ভারতকে বিদায় করে ফাইনালে কিউইরা

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, জুলাই ১১, ২০১৯ পূর্বাহ্ণ ১২:০৮

স্পোর্টস ডেস্ক :

 

ভারতের ব্যাটিংয়ের ৭৫ শতাংশই ধরা হয় তাদের তিন টপ অর্ডারকে। আর নিউজিল্যান্ড ইনিংসের শুরুতেই রোহিত শর্মা-বিরাট কোহলিদের সাজঘরে ফিরিয়ে ম্যাচের ৭৫ শতাংশই হাতে নিয়ে নেয়। কিন্তু অষ্টম ব্যাটসম্যান জাদেজা এসে হিসেব গড়মিল করে দেয়। সঙ্গে ছিলেন ধোনি। হাত ফসকে বেরিয়ে যাওয়া ম্যাচ ধোনি-জাদেজা আবার পক্ষে নিয়ে আসেন। কিন্তু শুরুর মতো শেষ ঝলকে ম্যাচ বের করে নেন কিউই পেসাররা। ভারতকে ১৮ রানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনাল নিশ্চিত করে নিউজিল্যান্ড।

 

ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে প্রথম সেমি ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হয় গতবারের রানার্সআপ নিউজিল্যান্ড। কিউইদের ছুঁড়ে দেওয়া ২৪০ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ভারত ৪৯.৩ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে তোলে ২২১ রান। তাতে ১৮ রানের জয়ে  টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠলো কিউইরা।

 

টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন কিউই দলপতি কেন উইলিয়ামসন। বৃষ্টির কারণে রিজার্ভ ডে’তে ম্যাচটি গড়িয়েছে। আগের দিন ৪৬.১ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে কিউইরা তোলে ২১১ রান। পরে আর বল মাঠে না গড়ালে ম্যাচের বাকিটুকু গড়ায় রিজার্ভ ডে’তে। ৫০ ওভারে নিউজিল্যান্ড ৮ উইকেট হারিয়ে তোলে ২৩৯ রান।

 

রিজার্ভ ডে’তে বুধবার (১০ জুলাই) আবারো মাঠে নামে দুই দল। ফিফটির দেখা পান দলপতি কেন উইলিয়ামসন, রস টেইলর। বুধবার দুপুর সাড়ে তিনটায় শুরু হয় ম্যাচের বাকি অংশ। নিউজিল্যান্ড আরও ২৩টি বল খেলার সুযোগ পায়।

 

১৯৮৩ বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই ভেন্যুতেই রান চেজ করে জিতেছিল ভারত। ২০০৩ আর ২০১১ বিশ্বকাপের সেমিতে আগে ব্যাট করেছিল টিম ইন্ডিয়া আর ১৯৯৬ এবং ২০১৫ বিশ্বকাপে রান তাড়া করতে গিয়ে হেরেছিল ভারত। গ্রুপ পর্বের দু’দলের একমাত্র ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছিল। আর মূল মঞ্চে নামার আগে কিউইদের কাছে প্রস্তুতি ম্যাচে হেরেছিল কোহলি-ধোনিদের দলটি।

 

আপাত দৃষ্টিতে ছোট লক্ষ্যই মনে হচ্ছিল। যদিও উইকেট ছিল কঠিন। ওদিকে ভারতের সাংবাদিকদের মধ্যে একটি প্রচলিত কথা আছে, তাদের ব্যাটিং লাইন আপ ‘তিলে খাজার’ মতো। শুরুটা শক্ত। কিন্তু রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলিকে ফেরাতে পারলেই হলো। ঝুরঝুর করে ভেঙে পড়বে বাকিটা। ভারত অবশ্য সেভাবে ভেঙে পড়েনি। মাত্র ৫ রানে টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে হারায় তারা। সেখান থেকে দুর্দান্ত এক লড়াই দেয় ভারত।

 

ধোনি এবং জাদেজা সপ্তম উইকেট জুটিতে যোগ করেন ১১৬ রান। রঙ ছড়ানো ম্যাচে জাদেজা ৭৭ করে ফেরেন। বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের ইতিহাসে অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে যা সর্বোচ্চ রান। এছাড়া ধোনি খেলেন ৫০ রানের ইনিংস। কিন্তু ৪৮ ও ৪৯তম ওভারে তারা ফিরতেই ম্যাচ ভারতের হাত থেকে বেরিয়ে যায়।

 

ফুটবলের শহর ওল্ড ট্রাফোর্ড ছেড়ে লর্ডসের বাস অবশ্য আগেই ধরার কথা ছিল এক দলের। কিন্তু বেরসিক বৃষ্টি সেমিফাইনালের রঙ ধুয়ে দেয়। মঙ্গলবার কিউইদের ইনিংসের ৪৬.১ ওভার মাঠে গড়াতেই বৃষ্টি আসে। অপেক্ষা করেও ম্যাচ আর খেলানো হয়নি। ত্রাতা হয়ে আসে রিজার্ভ ডে। মঙ্গলবার ধুয়ে যাওয়া রঙ রিজার্ভ ডে নতুন করে ফুটিয়ে তোলে। বুধবার কিউইদের ইনিংস ৮ উইকেটে ২৩৯ রানে থামে। এরপর প্রতিপক্ষকে পাত্তা না দেওয়া ভারত শুরুতে হুমমুড়িয়ে উইকেট হারায়।

 

শুরুর ধাক্কার পর ২৪ রানে তারা চতুর্থ উইকেট হারায়। এরপর ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় ভারত। চারে দলকে ভরসা দিতে আসা ঋষভ পান্ত ফিরে যান ৩২ রান করে। তার ব্যাটে আশা দেখছিল ভারত। দলের রান তখন ৭১। ভারতের ইনিংসের কুল ভাঙে। ‘নদীর এ কুল ভাঙে ও-কুল গড়ের’ মতো হার্ডিক পান্ডিয়ায় আশা খোঁজে ভারত। তিনিও ফেরেন ৩২ রান করে। দলের রান সবে ৯২! ভারতের সেমিফাইনাল স্বপ্ন যেন তখনই শেষ!

 

কিন্তু ওপারে রবিন্দ্র জাদেজা ছিলেন। চাপে পড়ে ম্যাচ বের করার রেকর্ড যার আগেও আছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে এশিয়া কাপের ফাইনালের কথাই ধরুণ। জাদেজা এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে ম্যাচটা বাংলাদেশের হাত ছাড়া করে দেন। সঙ্গে ধোনি থাকলে তো আশা ছাড়ার সুযোগ নেই। কিন্তু তারা ১১৬ রানের জুটি গড়ে, ম্যাচটা হাতে এনেও শেষ অবধি শেষ করে উঠতে পারেননি। দুর্দান্ত গতিতে ছুটতে থাকা ভারত তাই সেমিফাইনালেই থামে।

 

নিউজিল্যান্ডের হয়ে এ ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিং করেন ম্যাট হেনরি। টিম সাউদির বদলে খেলছেন তিনি। দারুণ সুইং-গতি দিয়ে পুরো টুর্নামেন্টে নিজেকে দারুণ প্রমাণ করেছেন তিনি। ভারতের শুরুর চার উইকেটের তিনটিই নেন হেনরি। অন্য উইকেটটি বোল্টের শিকার হওয়া বিরাট কোহলি। পরের দুই উইকেট নেন স্পিনার মিশেল সাটনার। লকি লার্গুসন এবং ট্রেন্ট বোল্ট শেষটা টানেন। ভারতের হয়ে এ ম্যাচে ১০ ওভার হাত ঘুরিয়ে ৩ উইকেট নেন ভুবনেশ্বর কুমার।