ডাঃ এম, এ, মান্নান,কুষ্টিয়া :

ভরা আমন মৌসুমেও চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না কুষ্টিয়াসহ দুই জেলার হাজার হাজার কৃষক। বিশেষ করে ইউরিয়া সারের সংকট দেখা দিয়েছে গ্রামাঞ্চলগুলোতে। যে পরিমান সার প্রতি সপ্তাহে গ্রাম পর্যায়ের একজন ডিলারের পাওয়ার কথা তার থেকে অনেক কম সার পাচ্ছেন তারা। যারা বিসিআইসির মূল ডিলার তারা খুচরা ডিলারদের চাহিদা অনুযায়ী সার দিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এ সুযোগে ডিলার ও খুচরা ডিলার উভয়ই কৃষকের কাছে বেশি মুনাফা করছেন।
খামারবাড়ি সূত্র জানায়, কুষ্টিয়া জেলায় মোট ৮২ জন সার ডিলার আছে। চলতি আগষ্ট মাসে ইউরিয়া সারের চাহিদা ৪ হাজার ৯৯৬ মেট্রিক টন। গত শনিবার পর্যন্ত কুষ্টিয়া বাফার গুদামে সার পাওয়া গেছে মাত্র ১ হাজার ৩০০ মেট্রিক। সদর উপজেলায় চাহিদা ছিল ১২৫০ মেঃ টন সেখানে পাওয়া গেছে মাত্র ৩৫০ মেট্রিক টন।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, সারের সংকট আছে। বাফার থেকে ডিলাররা সার তুলতে পারছে না। এজন্য কৃষকরাও সার পাচ্ছে কম। বিষয়টি জেলা প্রশাসকসহ উর্ধতন সবাইকে জানানো হয়েছে।
কুষ্টিয়া খামার বাড়ির উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) খুরশীদ আলম বলেন, কৃষক সার পাচ্ছে তবে ধীর গতিতে পাচ্ছে। একটু সমস্যা হয়েছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে সার আসতে সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে।
কুষ্টিয়ার বাফার গোডাউনের ম্যানেজার নরুল আলম, কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর জেলায় আগষ্ট মাসের চাহিদা আছে প্রায় ৮ হাজার মেট্রিক টন। সেখানে পাওয়া গেছে সাড়ে তিন হাজার টনের মত। বন্যার কারনে সার সরবরাহে কিছুটা বিঘœ ঘটছে। এ কারনে খুচরা ডিলাররা সময়মতো সার পাচ্ছে না। তবে এ সরবরাহ আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে।
বাফার গোডাউন সূত্র জানিয়েছে, বন্যার কারনে রাস্তা-ঘাট খারাপ। এ কারনে সার আনা যাচ্ছে না। তারপরও কয়েকদিন পর পর সার আসছে। তবে তা দিয়ে চাহিদা মিটছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কিছূটা সময় লাগবে। একদমই যে সার ডিলাররা পাচ্ছে না এমন অভিযোগ ঠিক নয়। তবে তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।
ভাদালিয়া বাজারের সার ব্যবসায়ী খাইরুল ইসলাম জানান,‘ এক সপ্তাহ ধরে তারা কোন সার পাচ্ছেন না। কৃষকরা সার নিতেও আসলেও তারা দিতে পারছেন না। বিষয়টি নেতাদের জানিয়েছি, তারা জানিয়েছে সামাধান হয়ে যাবে। একই অভিযোগ করে সার ব্যবসায়ী সাইদুল ও কামরুল জানান,‘ এখন সারের বেশি চাহিদা। তারা কৃষকদের সার দিতে পারছেন না। প্রায়ই তারা সার পাচ্ছেন না। মূল ডিলাররা তাদের সার দিচ্ছে না। কেন দিচ্ছে না জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘গোডাউনে না-কি সার নেই। সার না থাকলে কৃষকদেরতো ক্ষতি হয়ে যাবে।
সদর উপজেলার আব্দালপুর গ্রামের এক খুচরা সার ব্যবসায়ী জানান,‘ ডিলারদের ঘরে গেলে তারা বলছেন ইউরিয়া সার নেই। তবে সরকারী দামের বাইরে কিছু বেশি দিলে তারা সার দিচ্ছেন। তবে তা পরিমানে কম। চাহিদা অনুযায়ী আমরা কৃষকদের সার দিতে পারছি না। অনেক কৃষক ফিরে যাচ্ছে।’
একই গ্রামের কৃষক রুহুল, কামালসহ অন্যরা বলেন,‘ আমন ধানের চারা রোপন করেছেন বেশ কয়েক সপ্তাহ আগে। এখন সার প্রয়োজন। তবে চাহিদার তুলনায় সার মিলছে না। আর পাওয়া গেলেও কেজিতে কয়েক টাকা বেশি দিতে হচ্ছে।
উপজেলার উজানগ্রাম ইউনিয়নের বিত্তিপাড়া এলাকার কৃষক লাল মিয়া জানান,‘ সারের সংকট দেখা দিয়েছে। ডিলাররা সার সংকট দেখিয়ে বেশি দামে বিক্রি করছে। সরকারের এটা দেখা উচিত।
সদর উপজেলায় এ বছর আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০ হাজার ৮০৩ হেক্টর। এবং জেলায় ৮২ হাজার ৮৬৭ হেক্টর।
বিসিআইসি সার ডিলার এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক ও ডিলার আব্দুল লতিফ দীঘা বলেন,‘ চাহিদা অনুযায়ী সার গোডাউনে আসছে না। এ কারনে তারাও সার উত্তোলন করতে পারছেন না। তারা সার না পাওয়ায় খুচরা ডিলাররাও চাহিদা অনুযায়ী সার নিতে পারছেন না। এতে সাময়িক সংকট আছে। তবে অচিরইে এ সংকট নিরসন হবে।
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. জহির রায়হান জানান,‘ সরকার নির্ধারিত রেটের বাইরে বেশি দামে সার বিক্রির কোন সুযোগ নেই। কেউ যদি কৃষকদের জিম্মি করে বেশি দামে সার বিক্রি করে থাকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ডাঃ এম,এ,মান্নান,
কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধিঃ
০১৭১৮-২২৯৪৯৩

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here