ফতুল্লার সাব রেজিষ্ট্রার হায়দার আলী খানের বিরুদ্ধে দুদকে দূর্নীতির অভিযোগ

 

 

শুকতারা ইসলাম ঐশী :

ফতুল্লার সাব রেজিষ্ট্রার হায়দার আলী খানের দূর্নীতির বিরুদ্ধে দূর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ। কাজের সুবাদে বিভিন্ন কর্মস্থল থেকে অন্তত পঞ্চাশ থেকে ষাট কোটি টাকার স্থাবর অস্থাবর আয়ের অধিক অবৈধ সম্পত্তির মালিক হওয়ায় মোঃ আমিনুর ইসলাম ওরফে সোহেল ভূইঁয়া নামক এক ব্যক্তি বাদী হয়ে তথ্য অনুসন্ধান ও দুদক আইনের আওতায় ব্যবস্থার জন্য চেয়ারম্যান দুদকসহ, বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করে থাকলেও সাব-রেজিষ্ট্রার হায়দার আলী খানের বিরুদ্ধে কোন প্রকার আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

তার লিখিত অভিযোগ অনুসারে জানা যায়, দূর্নীতিবাজ সাব রেজিস্ট্রার হায়দার আলী খান দূর্নীতি করে আয়ের অধিক অবৈধ স্থাবর ও অস্থাবর ভূঞাপুর পৌর এলাকায় পৌরসভাধীন ঘাটান্দী মৌজায় ১০.৫০ শতাংশ ভূমি ৪২০০ স্কয়ার ফুট বহুতল ভবন নির্মাণ করিয়াছে। যাহার আনুমানিক মূল্য- দশ কোটি টাকা, ঘাটান্দী মৌজায় মীম শপিং মল নামক একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান করিয়াছে যাহার আনুমানিক মূল্য- দশ কোটি টাকা, ঘাটান্দী মৌজায় ১৩ শতাংশ ভূমি নিজ নামে ক্রয় করিয়া মীম মটর সাইকেল শো’রুম এর মটর সাইকেলের দোকান স্থাপন করিয়াছে যার মূল্য- পঁচিশ কোটি টাকা, শিয়ালকোল মৌজায় তাহার ভাইয়ের নামে ৮৪ শতাংশ ভূমিতে রাইচ মিল সহ ক্রয় করিয়া বর্তমানে মার্কেট নির্মাণ করিতেছে যাহার আনুমানিক মূল্য- দশ কোটি টাকা, শিয়ালকোল মৌজায় তাহার স্ত্রীর নামে ২১ শতাংশ ভূমি ক্রয় করিয়াছে যাহার আনুমানিক মূল- পঞ্চাশ লক্ষ টাকা, কলিহাতী উপজেলাধীন কুড়া মৌজায় মীম নামক একটি ইটের ভাটা করেছে যার মূল্য- দশ কোটি টাকা, এছাড়া সাব রেজিষ্ট্রার মোঃ হায়দার আলী তাহার নামে-বেনামে বিভিন্ন ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা জমা রাখিয়াছে।

দূর্নীতিবাজ সাব রেজিষ্ট্রার দুই কোটি টাকার দূর্নীতি করিয়া বর্তমানে কর্মস্থল নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা সাব রেজিস্ট্রার অফিসে বদলী হয়ে কর্মরত আছে। কর্মস্থলে দ্বায়িত্ব থাকাকালিন দূর্নীতি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে তার নিজ গ্রাম গোপালপুর উপজেলার শাখারিয়া মৌজায় বহু স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি করেছে। অভিযোগকারী মোঃ আমিনুর ইসলাম সোহেল ভূঁইয়া জানান, আমি বিগত ২৬/০২/২০২০ ইং তারিখে চেয়ারম্যান দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ঢাকাসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা বরাবরে অভিযোগ বার্তা প্রেরণ করলেও এখন পর্যন্ত কোন আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে সাংবাদিককের মাধ্যমে দুদক চেয়ারম্যানও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

সাব রেজিষ্ট্রার মোঃ হায়দার আলী খাঁন এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি তাকে। এলাকার বিভিন্ন শ্রেণীর পেশার মানুষ জানায় দূর্নীতিবাজ সাব রেজিষ্ট্রার মোঃ হায়দার আলী খান দূর্নীতি করে পর্যাপ্ত সম্পত্তি করেছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থার জন্য দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ভূঞাপুরের পৌর এলাকার শিয়ালকোল গ্রামের শেখ নূরে আলম (ঠিকাদার), সাব রেজিষ্ট্রার মোঃ হায়দার আলী খানের বিরুদ্ধে সম্প্রতি দূর্নীতির অভিযোগ করে পর্যাপ্ত টাকা নিয়ে আপোষ হয়ে বর্তমানে তার সাথে হাত মিলিয়ে একযোগে বিভিন্ন ব্যবসায় জড়িত রয়েছে এবং সাব রেজিষ্ট্রার মোঃ হায়দার আলী খানের হিতাকাঙ্খী লোক হিসেবে রয়েছে শেখ নূরে আলম। দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ’র একটি অনুসন্ধানী দল এই দূর্নীতিবাজ সাব-রেজিষ্ট্রার মোঃ হায়দার আলী খানের অপকর্মের বিশাল ইতিহাস নিয়ে কাজ করছে। চোখ রাখুন- আগামী পর্বে।