দেশে এতো ধর্ষন কেন আবহাওয়া কি ধর্ষনের অনুকুলে

 

(বাংলাদেশের আইনের দূর্বলতায় পার পেয়ে
যাচ্ছে ধর্ষনের আসামী! জনসচেতনতা আর ধর্মীয়
মূল্যবোধের অবক্ষয়, মাদক আর মোবাইলের
অপব্যবহারে দেশজুড়ে ধর্ষনের হাট বসেছে)

 

শের- ই গুল:

 

জাতীয় সংসদে গোপালগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ শেখ ফজলুল করিম সেলিম ধর্ষনকারীদের ফাঁসির আইন চেয়েছে যা বর্তমান পেক্ষাপটে সময়ের দাবি এবং তার এ শ্লোগান সারা দেশ ব্যাপি কার্যকরী শ্লোগানে মুখরিত সারা দেশ। ১০০ দিনেই শিকার ৪৯৬ নারী ও শিশু নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সমাজে ধর্ষন বাড়ছে বাংলাদেশে।

 

বেসরকারি সেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিবেদন এবং পুলিশের তথ্যে তার প্রমাণ মিলছে। বিশ্লেষকরা বলছেন এর জন্য আইনের প্রয়োগে ঢিলেমি এবং সামাজিক অবস্থা কাজ করছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওয়াল স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে  (ওসিসি) সারা দেশ থেকে গড়ে প্রতিদিনই গড়ে চার পাচঁজন নারী-শিশু ধর্ষনের শিকার হয়ে চিকিৎসা নিতে আসছেন। আর প্রতিমাসে দেড় থেকে দুই শতাধিক ধর্ষিতাকে চিকিৎসা দিচ্ছেন তারা।

 

দেশের অন্যান্য হাসপাতালে এবং চিকিৎসা কেন্দ্রে যারা চিকিৎসা নেন তাদের হিসাব নেই ওসিসির কাছে। চিকিৎসার বাইরে যারা থাকেন, সামাজিক লজ্জায়, যারা ঘটনা প্রকাশ করেন না, তাদের হিসাব পাওয়ার কোন সুযোগ নেই। ধর্ষন আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি। ধর্ষনসহ নানাবিধ নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে একটা সময় মানুষ খুব একটা সচেতন ছিলো না বললেই চলে। তাই নারীরা সবসময় বঞ্চিত হতেন নায্য বিচার পাওয়া থেকে। তবে এখন আর কেউ ঘুমিয়ে নেই। সময়ের সাথে সাথে আমরা যতটা সচেতন হয়েছি। তেমনি দেশের আইন-কানুনও অনেক বদলে গেছে।

 

যুগে যুগে দেশের ক্রান্তিকালে কোন মহামারির ঘটনায় কেউ না কেউ হাল ধরে তেমনি জাতীয় সংসদে গোপালগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম ধর্ষনকারিদের ফাসি আর মৃত্যুদন্ডের আইন করার প্রস্তাবে দেশ জুড়ে তার সেনাগণকে স্বাগত জানিয়ে দেশ জুড়ে ধর্ষন প্রতিরোধের একটি অবকাঠামো অবস্থানে হয়ত পাক হানাদারদের উত্তরসূরি নর পিচাশ ধর্ষনকারী অপতৎপরতা বন্ধ হবে, ধর্ষন বন্ধ না হওয়ার করন বিশ্লেষকরা মনে করছে- একমাত্র বাংলাদেশের আইনের দূর্বলতার পার পেয়ে যাচ্ছে ধর্ষনে আসামী জনসচেতনতা , সামাজিক মূল-ধর্মীয় শিক্ষার অবক্ষয়ে বাংলাদেশের আবহাওয়া ধর্ষনের অনুকুলে।

 

মাদক আর মোবাইলের অশ্লিল অপশন এই কু-কর্মকে আরো তরান্বিত করছে বলে মনে করে অনেকেই। ধর্ষন ও নারী নির্যাতনে নজিরবিহীন রেকর্ড এখন দেশ জুড়ে। হঠাৎ যেন বাংলাদেশের আবহাওয়ায় ধর্ষককারীদের পাশবিক প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়েছে। একের পর এক ধর্ষন ও যৌন সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও কোন ভাবেই যেন এর লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। বিকৃত রুচির একশ্রেণির মানুষের বিকৃতি থেকে রেহাই পাচ্ছে না কোমলমতি শিশুরাও। ঘরে বাইরে সর্বত্র নারী ও শিশুর জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠেছে।

 

 

সারা দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমনের মামলা হয়েছে ১ হাজার ১৭৯ টি হত্যা মামলা হয়েছে ৪২৫টি, সারা দেশে ৯৭ শিশু ধর্ষন চেষ্টা ও যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। শিশু ধর্ষনের ঘটনায় শিশুর শারীরিক মানসিক ও সামাজিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। একমাত্র কঠিন আইন আর এর সুষ্ঠ ব্যবহার জনসচেতনা, প্রকৃত ধর্মীয় শিক্ষা বন্ধ করতে পারে ধর্ষন।