বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:২৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
টাঙ্গাইলে জিমে’র আড়ালে মাদক ব্যবসা; ৩০ লাখ টাকার হিরোইনসহ নারী আটক তোফাজ্জল হোসেন মিয়াকে প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব নিয়োগ প্রদান করায় ভাণ্ডারিয়ায় দোয়া ও মোনাজাত ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে রৌমারীতে লজিক প্রকল্পের কাজে অনিয়মের অভিযোগ সাতক্ষীরায় বঙ্গবন্ধুর মুর‍্যালে পুস্পস্তবক অর্পণ করলেন খুলনা রেঞ্জের নবাগত ডিআইজি মইনুল হক কুমিল্লায় তৈরি হলো দেশের সর্বাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবট টঙ্গীতে এশিয়ান ও আনন্দ টিভির সাংবাদিকের উপর হামলা ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় সাংবাদিক অর্পণের মায়ের মৃত্যু ঘাটাইলে চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, আটক-১ ব্রাজিলের খেলা চলাকালীন শিশুর জন্ম, নাম রাখলেন ‘নেইমার’

মাদ্রাসা কেন্দ্রে দাখিল পরীক্ষায় নকলের মহাউৎসব চলছে

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮
  • ৯ Time View

মোঃ আশিকুর রহমান, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ঃ ব্যাপক অনিয়ম, অব্যস্থাপনা ও নকলের মহাউৎসবের মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরায় মাদ্রাসা সমূহে দাখিল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে সাতক্ষীরা আলিয়া কামিলা মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত দাখিল পরীক্ষায়। গতকাল শনিবার ছিল আরবী প্রথম পত্র পরীক্ষা। পরীক্ষা শেষে কয়েকজন শিক্ষার্থি এ প্রতিবেদককে জানান, আলহামদুলিল্লাহ। পরীক্ষা খুব ভাল হয়েছে। পঠিত ও অপঠিত নস ৫০ নম্বরের না বাদলেও হুজুরা বলে দিয়েছে। এছাড়া রচনা মুলক প্রশ্ন, সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ব্যাখ্যা দেখে লেখার সুযোগ হয়েছে। শুন্য স্থান সমূহ হুজুররা বলে দিয়ে ছিল। আজ রবিবার আরবী দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা।
এবারের দাখিল পরীক্ষায় সাতক্ষীরায় ১১টি কেন্দ্রে ৫ হাজার ৫৫৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। দাখিল পরীক্ষায় সাতক্ষীরা আলিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ১ হাজার ২৪৬ জন অংশ নিচ্ছে। কলারোয়া আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে ৭৩১ জন, তালা আলিয়া মাদ্রাসা ও পাটকেলঘাটা আল আমিন ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ৭৪১ জন, আশাশুনি দাখিল মাদ্রসা ও গুনাকরকাটি আজিজিয়া খাইরিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে ৮০৬ জন, কালিগঞ্জ নাছরুলউলুম দাখিল মাদ্রাসা ও নলতা আহছানিয়া দারুল উলুম আলিম মাদ্রাসা কেন্দ্রে ৬৫০ জন, সখিপুর দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ২৬৩ জন এবং শ্যামনগর কেন্দ্রীয় মাদ্রাসা ও নওয়াবেকী বিড়ালক্ষী কাদেরিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা কেন্দ্রে ১ হাজার ১২৬ জন শিক্ষার্থি অংশ নিচ্ছে। এসব মাদ্রাসা সমূহে ব্যাপক অনিয়ন ও অ-ব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। বিষয় ভিত্তিক শিক্ষক দিয়ে কক্ষ পরিদর্শক করোনো হচ্ছে। প্রথম ও দ্বিতীয় দিনে সাতক্ষীরা আলিয়া কেন্দ্র সহ কয়েকটি কেন্দ্রে আরবী শিক্ষক, মাদ্রাসা সুপার দিয়ে পরীক্ষার হলে কক্ষ পরিদর্শক করা হয়েছে। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের চারটি সেট, ক, খ, গ ,ঘ সরবরাহ করা হলেও শিক্ষার্থিদের মাঝে একই সেট সরবারহ করা হয়েছে। কয়েকটি রুমে শুধু মাত্র ক সেটের প্রশ্ন দেয়া হয়েছে। বড় বড় ক্ষ সমূহে এক এক লাইনে একই সেটের নৈর্বক্তি সরবরাহ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থিদের জেড প্লানে বসানোর কথা থাকলেও আই প্লানে বসানো হয়েছে। শিক্ষকরা বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তর সরবরাহ করেবে বলে শিক্ষার্থিরা জানান। প্রত্যেক শিক্ষার্থিকে নিজ নিজ প্রশ্নের সেট পুরুণ করার কথা থাকলেও পরীক্ষা হলে ঘটেছে তার বিপরীত। বেশির ভাগ মাদ্রাসা কেন্দ্র সমূহে প্রত্যেক হলে একটি করে সেট পুরুণ করতে দেখা গেছে। সাতক্ষীরা আলীয়া মাদ্রাসার এক শিক্ষক জানান, নকল সরবরাহের ক্ষেত্রে শিক্ষকরা বেশি দায়ী। শিক্ষকরা নকল বন্ধ না করে নকল করতে উৎসাহ দিচ্ছে। যেসব শিক্ষকরা সকলে বাধা দেয় সেসব শিক্ষকের পরবর্তি দিনে পরীক্ষার কক্ষে ডিউটি দেয়া হয়না। আলিয়া মাদ্রাসার বাথরুমে বহু নকল পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া প্রধান সড়কেও নকল পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এক ছাত্র জানন, নকল লেখার পর তা শিক্ষকের কাছে দিয়ে দিয়েছি। এমন অভিযোগ হাজারো।
প্রশ্ন খোলার সময় প্রশাসনের কেউ না থাকায় প্রশ্ন ফাঁশের আশঙ্কা করেছে অনেকে। এছাড়া যেসব শিক্ষকরা অফিস স্টাফ হিসেবে কমর্রত সেসব শিক্ষকরা
আধাঘণ্টা আগে প্রশ্ন খুলে বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তর শিক্ষার্থিদের মাঝে সরবরাহ করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। একই শিক্ষক দিয়ে বেশির ভাগ পরীক্ষা নেয়াতে দুর্ণিতি বেশি হচ্ছে। তারা পরিবেশ পরিস্থি বুঝে নকল সরবরা করে। শিক্ষার্থিদের পাশাপাশি শ্রেণী কক্ষে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ডিউটি দেয়া হচ্ছে। ফলে বার বার কক্ষ পরিবর্তন করে শিক্ষকরা নকলে সহযোগীতা করে। এক শিক্ষক জানান, নকলে যাতে সহযোগীতা করা যায় তার জন্যে পরীক্ষা পরিচালনা কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থিদের পাশের কক্ষে ডিউটি দিয়ে থাকে।
পরীক্ষার অনিয়মের কথা জানতে চাইলে সাতক্ষীরা আলিয়ামাদ্রাসা কেন্দ্রের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাওলানা আব্দুর রউফ জানান, তার কেন্দ্রে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা। পরীক্ষা সুষ্ঠ ভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।
পরীক্ষা সুষ্ঠু, দুর্নীতি ও নকলমুক্ত পরিবেশে করতে প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে ম্যাজিষ্ট্রেটের থাকার কথা থাকলেও মাদ্রাসা কেন্দ্র সমূহে তা দেখা যায়নি। অল্প সময়ের জন্যে প্রশাসনের দু’একজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিল সাতক্ষীরা আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে। ফলে নকল মুক্ত পরীক্ষার কথা রয়ে যাচ্ছে কাগজে কলমে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

এই সাইটের কোন লেখা কপি পেস্ট করা আইনত দন্ডনীয়

Headlines