আ:রশিদ তালুকদার, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি :

 

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সবজি প্রধান ইউনিয়ন লোকের পাড়ায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন সবজি চাষিরা। উপজেলার পশ্চিম প্রান্তের এ ইউনিয়নের পাঁচটিকড়ি,আথাইলশিমুল,বীরসিংহ,দশআনী বকশিয়া,ছয়আনী বকশিয়া,চরবকশিয়া,চরবীরসিংহ ও নলছোবা গ্রামে বানিজ্যিক ভাবে সবজি চাষ চলছে কয়েক যুগ ধরে।চলতি মৌসুমের শুরুতে সিত্রাংয়ের প্রভাবে সবজি চাষ ক্ষতিগ্রস্থ হলেও এখন শীত কালীন বিভিন্ন সবজি চারা রোপন ও পরিচর্যায় মগ্ন চাষিরা। অল্প জমিতে অধিক লাভ হওয়ায় নতুন করে অনেকেই সবজি চাষের প্রতি ঝুকছেন।লোকের পাড়া ইউনিয়নের প্রায় ৪শ পরিবার এ পেশায় জড়িত।এ এলাকার বিস্তীর্ণ জমিতে সাড়ি বন্ধ ভাবে রোপন করা হচ্ছে কপি,বেগুন,টমেটোসহ নানা প্রকার শীতকালীন সবজি।সাথী ফসল হিসেবে শোভা পাচ্ছে লাল শাক,পাট শাক,মিষ্টি কুমড়া ও মুলা।

চাষিরা জানান, এ ইউনিয়নে প্রায় ৩০ বছর ধরে বানিজ্যিকভাবে সবজি চাষ করা হচ্ছে। এসব জমিতে ধান আবাদ হলেও অধিকাংশ চাষি সবজি চাষের সঙ্গে জড়িত। গত বছর সবজির ফলন বৃদ্ধি ও দাম ভালো পাওয়ায় এবার যেন চাষিদের উৎসাহের শেষ নেই।সারাদিন সবজি চারা রোপন ও পরিচর্যায় ব্যস্ত তারা।এ এলাকার উচুঁ প্রায় সব জমিতেই এখন সবজি চাষ হচ্ছে।এ এলাকায় মৌসুম বেধে সারা বছরই সবজি চাষ করা হয়।মূলত সবজি চাষের উপর ভিত্তি করে এ ইউনিয়নের কয়েকশ পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন।

পাঁচটিকড়ি গ্রামের সবজি চাষি শফিকুল ইসলাম খান কালা জানান, তিনি প্রতি বছর কপি সহ বিভিন্ন সবজি চাষ করেন।এ বছর ১একর জমিতে কপি চাষ করেছেন তিনি ।এতে প্রায় ১ লাখ টাকা ব্যয় হবে ।তিনি আশা করছেন ফলন ভালো হলে ৩ লাখ টাকার উপর বিক্রি হবে তার।লাভ থাকবে ২ লাখ টাকার বেশি।তিনি বলেন,কার্তিকের মাঝামাঝি থেকে পৌষের শেষ পযর্ন্ত থাকে কপির মৌসুম ।কপি চাষের জন্য প্রথমে জমি নির্ধারনের মাধ্যমে চারা লাগানো জন্য মাটি প্রস্তুত করতে হয়।পরিমিত সার ও অন্যান্য উপাদান প্রয়োগের মাধ্যমে সময় মতো চারা রোপন করতে হয়।আশ্বিনের মাঝামাঝি চারা রোপন করলে অগ্রাহনের প্রথমে ফুল আসে।অগ্রাহনের শেষে কপি কাটা শুরু হয়।এ সময় রীতিমতো উৎসবের সৃষ্টি হয় কপি কাটাকে কেন্দ্র করে।ক্ষেত্র থেকেই ব্যবসায়ীরা কপি কিনে নিয়ে যান।

পাঁচটিকড়ি গ্রামের বাবলু মিয়া,আব্দুল্লাহ আল-মামুন,চরবকশিয়া গ্রামের শফিকুল ইসলাম শিপনসহ আথাইলশিমুল,দশআনীবকশিয়া ও বীরসিংহ গ্রামের ১০/১২ জন সবজি চাষির সাথে এ প্রতিবেদকের কথা হয়।তারা অনেকেই জানান,সবজি চাষে ভাগ্য বদলের কথা।তাদের দাবি এ এলাকায় উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে ঘাটাইল ও ভূঞাপুর পৌর শহর সহ স্থানীয় বিভিন্ন হাটে বিক্রি হয়।

স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে টাঙ্গাইল ও অন্য জেলাসহ বানিজ্যিক ভাবে ঢাকায় যায় এ এলাকায় সবজি ।

এদিকে সরেজমিন পাঁচটিকড়ি গ্রামে গেলে দেখা যায় সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছে চাষিরা ।বাড়ির আঙ্গিনা,উচু জমিসহ যেখানে সুযোগ পাচ্চে সেখানেই সবজি চাষের জন্য তৈরি করছে জমি ।চাষিরা একান্ত মনে কাজ করছেন সবজি জমিতে ।কোথাও কোথাও পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও সবজি বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে।

লোকের পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃশহিদুল হক মিলন বলেন,কয়েক যুগ ধরে এ এলাকায় কৃষক বানিজ্যিকভাবে সবজি চাষ করছেন।অনেক কৃষক সবজি চাষ করে তাদের ভাগ্য বদল করে স¦াবলম্বী হয়েছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে এ বছর লোকের পাড়া ইউনিয়নে ৭৫ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে।এরই মধ্যে ৩৬ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সোহেল রানা জানান,সবজি চাষে লোকের পাড়া ইউনিয়নের রয়েছে দীর্ঘ দিনের ঐতিহ্য।কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে এ ইউনিয়নের সবজি চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে ।

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here