Amar Praner Bangladesh

ফকিরহাট ইউপি চেয়ারম্যান শিরিন আক্তার কিসলুর বিরুদ্ধে ব্যাপক দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে

 

 

মেহেদী হাসান নয়ন, বাগেরহাটঃ

 

বাগেরহাটের ফকিরহাট সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শিরিন আক্তার কিসলুর বিরুদ্ধে সরকারি টাকা আত্মসাৎ, চাঁদাবাজী, জমি দখল, চাকরি দেওয়ার কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া, সরকারি কাজ না করে টাকা আত্মসাৎ সহ ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

তার স্বামী মরহুম খান জাহিদ হাসানের মৃত্যুর পর শিরিন আক্তার কিসলু নিজেই বলেছিলেন প্রয়াত চেয়ারম্যান ব্যাংকে মাত্র ১২ হাজার টাকা রেখে গেছেন এবং খুলনায় নির্মাণাধীন ১টি দুই তলা বাড়ী। স্বামীর মৃত্যুর পর মৃত্যু শোক শেষ না হইতে তিনি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেন, জনগণ তার স্বামীর কারণে তাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেন।

তার পর থেকে তাকে আর পিছনে তাকাতে হয় নাই। স্বামীর মৃত্যুকে কাজে লাগিয়ে দলীয় পদ ফকিরহাট উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে মনোনীত হয়। কিন্তু দলীয় পদ পাওয়ার পর দূর্নীতি আরও বৃদ্ধি এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারনে এক পর্যায়ে তাকে দল থেকে বহিষ্কার হতে হয়।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, স্বামীর রেখে যাওয়া মাত্র ১২ হাজার টাকা থেকে দূর্নীতির মাধ্যমে এখন সে কয়েক কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। খুলনাতে করেছেন আলিশান বাড়ি, চড়েন দামী প্রাইভেটকারে, নামে বেনামে রয়েছে কয়েক কোটি টাকার ব্যাংক ব্যালেন্স।

ফকিরহাট উপজেলার আট্রকী বারাশিয়া গ্রামের মৃত শেখ আঃ করিম এর ছেলে শেখ হুমায়ুন কবির (রেজাউল) গত ২২/০২ /২০২২ ইং, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় একটি এবং বাংলাদেশ দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদকে) একটি দরখাস্ত প্রদান করেন।

দরখাস্তে তিনি উল্লেখ করেন, ৮ নং জাড়িয়া সিংগাতি ওয়ার্ড এর সাব সেন্টার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের ৭,০০,০০০ সাত লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শিরানা আক্তার কিসলু। গত ১৮/০৭/২০১৭ ইং চেয়ারম্যান সীল ও স্বাক্ষর করে ৭,০০,০০০ (সাত লক্ষ) টাকার চেক উত্তলন করেন।

উক্ত টাকা চেয়ারম্যান শিরানা আক্তার কিসলু ইউনিয়ন পরিষদের একাউন্টে জমা না করে নিজে ঐ টাকা আত্মসাৎ করেন।

এ ব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শিরিন আক্তার কিসলুর প্রতিবেদকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি এই টাকা মেরে খেয়েছি, সেই টাকা মেরে খেয়েছি, সবকিছু মেরে খেয়েছি, যে আমার নামে অভিযোগ দিছে তাকে আমার সামনা সামনি আসতে বইলেন। আর বিষয়টি জানানোর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

এলাকার সচেতন মহলের দাবি দ্রুত বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এই দূর্নীতিবাজ চেয়ারম্যানকে আইনের আওতায় আনা হোক।তাহলে একদিন ফকিরহাট সদর ইউনিয়ন পরিষদ হবে দূর্নীতিমুক্ত, অন্যদিকে পুরো উপজেলা হবে কলঙ্কমুক্ত এমনটাই প্রত্যাশা সচেতন মহলের।