এসএম জাকারিয়া (মীরসরাই, চট্টগ্রাম): সারা চট্টগ্রামের পাঁচ শতাধিক প্রধান শিক্ষকের পদ বিদ্যালয়ে শূন্য থাকায় তা চলছে ভারপ্রাপ্ত হয়ে। আর এই দৃশ্য প্রায় সারা বাংলাদেশের। মীরসরাই উপজেলার চিত্রও কিন্তু তার ব্যাতিক্রম নয়। এখানে ১৯১টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬২টি (জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রমতে- ৬০টি) প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। যেগুলোতে ভারপ্রাপ্তের দায়িত্বে থাকা সহকারীর শিক্ষকের যথারীতি নিজেদের শ্রেণী পাঠদানের পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের অফিসিয়াল যাবতীয় কাজকর্ম করতে হচ্ছে। আর এটা কোথাও কোথাও অসম্ভব হয়ে দাড়িয়েছে। কোথাও আবার সকাল থেকে রাত অবধি কাজ করছেন শিক্ষকেরা।
মীরসরাই প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে যানা যায় পুরো উপজেলা ১৯১টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬২টি তে প্রধান শিক্ষকের গুরুত্বপূর্ণ পদটি খালি রয়েছে। (পুরো চট্টগ্রামের ২০২৬৩টি তে ৫০১টি)। এভাবে প্রধান শিক্ষকের পদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ৬২ পদ শূন্য থাকায় গত ৫-৬বৎসর ধরে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের চরম ব্যাগাত ঘটলেও শূন্য পদ পূরণে বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। যার কারণ হিসেবে মামলা জনিত পদোন্নতি ও নিয়োগ থমকে থাকার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
ভারপ্রাপ্ত প্রদান শিক্ষকের পদে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালনরত সিনিয়র এক শিক্ষক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন দীর্ঘ সময় ধরে প্রাথমিকে প্রদান শিক্ষকের পদোন্নতি আটকে রয়েছে। ৬৫ভাগ সিনিয়র শিক্ষককে প্রধান শিক্ষকের পদে পদোন্নতি দেওয়ার কথা থাকলেও তা থমকে আছে বিভিন্ন আইনী জটিলতায়। এদিকে কোনও প্রকার সুবিধা ছাড়াই আমরা এখন দুদিকে দায়িত্ব পালনে বাধ্য হচ্ছি (একদিকে শ্রেণী কার্যক্রম অন্যদিকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব)। প্রধান শিক্ষকের (ভারপ্রাপ্তে) দায়িত্বে থাকার কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষা অফিস থেকে কোন নির্দেশনা আসলেই তা নিয়ে দোড়াদোড়ি করতে হয় শ্রেণী কার্যক্রম বাদ দিয়ে। তাই অতি অল্প সময়ের মধ্যে যেন প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদগুলো পূর্ণ করা হয় তারই জোর দাবি জানান প্রাথমিকের এই সহকারী শিক্ষক।
মাীরসরাই উপজেলার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি মঞ্জুর কাদের চৌধুরী, এই প্রতিবেদকের সাথে কথা বলতে গিয়ে বলেন উপজেলার ১৯১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬২ টি তে প্রধান শিক্ষক এবং প্রায় শতাধিক সহকারী শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে। বিদ্যালয়গুলোতে সিনিয়র শিক্ষকদের থেকে বাছাইকৃত ভারপ্রাপ্তদের দায়িত্ব দিয়ে সকল কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে শ্রেণীর পাঠদান বিঘিœত হচ্ছে বলে জানান তিনি।
মীরসরাই উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার গোলামুর রহমান চৌধুরী এই সময় বলেন প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের অবসর এবং বদলী জনিত শূন্য পদগুলোর কারণে উপজেলার বেশ কয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রমে অনেক বেশি ব্যহত হচ্ছে। তবে একটা আশ^াষ হল সাম্প্রতিক সময়ে ২০১৪সালের আবেদনকারীদের পরীক্ষাটি মামলা জটিলতার কারণে যেটি স্থগিত ছিলো তা ২০১৮এর মার্চের শেষ দিকে সম্পন্ন হচে বলে খবর রয়েছে এবং পদোন্নতি ও নতুন নিয়োগ একসাথে হওয়ার কথা রয়েছে। যদি তা সঠিক ভাবে সময়মত সম্পন্ন হয় তবে এই শূন্যপদ জটিলতা ও সহকারী শিক্ষকের সল্পতার সমস্যার অনেকটাই নিরসন হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here