নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

পদ্মা সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু করার পর থেকেই একপ্রকার চাপমুক্ত ছিলো দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট। তবে হঠাৎ করেই এই রুটে যাত্রীবাহী গাড়ির চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে চালক ও যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাটে ফেরির জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

রোববার (৯ অক্টোব) দুপুরে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ফেরি ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের প্রায় ২ কিলোমিটার অংশ জুড়ে যাত্রীবাহী পরিবহনের দীর্ঘ সারি রয়েছে। তবে পন্যবাহী ট্রাকের কোনো চাপ নেই।

ফেরি ঘাট সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দৌলতদিয়া পারে সাতটি ঘাটের মধ্যে তিনটি ঘাট দীর্ঘদিন ধরে বিকল রয়েছে। ৩ নম্বর ও ৪ নম্বর ফেরিঘাট জোড়াতালি দিয়ে চালছে। ৬ নম্বর ঘাটে রোরো (বড়) ফেরি থামানো হয় না। শুধুমাত্র ৭ নম্বর ফেরিঘাট স্বাভাবিকভাবে সচল রয়েছে।

এদিকে দুর্গাপূজা ও ঈদে মিলাদুন্নবীর টানা ছুটি শেষে কর্মস্থল মুখী হতে শুরু করেছেন মানুষজন। এতে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটের যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ পরেছে।

যাত্রীবাহী বাস সাকুরা পরিবহনের যাত্রী মেরা পাল বলেন, পটুয়াখালী থেকে নবীনগর যাওয়ার জন্য দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট দিয়ে এসেছি। কিন্ত ঘাটে এসে দীর্ঘ যানজটে থাকতে হচ্ছে।

তিনি আরোও বলেন, শুনেছি পদ্মা সেতু শুরু হওয়ার পর থেকে এই নৌরুটে কোন দুর্ভোগ নেই। কিন্ত ঘাটে এসে তার বিপরীত দেখতে পাচ্ছি।

রোজিনা আক্তার নামে এক নারী যাত্রী বলেন, ছয় মাসের শিশুকে নিয়ে গরমের মধ্যে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জানি না কখন ফেরিতে উঠতে পারবো। ঘাটে প্রায় দুই ঘণ্টা হলো অপেক্ষা করছি ফেরির জন্য। তবে কি কারণে এতো যানজট বুঝতে পারছি না।

যাত্রীবাহী বাস একে ট্রাভেলসের এক চালক বলেন, পদ্মা সেতু দিয়ে যানবাহন পারাপার শুরু হওয়ার পর থেকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরি ঘাটে কোনো দুর্ভোগ পোহাতে হতো না। তবে আজ কেন এত যানজট বুঝতে পারছি না।

বাংলাদেশ অভ্যঅন্তরীন নৌপরিবহন করপোরেশনের আরিচা নৌবন্দরের ব্যবস্থাপক শাহ খালেদ নেওয়াজ জানান, দূর্গা পুজার ছুটি শেষে অনেকে কর্মস্থল মুখী হচ্ছেন। যে কারণে হঠাৎ যাত্রীবাহী পরিবহনের চাপ দৌলতদিয়া ঘাটে পড়েছে। বর্তমানে এই নৌরুটে ছোট বড় মিলিয়ে ১২টি ফেরি চলাচল করছে।

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here