ভাড়া-ভাতা নেন না গাজীপুর মেয়র বেতন দান করেন মুক্তিযোদ্ধাদের

 

 

সামছুদ্দিন জুয়েল :

 

গাজীপুর সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম। দেশের সর্ববৃহৎ সিটি কর্পোরেশনের নগর পিতা তিনি। বৃহৎ সিটি কর্পোরেশনের মতোই বড় তার মন। সিটি কর্পোরেশনের ক্ষমতাশালী মেয়র হওয়া সত্ত্বেও অতি সাধারণ জীবনযাপন করেন তিনি।

নাগরিকদের সমস্যার কথা শুনতে কখনো রিক্সায়, কখনো মোটরসাইকেলে ঘুরে বেড়ান মানবিক মেয়র। নাগরিকদের সেবায় সব সময় ব্যস্ত সময় পালন করলেও দায়িত্ব পালনের শুরু থেকেই নেন না সরকার কর্তৃক প্রদত্ত যাতায়াত খরচ কিংবা বাড়ি ভাড়া। এমনকি মেয়র হিসাবে পাওয়া বেতনের টাকাও দান করে দেন গাজীপুরের মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে।

যেন সত্যিকারের নগরপিতা জাহাঙ্গীর। শুধু তাই নয়, জাহাঙ্গীর আলম যখন ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন, তখনও তার প্রাপ্ত বেতন-ভাতার শতভাগ দরিদ্র মুক্তিযোদ্ধা এবং বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিতেন বলে জানা গেছে। যখন যেভাবে সুযোগ পেয়েছেন, গরিব মানুষের পাশে থাকার নিরলস চেষ্টা করে যান তিনি।

মেয়রের এমন মহানুভব কর্মকাণ্ডে অভিভূত গাজীপুরবাসী। গাজীপুরের বাসিন্দা মোখলেসুর রহমান বলেন, এমন দৃষ্টান্ত দেখানো আমাদের মেয়রের পক্ষেই সম্ভব। শুধু বাংলাদেশ নয়, এমন দৃষ্টান্ত পুরো বিশ্বেই বিরল ঘটনা। এমন মেয়রের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। মেয়র জাহাঙ্গীরের উদারতা করোনা ভাইরাসের মতো মহামারিতেও দেখেছে বাংলাদেশ।

করোনার প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই অভিভাবকের মতোই ভূমিকা রেখেছেন তিনি। মানুষের জীবন রক্ষার বিষয়টি বিবেচনা নিয়ে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগেই করোনা শনাক্তে ৫০ হাজার কিট আমদানি করে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন মেয়র জাহাঙ্গীর। করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি মোকাবেলায় গাজীপুর সিটির ৫৭টি ওয়ার্ডের স্বল্প আয়ের ৬০ হাজার কর্মহীন পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেন।

মেয়র হিসাবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই সড়ক উন্নয়ন-সম্প্রসারণ, ড্রেনেজ সুবিধা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি ময়লা-অবর্জনার স্তুপ থেকে মুক্তি ও যানজটের কবল থেকে মুক্ত করাসহ নানা কাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। বিগত দিনের উন্নয়ন বঞ্চনার দুর্নাম ঘুচিয়ে দুর্নীতি মুক্ত পরিষদ গড়ে তুলে পরিকল্পিত ও আধুনিক বাসযোগ্য নগর গড়তে লড়ে যাচ্ছেন সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর আলম।

২০১৩ সালের ১৬ জানুয়ারি টঙ্গী ও গাজীপুর পৌর এলাকা এবং গাজীপুর ক্যান্টনমেন্টের ১৮৮৮ দশমিক ৩৮ একর এলাকা নিয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন গঠিত হয়। ৫৭ নং ওয়ার্ডের এ সিটি কর্পোরেশনের আয়তন প্রায় ৩২৯ দশমিক ৯০ বর্গকিলোমিটার। যা বাংলাদেশের সিটি কর্পোরেশনগুলোর মধ্যে বৃহৎ। মেয়র হিসাবে জাহাঙ্গীর আলম ২০১৮ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আল্লাহ আমাকে অনেক দিয়েছেন। বেঁচে থাকার জন্য যতটুকু প্রয়োজন আমার তা আছে। সিটি কর্পোরেশন থেকে প্রদত্ত দায়িত্বভাতা কিংবা অন্যান্য ভাতা দিয়ে আমি কি করবো? আমার কাছে জনগণের ভালোবাসা সবচেয়ে বড় পাওয়া। বরং ওই অর্থে যদি সাধারণ নাগরিকদের একটু স্বস্তি দেওয়া যায় সেটাই আমরা বড় পাওয়া। আর মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাদের সাহায্য করতে পারাটা বড় গৌরবের।