ভারতে পুলিশের গাড়ি বহরে মাওবাদী হামলায় ১৬ জনের মৃত্যু

প্রকাশ : বুধবার, মে ১, ২০১৯ অপরাহ্ণ ৪:৪১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

 

ভারতের মহারাষ্ট্রের গড়চিরৌলিতে বিস্ফোরণে পুলিশের গাড়ি উড়িয়ে দিয়েছে মাওবাদীরা। এ হামলায় মারা গেছে ১৬ কম্যান্ডো। আশঙ্কা করা হচ্ছে মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। গড়চিরৌলির কুরখেদা থেকে ৬ কিমি দূরে লেন্ধ্রি পুল এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটায় মাওবাদীরা। মহারাষ্ট্র পুলিশের একদল কম্যান্ডো ওই গাড়িতে চড়ে পুরান্দা গ্রামে যাওয়ার সময় হামলা হয়। প্রায় ২০০ জন মাওবাদী হামলা চালায় বলে খবর। তীব্র গুলি বিনিময়ও হয়েছে পুলিশ ও মাওবাদীদের মধ্যে। যে গাড়িটি ওড়ানো হয়েছে, তাতে মহারাষ্ট্র পুলিশের কুইক রেসপন্স টিম ছিল বলে জানিয়েছেন মাওবাদী দমন অপারেশনসের আইজি শরদ শেলার।

 

 

এ দিনই সকালে মাওবাদীরা কুরখেদায় একটি নির্মাণ কেম্পানির ২৫টি গাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। ১৩৬ নং জাতীয় সড়কে পুরাদা-ইয়েরকাদ এলাকায় নির্মাণ কাজে ওই গাড়িগুলি ব্যবহৃত হচ্ছিল। হামলায় গাড়ি চালকও নিহত হয়। প্রথম দফা ভোটের ঠিক আগে এই গড়চিরৌলিতে একটি ভোট গ্রহণ কেন্দ্রের সামনে বিস্ফোরণ হয়। তবে ওই ঘটনায় কেউ আহত হননি। হামলায় গাড়ির চালকও নিহত হয়। গড়চিরৌলিতে এমনিতেই মাওবাদীদের প্রভাব আছে। সেখানে রাস্তার ধারে রাস্তা তৈরির সরঞ্জাম রাখা ছিল। সেগুলি মাওবাদীরা পুড়িয়ে দেয়। এ নিয়ে ছত্তিশগড়ের দান্তেওয়ারায় মাওবাদী হানায় বিজেপির বিধায়ক সহ পাঁচ জনের মৃত্যু হল। সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে ছত্তিশগড়ের বিজেপি বিধায়ক ভীমা মাণ্ডবীও গাড়ির মধ্যে ছিলেন। হামলার পর থেকেই তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। একটু পরেই তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। তাছাড়া দুপক্ষের মধ্যে গুলি শুরু হয়। প্রচার করার সময় বিধায়কের গাড়িতে হামলা চলে।

 

উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই, ২০২৩ সালের মধ্যে দেশ থেকে মাওবাদীদের সম্পূর্ণ নির্মূল করা হবে বলে দাবি করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। তারপরই হামলায় উঠছে একাধিক প্রশ্ন। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্র সরকার যাই দাবি করুক না কেন, ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রে ফের শক্তি বাড়াচ্ছে লাল সন্ত্রাস। নিরাপত্তারক্ষীদের নিশানা করতে নয়া পন্থা নিয়েছে মাওবাদীরা। জানা গেছে, জওয়ানদের বিভ্রান্ত করতে জঙ্গলে কুশপুতুল ছড়িয়ে রাখছে মাওবাদীরা। এই কুশপুতুলের কাছাকাছি এলাকার মাটিতে আইইডি বিস্ফোরক পুঁতে রেখেছিল মাওবাদীরা। যাতে জঙ্গলে টহলদারির সময় ভুল করে এগুলোর উপর নিরাপত্তারক্ষীদের পা পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটে।