাজার টাকা থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিয়ে থাকে আকরামুজ্জামান। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন কর্মকর্তা আকরামুজ্জামানের রয়েছে পেটুয়া বাহিনী।

তাদের মধ্যে অন্যতম এমদাদুল হক, এজাবুল হক, মোঃ রতন, রনি, এর সবাই আকরামুজ্জামানের রুম নং- ৪০৪ এ বসে। সিটি কর্পোরেশনের ভাষায় এদেরকে ডাকা হয় টেন্ডুল। এরা সরকারী চাকুরি না করলেও বহাল তবিয়তে সরকারী দপ্তরে বসে সিটি কর্পোরেশন কর্মকর্তাদের পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে জনগণের মাথায় কাঠাল ভেঙ্গে খায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই টেন্ডুল বাহিনীকে প্রতিদিন খাওয়ানোর জন্য রাখা হয়েছে কয়েকজন কাজের বুয়া। স্থাপন করা হয়েছে গ্যাসের চুলা। সিটি কর্পোরেশনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা সংবাদের প্রতিবেদককে জানায়, খোদ সরকারী অফিসে চলছে অবৈধ গ্যাসের লাইন। ০৩/১২/২০২০ কর কর্মকর্তা অঞ্চল-১ এর স্বাক্ষরিত সিটি কর্পোরেশনের প্যাড যার প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা দপ্তরের স্মারক নং ৪৬.১০.০০০০.০২২.৯৯.৫৬১.২০২০.৮৩. তাং- ১৬/১১/২০২০ ইং যার বিষয় থাকে রাজস্ব বিভাগের আঞ্চলিক কার্যালয়ে/ বাজার শাখায় কর্মরত কতিপয় কর্মকর্তা/ কর্মচারী অর্পিত দায়িত্ব পালন না করে বহিরাগত লোকদেরকে দিয়ে দায়িত্ব পালন করার অভিযোগ প্রসঙ্গে। এই পরিপন্থি কাজের প্রমাণ পাওয়া গেলে এর দায়িত্ব তাকেই বহন করতে হবে।

এসব বিষয় নিয়ে মুঠোফোনে আকরামুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে সে প্রতিবেদককে অফিসে আসার আমন্ত্রণ জানিয়ে বলে আমি এখন নামাজে দাঁড়াচ্ছি কালকে অফিসে আসেন তখন কথা বলবো। দূর্নীতি পরায়ণ কু-চক্রী মহলের কাছে জিম্মি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন। মেয়র আতিকুল ইসলাম ভালো মানুষ হলেও তার চোখে ধুলো দিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র চালিয়ে যাচ্ছে দূর্নীতির ষ্ট্রীম রোলার। মেয়র আতিকুল ইসলাম ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনকে দূর্নীতি মুক্ত করার লক্ষ্যে অনেক ব্যবস্থা নিলেও সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি স্তরে স্তরে দূর্নীতির মাস্টার মাইন্ডরা হুতুম প্যাঁচা সেজে বসে আছে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উত্তরা অঞ্চল-১ এর লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন কর্মকর্তা মোঃ আকরামুজ্জামানের বিরুদ্ধে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে তাদের বিরুদ্ধে দূর্নীতির তদন্ত করে তাকে চাকুরিচ্যুত করার জন্য আবেদন করেছেন সিটি কর্পোরেশনের কর অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। কর অধিদপ্তরের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দাবী তার বিরুদ্ধে দূর্নীতি দমন কমিশন সহ বিভিন্ন গোয়েন্দা অধিদপ্তর তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে দূর্নীতির বিশাল চিত্র।

সম্পূর্ণ উত্তর সিটি কর্পোরেশনটি আকরামুজ্জামান এবং তার লালিত বাহিনী কুক্ষিগত করে রেখেছে। বাসা থেকে আসার সময় আকরামুজ্জামান দামী গাড়ীতে এসে আজমপুর নেমে যায়। রিক্সায় বাকীটা পথ অফিসে গিয়ে মানুষকে বোঝায় সে ভাজা মাছটি উল্টে খেতে জানেনা। প্রতিদিন তার অবৈধ আয় কমপক্ষে কয়েক লক্ষ টাকা। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়া সহ চেয়ারম্যান দূর্নীতি দমন কমিশন, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্চল ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ডিএনসিস, উপপ্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন বরারব আবেদন করা হয়েছে, অঞ্চল-১ এর ঘুষখোর, দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা আকরামুজ্জামানের দূর্নীতি তদন্ত করে চাকুরিচ্যুত করে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন কলঙ্ক মুক্ত হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র কিছু জানেনা বলে জানা যায়। তিনি সিটি কর্পোরেশনকে দূর্নীতি মুক্ত করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও এসব দূর্নীতিবাজদের কারণে তার সকল সুন্দর চেষ্টা গুলো মুখ থুবড়ে পড়ে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের সোপানে কোন দূর্নীতিবাজ ঘুষখোরদের স্থান নেই। আগে সোনার বাংলা পরে অন্যসব। সাধু সাবধান।
 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here