(করোনাভাইরাস মহামারির অভিঘাত এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের কারণে বিশ্বজুড়ে মন্দা ও দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে শঙ্কায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অন্যদিকে বিশিষ্ট্য রাজনীতিবিদদের অভিমত কোভিট-১৯ এবং যুদ্ধের প্রভাবের পাশাপাশি দেশের অস্থিতিশীল রাজনীতি অতিরিক্ত দূর্নীতি এবং অর্থ পাচার বর্তমান বাংলাদেশের মন্দার অন্যতম কারণ।)

 

শের ই গুল :

 

বিশ্বজুড়ে মন্দার পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। বিশ্বের বড় সংস্থাগুলোও মন্দার আশঙ্কা করছে। সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) বিশ্বের বিভিন্ন সরকারি–বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান অর্থনীতিবিদের নিয়ে মতামত জরিপ করেছে। সেখানে ৭৩ শতাংশ অর্থনীতিবিদ মত দিয়েছেন, ২০২৩ সালে মন্দা হতে পারে। তাঁদের মধ্যে ৬৪ শতাংশ মন্দার আশঙ্কা করেছেন। বাকি ৯ শতাংশ শক্তিশালী মন্দার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

অনেক পাঠকের মন এখন নিশ্চয়ই প্রশ্ন জাগতে পারে, মন্দা কী? অর্থনীতিবিদদের মতে, কোনো দেশে পরপর দুই প্রান্তিকে অর্থনীতি তথা মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) সংকুচিত হলে সেটাকে মন্দা বলা হয়। কয়েক মাস ধরেই বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে ব্যাপকভাবে মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে। অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, গত চার দশকে সে দেশে এমন মূল্যস্ফীতি দেখা যায়নি।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টানা কয়েকবার নীতি সুদহার বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ। এরপরও যেভাবে জিডিপি সংকুচিত হচ্ছে, তাতে নাগরিকদের অনেকেরই ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি মন্দার দিকেই এগোচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে কোটি কোটি মানুষের কর্মসংস্থানে। ছোট বড় কিংবা উন্নত-অনুন্নতনির্বিশেষে বিশ্বের বহু দেশ এখন প্রবল অর্থনৈতিক সংকট ও মন্দার ঝুঁকিতে রয়েছে। বাংলাদেশেও চলছে মন্দা অবস্থা। দ্রব্যমূল্যের উর্ধŸগতি মানুষের স্বাভাবিক বেঁচে থাকার স্থানকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। প্রতিদিন পূর্বের অবস্থার চেয়ে আরো বেশি অবনতি হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘কোনটা আমার এখনই প্রয়োজন, সেগুলো আমরা করব। আর যেগুলো এখনই প্রয়োজন নেই, সেগুলো একটু ধীরগতিতে করব। যেন আমাদের অর্থনীতির ওপর চাপটা না আসে।’ কোভিড-১৯ মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধপরবর্তী পরিস্থিতিতে সারা বিশ্বেই মন্দা আসতে পারে জানিয়েও সতর্ক করেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, দেশের অর্থনীতির গতি সচল রাখতে যেসব প্রকল্প অতি প্রয়োজনীয়, সেগুলোই কেবল চালিয়ে যাওয়া হবে। যেসব প্রকল্প এখনই না করলেও চলে, সেগুলো বাস্তবায়নে ধীরে চলার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। খাদ্য ও জ্বালানি আমদানিতে আগের চেয়ে বেশি বিদেশি মুদ্রা খরচ করতে হওয়ায় রিজার্ভে পড়েছে টান। আর ডলারের বিপরীতে টাকার মান ক্রমেই কমছে। এতে আমদানি পণ্যের দাম আরও বেড়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার জোর দিচ্ছে কৃচ্ছ্রতাসাধনে।

সরকারি কর্মকর্তা, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকুরেদের বিদেশ সফরে দেয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা, বিলাসপণ্য আমদানিতেও না করে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি আমদানিনির্ভর প্রকল্পও বেছে বেছে করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এবং মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার কারণে বৈশ্বিক মন্দা পরিস্থিতি ও আমদানি নির্ভরতাকে দায়ি করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

এ জন্য সবাইকে সাশ্রয়ী ও মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে দেশের বিশিষ্ট্য খ্যাতিমান রাজনীতিবিদরা বলেছেন, কোভিড-১৯ এবং যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশে পড়লেও এই পরিস্থিতিকে আরোও বেশি সংকটের মধ্যে ফেলেছে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, দূর্নীতিবাজদের বেসুমার লুটতরাজ, দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করা, আবার মূল্যস্ফীতির তুলনায় মজুরির হার না বেড়ে বরং কমে যাওয়ায় অনেক দেশেই জনগণের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে বলেও জানায় তারা। ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের চাপ তো আছেই। এর ওপর মার্কিন ডলারের বিপরীতে নিজেদের মুদ্রার বিনিময় হারে ধস নামার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা মজুত ব্যাপক হারে কমে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে বহু দেশ।

বৈদেশিক ঋণ লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে শ্রীলঙ্কার মতো বিশ্বের অনেক দেশের অর্থনীতিতেই এখন টালমাটাল অবস্থা শুরু হয়েছে। এর ওপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিতে গিয়ে সরকারগুলো কিছু ভুল করবে, যা তাদের অর্থনীতিতে স্বস্তির পরিবর্তে বিপদ ডেকে আনতে পারে। সব মিলিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আরও একটি মন্দা ধেয়ে আসছে বলে মনে করা হচ্ছে। জাপানের আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নোমুরা বলেছে, বিশ্বের বড় বড় অনেক অর্থনীতি মন্দায় পড়বে। এর আগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা কঠোর করতে গিয়ে কিছু ভুল করে বসবে, যা কিনা সংকট-মন্দা ত্বরান্বিত করতে পারে। সংকট-মন্দার ঝুঁকিতে থাকা উল্লেখযোগ্য উন্নত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা। ঋণ সংকটের কারণে অর্থনৈতিক মন্দায় পড়তে পারে আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডর, মিসর, এল সালভাদর, ইথিওপিয়া, ঘানা, কেনিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, তিউনিসিয়া, ইউক্রেন, বেলারুশ, লেবানন, রাশিয়া, সুরিনাম ও জাম্বিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দিলে এর প্রভাব পড়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে।

যেমনটা দেখা গিয়েছিল ২০০৮-০৯ সালে। তখন আবাসন খাতের বন্ধকি ঋণের সংকট থেকে দেশটিতে ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেয়, যা দ্রুতই বিশ্ব অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়ে। তাই এবারও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে মন্দা দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিটির পর যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিও বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। বর্তমান প্রান্তিকে অর্থনীতি সংকুচিত তথা নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হলেই মন্দায় পড়ে যাবে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিগুলোর একটি যুক্তরাজ্য। বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটিতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ। তবে ওই প্রান্তিকের শেষ মাস, অর্থাৎ মার্চে সে দেশের অর্থনীতি শূন্য দশমিক ১ শতাংশ সংকুচিত হয়েছিল।

এরপর এপ্রিলেও অর্থনীতি সংকুচিত হয়। তখনই ধারণা করা হয়েছিল, বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি অনেকাংশে সংকুচিত হবে। চলমান নীতি সমর্থন ও বিলম্বিত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার মধ্যে জাপানে মৃদু মন্দা দেখা দিতে পারে। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে শূন্য কোভিড নীতিসহ সংকুলানমূলক নীতিমালা গ্রহণ করে চীন মোটামুটি নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে বটে, তবে দেশটি এখনো লকডাউন বা বিধিনিষেধের ঝুঁকিতে রয়েছে। গভীর সংকটের ঝুঁকিতে আরও যেসব দেশ- মার্কিন ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রার বিনিময় হার ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা মজুত ব্যাপক হারে কমে যাওয়া, বৈদেশিক ঋণ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেও অনেক দেশ এখন গভীর অর্থনৈতিক সংকট-মন্দার ঝুঁকিতে রয়েছে। এগুলো বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডর, মিসর, এল সালভাদর, ইথিওপিয়া, ঘানা, কেনিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, তিউনিসিয়া, ইউক্রেন, বেলারুশ, লেবানন, সুরিনাম ও জাম্বিয়া।

রাশিয়ান রুবল ও ব্রাজিলের রিয়েল ছাড়া বিশ্বের আর প্রায় সব মুদ্রার বিপরীতেই এ বছর মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বেড়েছে। এখন বহু দেশের স্থানীয় মুদ্রার বিপরীতে মার্কিন ডলারের দাম বিগত দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। ডলারের ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন দেশকে আন্তর্জাতিক বাজারে, অর্থাৎ আমদানি ব্যয় পরিশোধে বেশি পরিমাণে অর্থ ঢালতে হচ্ছে। কারণ, বেশির ভাগ মুদ্রার ক্রয়ক্ষমতা তলানিতে নেমে গেছে। এতে দেশগুলোয় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে টান পড়ছে।

ফলে অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা জোরালো হয়ে উঠছে। রয়টার্সের মতে, বৈদেশিক ঋণ নিয়ে সংকটের কারণে রেকর্ডসংখ্যক উন্নয়নশীল দেশ বর্তমানে অসুবিধার মধ্যে রয়েছে। কারণ, বেশ কয়েকটি দেশে এখন শ্রীলঙ্কার মতো অর্থনৈতিক অস্বস্তি পরিলক্ষিত হচ্ছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রধান বলেছেন, শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকট উচ্চ ঋণসহ অন্যান্য দেশগুলোর জন্য সতর্কতার ইঙ্গিত। ঋণ পরিশোধের ক্রমবর্ধমান চাপ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি—সবই অর্থনৈতিক পতনের লক্ষণ। শ্রীলঙ্কার মতো লেবানন, রাশিয়া, সুরিনাম ও জাম্বিয়া ইতিমধ্যে ঋণখেলাপি হয়ে পড়েছে। ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধের পরিস্থিতিতে রাশিয়ার পক্ষ নিয়ে বেলারুশ ইইউর নিষেধাজ্ঞায় পড়ে খেলাপি হওয়ার পথে আছে।

এছাড়া আরও অন্তত এক ডজন দেশ ঋণখেলাপি হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ২০০৭ ও ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের সময় এবং এমনকি মহামারিতেও বাংলাদেশ মন্দার মুখোমুখি হয়নি। কিন্তু বর্তমানে দেশের অর্থনীতি বিভিন্ন কারণে চাপের মধ্যে পড়েছে। জুলাই থেকে মার্চের মধ্যে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি সর্বকালের সর্বোচ্চ ২৪ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে আমদানি পরিশোধ বছরে ৪৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে। ১১ মে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। উচ্চতর আমদানি অর্থপ্রদান এখন রিজার্ভ আরও কমিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে। রেমিট্যান্স চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে ২১ দশমিক ৫৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এ বছর বাংলাদেশ ব্যাংক ৪ বার মার্কিন ডলারের বিপরীতে মুদ্রার অবমূল্যায়ন করলেও টাকার বিনিময় হার অস্থিতিশীল। মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৬ দশমিক ২২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ১৭ মাসে সর্বোচ্চ। একমাত্র উৎসাহব্যঞ্জক অর্থনৈতিক সূচক হল রপ্তানি আয়। এটি এখন পর্যন্ত দুর্দান্ত। জুলাই থেকে এপ্রিলের মধ্যে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৩৫ দশমিক ১৪ শতাংশ।

সরকারও এ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। বুধবার সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর বন্ধ করার সিদ্ধান্ত এবং কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে এটি স্পষ্ট হয়ে উঠে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেছেন, পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২২ সালের শেষের দিকে মন্দা হবে এবং জ্বালানির জন্য রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল বেশিরভাগ ইউরোপীয় দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ‘যেহেতু বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার ইউরোপের ওপর অতি নির্ভরশীল, ফলে ইউরোপে মন্দা দেখা দিলে দেশের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে’, যোগ করেন তিনি। পশ্চিম ইউরোপে স্বল্প দক্ষ শ্রমের চাহিদা বেড়েছে এবং অনেক বাংলাদেশি সেই সুযোগ ব্যবহার করছেন। এ বিষয়টিও প্রভাবিত হতে পারে। জেনেভায় আন্তর্জাতিক শ্রম অফিসের কর্মসংস্থান খাতের সাবেক বিশেষ উপদেষ্টা রিজওয়ানুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী আরেকটি মন্দা আঘাত হানুক বা না হানুক, মার্কিন প্রবৃদ্ধি ইতোমধ্যেই থমকে গেছে। চীনও চাপের মুখে আছে কোভিডের কারণে। ইউরোপে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কার্যত শূন্য। তাই, বিশ্ব অর্থনীতির প্রধান ইঞ্জিন যে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, তাতে সন্দেহ নেই।’

যুক্তরাষ্ট্রে জানুয়ারি-মার্চ ত্রৈমাসিকে মোট দেশীয় আয় অপ্রত্যাশিতভাবে ১ দশমিক ৪ শতাংশ বার্ষিক গতিতে হ্রাস পেয়েছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ডিসটিংগুইশড ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে মন্দার আশঙ্কা বাড়ছে। ‘যদি আশঙ্কা বাস্তবে পরিণত হয়, তাহলে বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রভাবিত হবে’, মত দেন তিনি। সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান মনে করেন, আমদানিভিত্তিক পণ্যের উচ্চমূল্য এবং রপ্তানি পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রভাবিত হবে। প্রথমত, দেশে পণ্যের মূল্য বাড়তে পারে এবং দ্বিতীয়ত, রপ্তানি আয় কমে যেতে পারে। ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘যেহেতু বাংলাদেশ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কম দামি তৈরি পোশাক রপ্তানি করে এবং এগুলো মৌলিক চাহিদারই অংশ, তাই রপ্তানি খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত নাও হতে পারে।

তবুও আগামী বাজেটে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। তিনি অবশ্য উল্লেখ করেছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কাঁচামালের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রপ্তানি আয় বেড়েছে। ‘সুতরাং, যদি আপনি পরিমাণ এবং মান-সংযোজন বিশ্লেষণ করেন, তবে রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে খুব সন্তুষ্ট হওয়ার মতো কিছু নেই’, বলেন তিনি। সিপিডির মুস্তাফিজুর রহমান বিনিময় হার যুক্তিযুক্ত করা এবং সরকারি ব্যয়ে কার্যকারিতা আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। জাহিদ হোসেন একটি ভাসমান বিনিময় হারের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং রপ্তানিকে উৎসাহিত করার সুপারিশ করেন। রিজওয়ানুল ইসলাম যোগ করেন, ‘আমাদের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’ অধ্যাপক রায়হান সব সাপ্লাই চেইনের ত্রুটি দূর করার আহ্বান জানান, যাতে কেউ অনৈতিকভাবে লাভ করতে না পারে।

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here