ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ফুলপুর ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ জসিম উদ্দিন শেখের বিরুদ্ধে কলেজ শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি, বিভিন্ন অনিয়ম, সীমাহীন দূর্নীতি, চরম স্বেচ্ছাচারিতা এবং নৈতিক কর্মকান্ডের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অধ্যক্ষের এই সকল কর্মকান্ডের প্রতিবাদে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবীতে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক ও এলাকাবাসী মানববন্ধন কর্মসূচীসহ বিভিন্ন একাধিক আন্দোলন এবং লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরেও বহাল তবিয়তে অনিয়ম দূর্নীতির মাধ্যমেই কলেজ পরিচালনা করে যাচ্ছেন তিনি। এত কিছুর পরেও কোন অদৃশ্য ক্ষমতা বলে অধ্যক্ষ তার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন এই নিয়ে স্থানীয় সকল মহলের মাঝে বিরোপ প্রতিক্রীয়া ও তীব্র সমালোচনা দেখা দিয়েছে। লিখিক অভিযোগ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমান কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় তিন হাজার। ছাত্র/ছাত্রীদের টিউশন ফি এবং কলেজের নিজস্ব জমির লিজ বাবদ বছরে প্রায় এক কোটি বিশ লক্ষ টাকা আয় হয়। বিপুল আয় থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করা হতো আগে কিন্তু বর্তমান অধ্যক্ষ মোঃ জসিম উদ্দিন শেখ এর দায়িত্ব পাওয়ার ৩/৪ বছরের মধ্যে ব্যাপক দূর্নীতির কারণে এবং যৌথ একাউন্টে ব্যাংকের আর্থিক লেন-দেনের নিয়ম থাকিলেও উপাধ্যক্ষ তাহার একক নামে যৌথ একাউন্টের পাশাপাশি সোনালী ব্যাংকে একটি হিসাব পরিচালনা করেন। যার কারণে বর্তমানে প্রত্যেক শিক্ষক কলেজের কাছে ৩/৪ লক্ষ টাকা বেতন বকেয়া রহিয়াছে বলে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। উক্ত কলেজটি সরকারী করণকরা হয়েছে যার জন্য প্রত্যেক শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ চাঁদা তোলে জাতীয় সংসদ সদস্যকে সংবর্ধনার দেওয়ার আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রায় দুই লক্ষ টাকা উত্তোলন করে অধ্যক্ষের কাছে জমা দেয়া হয়েছে পরবর্তীতে চাঁদার টাকা ব্যয় করতে নিষেধ করেন ফুলপুর-তারাকান্দা সংসদ সদস্য শরীফ আহম্মেদ এমপি। উক্ত টাকা ফেরত দেওয়া কথা থাকলেও কোন টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। কলেজের গভর্ণিং বডির কোনরুপ সিন্ধান্ত ছাড়াই উপাধক্ষ্য বিভিন্ন ভাবে অপকর্ম করে থাকেন। এমপি মহোদয়কে ভুল বুঝিয়ে বিভিন্ন কৌশলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তিনি। ইতিপূর্বে কলেজের একজন গারো শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি অভিযোগ করলেও এই বিষয়ে তার বিরুদ্ধে কোন প্রকার আইনী-ব্যবস্থা গ্রহন না করায় তিনি আরও বেপোরুয়া হয়ে কলেজের শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্ঠ সহ কলেজ পরিচালনায় নিজেকে দূর্নীতি ও অনিয়মের টপহিরো মনে করে প্রশাসনকে বৃদ্ধা আঙ্গুলী দেখিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ফুলপুর ডিগ্রী কলেজের শিক্ষকদের পক্ষে সহকারী অধ্যাপক ও শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাইয়েদ আলী আজগর, জানান যে, প্রশাসনের উর্ব্ধতন কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর অভিযোগটি তদন্ত কার্যক্রমের দুইটি তারিখ রহস্যজনক ভাবে বাতিল করা হয়েছে।
এই ব্যাপারে ফুলপুর ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ জসিম উদ্দিন শেখ বলেন, আমার নামে আনীত সকল অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং বানোয়াট। কিছু বিএনপি-জামাত পন্থী শিক্ষক আমার এবং কলেজের ভাবমুর্তি নষ্ঠ করার জন্য আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছে। উক্ত বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য অবগত আছেন বলে তিনি জানান। তবে অভিযোগকারীরা তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে ঘটনা সত্যতার দাবী করে প্রশাসনের তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহনে জোড়ালো দাবী জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here