মেয়র আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর আলমের উন্নয়নে বদলে যাচ্ছে গাজীপুর

 

আওলাদ হোসেনঃ

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে শপথ নেওয়ার পর নগরবাসীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষায় বদ্ধপরিকর আলহাজ্ব মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ চলছে। গাজীপুর সিটি করপোরেশন মেয়র জাহাঙ্গীর আলম নির্বাচিত হন জনগনের শতস্ফূর্ত বিপুল ভোটে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমর্থনে। এবার তার উন্নয়ন স্বপ্ন ব্যাপক আকারে শুরু হয়েছে উন্নয়ন কর্মকান্ড। বদলে যাচ্ছে গাজীপুরের চেহারা। তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারে জলাবদ্ধতামুক্ত আধুনিক পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে এবং সর্বাধিক নাগরিক সুবিধা ও সেবার লক্ষ্যে যে, যে উন্নয়ন অঙ্গীকার ছিল। ইশতেহারে পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন-কে দুর্নীতিমুক্তকরা, সিটি গভর্ণমেন্ট ব্যবস্থা প্রবর্তনের উদ্যোগ, যাতায়াত ও ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, হোল্ডিং ট্যাস্ক না বাড়িয়ে সেবার মান বৃদ্ধি, মাদকমুক্ত নগর গড়ে তোলা, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, সিটি সেন্টার গড়ে তোলা এবং বিনামূল্যে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি ইত্যাদি স্থান পায়।

 

ইতিমধ্যে কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের সিটি কর্পোরেশন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা যায়। মেয়র আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর আলমের ঘোষনা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরের সোনার বাংলায় গাজীপুরের মাটিতে কোন প্রকার দূর্নীতিবাজদের স্থান নেই। একবছরের কাজের সাফল্য, সীমাবদ্দতা ও প্রতিবন্ধকতাসহ নানা দিক নিয়ে খোলামেলা কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞা জানিয়েছে গাজীপুর নগরীর রাস্তাঘাট উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরশন সহ বিভিন্ন প্রকল্পে ৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার জন্য।

 

তিনি বলেন, এক বছর দৃশ্যমান উন্নয়নের আসলেই খুবই কম সময়। তবে কাজও হয়েছে বেশ। দায়িত্ব নেওয়ার আগেই প্রকল্প তৈরী করে অর্থ অনুমোদন করাটাই প্রথম বছরের একটা সাফল্য বলে তিনি মনে করেন। এক বছরে ঘর গোছানোর কাজ অনেকটাই হয়েছে বলে তিনি জানান। রাস্তাঘাট উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরশনের অংশ হিসেবে গত অর্থ বছরে টেন্ডার হয়েছে। আর চলতি অর্থ বছরে একই কাজে আরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য পরামর্শক নিয়োগ করা হয়েছে। ড্রেন উন্নয়নে বিশেষজ্ঞ দলও গঠন করা হয়েছে।তিনি আরও জানান, নগরবাসীর দীর্ঘ দিনের একটা প্রত্যাশা ছিলো ড্রেনেজ সহ পানি নিষ্কাশনের বিষয়টি। সেই বড় কাজ সম্পাদনে অনেকটাই এগিয়ে এখন। অনেক অবৈধস্থাপনা ও দখলদারদের ইতোমধ্যে উচ্ছ্দে করা হয়েছে। আগামীতে কেউ আর যাতে দখল করতে না পারে সে জন্য পুরা এলাকাটা ঘিরে গাছ লাগিয়ে বিনোদন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। খনন করা হবে নদী-খালও। এতে করে পানি যেমন শহর থেকে দ্রুত বের হবে, তেমন শহর হবে দৃষ্টিনন্দন। ডেঙ্গুজ্বর প্রতিরোধ সিটি কর্পোরেশেন থেকে একটি ভালো উদ্যোগ থাকার কারণে শহরে এই রোগের প্রকোপ হয়নি বলে তিনি মনে করেন। নিজ উদ্দ্যোগে বিদেশ থেকে এডিস মশা নিধনে ঔষধ এনে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনসহ অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনে দিয়ে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। যতদিন বৃষ্টি থাকবে ততদিন এবিষয়ে কাজ চলমান থাকবে। আর মশা নিধনে সারা বছরই কাজ থাকবে।

 

ইতোমধ্যে ফুটপাথ দখলমুক্ত করা হয়েছে। আগামী মাস থেকে ব্যাটারিচালিত রিক্সার ব্যাটারি খুলে দেওয়া হবে। কমিয়ে আনা হচ্ছে ইজিবাইকের সংখ্যাও। এর জন্য আগামী মাস থেকে লাইসেন্স প্রদান করা হবে। এর ফলে নগরীর ট্রাফিকজ্যাম অনেকটাই কমে আসবে। ওয়াসার সহযোগিতায় আগামীতে নগরীর সোয়ারেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা হবে বলেও জানান মেয়র। সবই গাজীপুরের উন্নয়নে ব্যায় করা হচ্ছে। তবে বৃষ্টিতে কিছু রাস্তা নষ্ঠ হয়ে যাওয়ায় নগরবাসীর কষ্ট হচ্ছে বলেও তিনি মনে করেন। বৃষ্টির কারনে কার্পেটিং-এর কাজ বন্ধ রয়েছে। তাই কিছু দিনের মধ্যেই কাজ শুরু হলে এ সমস্যার সমাধান হবে।

 

বর্তমান সময়ে সনাতন ধর্মের দূর্গা পূজার মন্ডপে মন্ডপে দিনরাত নিজে পরিদর্শন করে তাদেরকে আর্থিক সহযোগীতা করছেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের যোগ্য মেয়র আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর আলম।