ভূঞাপুরে যমুনার চরাঞ্চলে বাদামের বাম্পার ফলন

 

মো: নাসির উদ্দিন, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:

 

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুের যমুনার চরাঞ্চলে এ বছর বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে। লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে এবছর ১ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমিতে ঢাকা-১ ও ডিজি-২ জাতের চীনা বাদামের চাষ হয়েছে। যমুনা নদীর গর্ভে ভূঞাপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। যমুনার বুকে জেগে ওঠা বালুচর অবহেলিত মানুষের বেঁচে থাকার অন্যতম একমাত্র অবলম্বন। রাক্ষুসে যমুনার ভাঙ্গার সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে থাকা মানুষগুলো বালুচরে দীর্ঘদিন ধরে চীনা বাদামের চাষ করে আসছে। চলতি মৌসুমে বাদামের দাম ও ফলন ভাল হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, যমুনা নদীর বুকজুড়ে অসংখ্য ছোট-বড় চর। আর এসব বালুচরে মাইলের পর মাইল চীনা বাদামের ক্ষেত। সাদা বালুর জমিনে সবুজ আর সবুজে ছেয়ে গেছে লতানো বাদামের গাছে। প্রতিটি লতানো বাদাম গাছের মুঠি ধরে টান দিলেই উঠে আসছে থোকা থোকা সোনালী রঙের চিনা বাদাম। এ যেন বালুর নিচে লুকিয়ে থাকা গুপ্তধন। বর্ষার পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পূর্বেই গুপ্তধন ঘরে তুলতে ব্যস্ত শত শত কৃষক। ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা চরের রেহাই গাবসারা গ্রামের কৃষক মো. মহর আলী মন্ডল জানান, যমুনা চরের বালু মাটি চীনা বাদাম চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এ বছর বাদাম চাষ করে অনেক লাভ হবে বলে আশা করছি। প্রতি মণ কাঁচা বাদাম বিক্রি হচ্ছে ১৪০০ থেকে ১৬০০ টাকায় এবং প্রতি মণ শুকনা বাদাম বিক্রি হচ্ছে ১৮০০ থেকে ২২০০ টাকায়। এবার ফলন ভাল হওয়ায় এক বিঘা জমিতে ০৮ থেকে ১০ মণ বাদাম পাওয়া যাচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর বাদামের ফলনও হয়েছে। উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে প্রতি বিঘায় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা লাভ হবে।

আরেক কৃষক মো. বাবলু মিয়া জানান, বালু মাটিতে অন্য কোন ফসল উৎপাদন করে বাদামের সমপরিমাণ লাভ হয় না। অন্যান্য ফসল উৎপাদনের চেয়ে চীনা বাদাম উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় চরাঞ্চলের আমরা সবাই বাদামের চাষ করেছি। বাদাম রোপণের পর অন্য ফসলের ন্যায় কোন পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। নেই রাসায়নিক সারের ব্যবহার। বীজ রোপণ আর পরিপক্ব বাদাম উঠানোর শ্রমিক খরচ ছাড়া তেমন কোন খরচ নেই বললেই চলে। একটি ফসলেই আমাদের সারা বছরের সংসার চলে।

উপজেলা কৃষি সম্পসারণ অফিসার এস এম রাশেদুল হাসান জানান, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবছর যমুনা চরাঞ্চলের অধিকাংশ জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে। অন্যান্য ফসলের চেয়ে খরচ অনেকটাই কম এবং দামও অন্যান্য ফসলের চেয় বেশি। তাই দিন দিন চরাঞ্চলের চাষীরা বাদাম চাষে ঝুঁকছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, আমরা আশা করছি যমুনার চরে বাদামের ব্যাপক চাষাবাদ কৃষিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে। কৃষকদের সব সময় আমরা সচেতনামূলক পরামর্শ দিয়ে থাকি।