রাবি করেসপন্ডেন্ট: সুস্বাস্থ্যের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য অপরিহার্য। বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক কারণে বাংলাদেশে বিষণœতা ও উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে যা মানসিক স্বাস্থ্য অবনতির অন্যতম কারণ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিশ্বে ৩০ কোটির বেশি মানুষ বিষণœতায় ভুগছে। যার ফলে স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতাসহ সামাজিক জীবনও প্রভাবিত হচ্ছে। মানসিক রোগ একটি অসংক্রামিক ব্যাধি হলেও দীর্ঘকাল থেকে আমাদের সমাজে মানসিক অসুস্থতাকে নেতিবাচকভাবে দেখা হয়। ফলে মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তির ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও পেশাগত জীবন ক্ষতিগ্রস্থ হয়। বুধবার সকাল ১০টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে রাবিতে ‘মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সেমিনার’ (ইধহমষধফবংয-ঈযরহধ গবহঃধষ ঐবধষঃয চবৎংঢ়বপঃরাবং) শীর্ষক এই সেমিনারে প্রধান অতিথি বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর এম আব্দুস সোবহান এসব কথা বলেন।
বর্তমান সরকারের উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার মানসিক স্বাস্থ্যসেবাসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং মানসিক রোগাক্রান্ত ব্যক্তির অধিকার ও সুযোগের সমতা বিধানে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তার সুফল ইতোমধ্যে আমরা লক্ষ্য করছি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে লক্ষ্য করে একাডেমিক ডিসিপ্লিন হিসেবে চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান চালু ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের মানসিক স্বাস্থ্য পরিচর্যার জন্য মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছে।
অন্যদিকে সেমিনারে উপস্থাপিত প্রবন্ধ ও আলোচনা থেকে বাংলাদেশ ও চীনের মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থার তুলনামূলক চিত্র ও বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর আনওয়ারুল হাসান সুফির সভাপতিত্বে এসময় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা। অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, চিকিৎসক ছাড়াও জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক প্রফেসর প্রভাষ কুমার কর্মকার, ছাত্র-উপদেষ্টা প্রফেসর জান্নাতুল ফেরদৌস, প্রক্টর প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চায়না একাডেমী অব সায়েন্সেস এর প্রফেসর ড. হান বাক্সিন। সেখানে সিভাস ইনস্টিটিউট, রাজশাহী এর প্রধান মনোবিজ্ঞানী ড. সুলতানা নাজনীন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের প্রফেসর ও নাসিরুল্লাহ সাইকোথেরাপি ইউনিটের পরিচালক কামাল ইউএ চৌধুরীও প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here