ধরা পড়ছে না মাছ, হতাশ জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা

প্রকাশ : বুধবার, মে ২৯, ২০১৯ অপরাহ্ণ ১২:৪১

মোঃ ইকবাল হোসেন:
গত দুই সপ্তাহ ধরে চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছের আকাল চলছে। মাছ না পাওয়ায় হাজার হাজার জেলে পরিবারের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। মাছ ঘাটগুলোতে ইলিশের আমদানী না হওয়ায় অলস সময় কাটাচ্ছে জেলে, বেপারী,চালানী, আড়ৎদার ও শ্রমিকরা। নদ-নদীর মাছের এই দুষ্প্রাপ্যতায় যে পরিমাণ মাছ হাটে, বাজারে এবং ঘাটে আসে তার দাম অস্বাভাবিক।
সাধারণ মানুষ পুকুর, ডোবা-নালা, ঝিলে এবং ভাসমান খাঁচায় চাষ করা বিভিন্ন হাইব্রীড মাছ তেলাপিয়া, পাঙ্গাস, রুই কাতলাসহ চাষের মাছ খেয়ে আমিষের চাহিদা মিটাচ্ছে। আর হতদরিদ্র পরিবারগুলোর আর্থিক দুরবস্থার কারণে পঁচা মাছই তাদের ভরসা। তবে ভারি বৃষ্টিপাত না হওয়ায় নদীতে নতুন পানি আসেনি। আর নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ার কারণে মাছের এই আকাল বলে জানিয়েছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আসাদুল বাকী। তিনি বলেন, গতবছর এপ্রিলের মাঝামাঝিতে প্রচুর বৃষ্টি দেখা গেছে। এবার এপ্রিল-মে চলে যাচ্ছে বৃষ্টিপাত নেই। সাগরে আবার মাছ ধরা বন্ধের অভিযান চলছে। তবে পানি বাড়লে মাছের দেখা মিলবে বলে আশা করেন তিনি।
জেলা মৎস্য অধিদপ্তর জানায়, এ জেলায় প্রায় ৫১ হাজারের উপরে নিবন্ধিত জেলে রয়েছে। এদের অধিকাংশই মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে। মতলব উত্তরের ষাটনল হতে লক্ষ্মীপুর জেলার চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত ১শ’ কিঃ মিঃ মেঘনা নদী এলাকায় মাছ শিকার করে থাকেন এখানকার জেলেরা। জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদনের লক্ষ্য গত মার্চ-এপ্রিল দু’মাস সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার ২৬ দিন পার হলেও জেলেদের জালে মিলছে না ইলিশ। আনন্দবাজার, কানুদী, সফরমালী, আমিরাবাদ, রাজরাজেশ্বরচর, ঈদগাহ ফেরিঘাট, আলুরবাজার, পুরাণবাজার, দোকানঘর, বহরিয়া, হরিণা, আখনেরহাট, হাইমচরের কাটাখালি, ঈশানবালা, চরভৈরবীসহ বিভিন্ন ঘাটে এবং প্রধান ইলিশ বাণিজ্য কেন্দ্র চাঁদপুর মাছঘাট পরিদর্শন ও বিভিন্ন সূত্রে খবর নিয়ে দেখা যায়, ঘাটে তেমন মাছ নেই বললেই চলে। জেলে ও আড়ৎদাররা অলস সময় পার করছেন। ঘাটের লেবাররাও বসে শুয়ে আড্ডা দিয়ে সময় পার করছেন আর মাছের আশায় আছেন।
এদিকে জেলেদের জালে ইলিশ মাছ ধরা না পড়ায় তারা চরম বিপাকে পড়েছে। অপরদিকে জেলেদের দাদন দিয়ে এখন বেকাদায় পড়ছে দাদন ব্যবসায়ীরা। মাছ ধরা না পড়ায় তারা মহাজনের দাদনের টাকা পরিশোধ করতে পারছে না। মাছ ধরা পড়ার খবর না থাকায় অনেক জেলে নদীতে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এতে মহাজনের দাদনের টাকা পরিশোধ নিয়ে তারা বিপাকে পড়েছে। বর্তমানে জেলেরা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। সামনে ঈদ। চরম দুশ্চিন্তায় আছেন জেলেরা। জাটকা নিধনের ফলে মাছের আকাল বলেও দাবি করেন তারা।
ইলিশের পাইকাররা জানান, এবার অভয়াশ্রমের সময় জাটকাসহ রিডা, পোয়া, শিলং, পাঙ্গাস, তপসী ও চিংড়ি মাছ যেই মিলে ধরা হইছে, মাছের সর্বনাশ হয়ে গেছে। এখন শুধুই হায় হুতাশ। শরীয়তপুরের চাষের মাছ আসায় ঘাটের অবস্থা কিছুটা টিকে আছে। এখন দেখার অপেক্ষা সামনের দিনগুলোতে মাছের আমদানী বাড়ে কিনা।
Attachments area