বিপ্লব আহমেদ, বরিশাল ব্যুরোঃ
বরিশাল নগরীতে মাদক স¤্রাটররা আবারও পুরোদমে শুরু করেছে মাদক ব্যবসা। বেশ কিছুদিন প্রশাসনের কঠোর নজরদারী থাকায় এই চক্রটি ঝিমিয়ে পড়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আবারও তাদের তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছে। গোপন সুত্র মতে, কেবল বরিশাল মহানগরীতেই রয়েছে ৫শ’র বেশি অপরাধি যারা সরাসরি মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। ২০ থেকে ২৫ জন স¤্র্টা এদের নিয়ন্ত্রন করে।এদের মধ্যে রয়েছে সরকারি দলের নাম সর্বস্ব প্রভাবশালী নেতা। মাদক ব্যবসাকে সহজতর এবং নিরাপদ রাখতে এরা এখন নারী এবং শিশুদেরকেও ব্যবহার করছে বলে জানা গেছে।তিন মাস পূর্বে ব্রাউন কম্পাউন্ড এলাকায় লিজা নামের এক মহিলা তালুকদার ম্যানসন বাসা থেকে ডিবি পুলিশ আটক করে। এছাড়া সেন্টু নামের এক যুবক প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনা করে।ধাঁন গবেষনা এলাকায় বাপ্পি, আরিফ ও চাঁন বালুখোলা এলাকা ব্যবসা করে,এছাড়া তরকারী আল আমিন।ব্যাপিস্ট মিশন সড়কে রাব্বি, রেজভি সরদার, মিলন নামে,র তিনজন। নগরীর প্রায় ২৬ টি ওয়ার্ডে এভাবে কয়েক’শ মাদক ব্যবসায়ী প্রকাশ্যে এবং গোপনে বিক্রি করছে মাদক। আর প্রতিদিন লেনদেন হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। নগরীর বিশেষ কয়েকটি স্পট যেমন ব্রাউন কম্পাউন্ড,গোড়াচাঁদ দাস রোড, চৌমাথা, কাউনিয়া, বাজার রোড,পোর্টরোড, সাগরদী , রুপাতলী, নতুন বাজার’ল কলেজ, জেলা দায়রা জজ আদালত এবং নানীবুড়ি মাজার এলাকায় দিনে অপ্রকাশ্যে এবং রাতে প্রকাশ্যে চলে মাদক ব্যবসা।ইতোপুর্বে বেশ কয়েকটি বস্তিতে এ ধরনের কর্মকান্ড চলে আসলেও এখন তা ছড়িয়ে পরেছে আধুনিক বাসা বাড়িতে। কিছু অসাধু প্রশাসনের কর্মকর্তা কর্মচারীরাও পরোক্ষভাবে এইসব ব্যবসায়ীদের সহায়তা করে বলে জানা গেছে, বিনিময়ে তাদের নিকটে মাস শেষে চলে আসে নির্ধারিত হারে মাসোয়ারা। মাদকের নীল থাবায় নগরীর উঠতি বয়সি যুবকরা ধংস হচ্ছে অন্যদিকে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে বিভিন্ন সংগঠন প্রতিনিয়ত মানব বন্ধন, সভা, সেমিনারসহ বিভিন্ন কর্মসুচী পালন করছে তবুও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছেনা। মাদকসেবী এবং ব্যবসায়ীদের অধিকাংশই উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান বলেও সুত্র নিশ্চিত করেছে। তিন ধাপের এই ব্যবসার প্রথম ধাপে যারা রয়েছে তারা উচ্চবিত্ত প্রভাবশালী এদেরকে চেনার তাই উপায় থাকেনা। সরাসরি বেচা কেনার সাথে এদের কোন সম্পর্ক থাকেনা তারা অর্থ দিয়ে ইয়াবা ফেনসিডিল কেবল আমদানী করে।এরা সবাই কোটিপতি এবং ধরাছোয়ার বাইরে থাকে। পরের স্তরটি মাদক ব্যবসার মূল দ্বায়িত্ব পালন করে থাকে। নগরীর বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট মাদক ব্যবসায়ী তৈরী করে তাদের মাধ্যমে পাড়ায় পাড়ায় ছড়িয়ে দেয়।সবশেষ স্তরটিতে যারা থাকে তার সরাসরি মাদক বিক্রির সাথে জড়িত এরা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীও বটে। তবে, তারা জানেনা উপরে তাদের গড ফাদার কে। অনেক ক্ষেত্রে এদেরকে দৈনিক মজুরি১/২ হাজার টাকার ভিত্তিতে কাজে খাটানো হয়।মূলত সেল ফোনের সহজলভ্যতা মাদক ব্যবসাকে সহজতর করেছে, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মাদক একস্থান থেকে অন্যস্থানে চালান হয় এবং দাম উঠানামা করে। এক পরিসংখানে দেখা গেছে বরিশালে ইয়াবা, গাজা ব্যবসায়ীর সংখ্যা বেশি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here