মেয়র জাহাঙ্গীরকে পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে সম্মান করলে প্রধানমন্ত্রীর নিকট চিরকৃতজ্ঞ থাকবে গাজীপুরবাসী

 

 

(বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মানব সেবায় নিবেদিত প্রাণ এমনটাই দাবী গাজীপুর-বাসীর। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন মেয়র জাহাঙ্গীরকে পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে সম্মান করলে আপনার নিকট চিরকৃতজ্ঞ থাকব।)

 

প্রাণের বাংলাদেশ ডেস্ক :

গাজীপুরের নাগরিকদের সুরক্ষিত রাখতে প্রাণান্তকর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন সিটি কর্পোরেশনের মেয়র অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম। করোনার থাবা থেকে রক্ষার অন্যতম কৌশল ঘরে থাকা। সিটি করপোরেশনের দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের ঘরে থাকা নিশ্চিত করতে প্রত্যেকের ঘরে ঘরে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ারও উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছেন তিনি। করোনা মহামারীতে মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের ভূমিকা সর্বজন প্রশংসনীয়।

গাজীপুরের প্রাণ জাহাঙ্গীর আলম। জীবনের প্রথম নির্বাচনেই মানুষের নজরে এসে পড়েছিলেন তিনি। দলীয় মনোনয়ন না পেয়েও নিজের চৌকষ পরিকল্পনা এবং দক্ষ নেতৃত্বের কারণে অনেকেই মজে যান তাঁর গুণাবলীতে। নাম তাঁর অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম।

২০০৯ সালে গাজীপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে লড়েছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান পদে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে হারিয়েছিলেন সাড়ে তিন লাখ ভোটের ব্যবধানে। সেই নির্বাচনের ফল দেখে অনেকেই চমকে উঠেছিলেন। একসময়ের মাঠ কাঁপানো ছাত্রলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম ভাইস চেয়ারম্যান হয়েই মানুষের মনে নিজের জায়গাটি পোক্ত করে ফেলেন। নির্বাচিত হয়ে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্ম থেকে ছাত্রলীগকে মুক্ত রাখতে গ্রহণ করেছিলেন নানা উদ্যোগ। সফলতাও পান। হয়ে ওঠেন মানুষের আস্থার প্রতীক।

এ ছাড়াও নিজেকে ঘুষ-দুর্নীতির বাইরে থেকেও ব্যক্তিগত তহবিল থেকে রাস্তাঘাট মেরামত, মসজিদ মন্দির, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুদান, সেবা ও আপদ-বিপদে পাশে দাঁড়িয়ে দ্রুত বাড়তে থাকে তাঁর জনপ্রিয়তা, হয়ে ওঠেন সব বয়সী মানুষের নয়নমনি। জেলাজুড়ে পরিচিতি পান ‘ক্লিন ইমেজ’ নেতার খ্যাতি। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম এবং সাধারণ মানুষের আইডলে পরিণত হন তরুণ জাহাঙ্গীর আলম। পরবর্তীতে তিনি প্রথম চমক দেখান ২০১৩ সালে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হয়ে। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সিটি কর্পোরেশনজুড়ে ব্যাপক আলোচনায় আসেন তিনি।

যাতায়াত ব্যবস্থা, রাস্তাঘাট, হাট-বাজার, শপিংমল, চিকিৎসা ব্যবস্থা, যানজট, বাসস্থানসহ নগর উন্নয়নে একগুচ্ছ প্যাকেজ উপস্থাপন করে আরো এক দফায় নজর কাড়েন নগরবাসীর। তাঁকে থামানোর জন্যে স্থানীয় এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতারা হন্তদন্ত হয়ে ওঠেন। তবুও পারেননি। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে হয়ে যান গাজীপুরের মতো দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মহানগরের সাধারণ সম্পাদক। ততক্ষণে তিনি আপামর জনসাধারণের কাছে হয়ে ওঠেন নয়নের মনি, প্রিয় থেকেও প্রিয়তর নেতা কিংবা স্বপ্নের মেয়র।

আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটির জন্যে গাজীপুরকে বলা হয় দ্বিতীয় গোপালগঞ্জ। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে আয়তনে দেশের সবচেয় বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ গাজীপুর মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়া তাঁর ছিল আরেকটি রাজনৈতিক চমক। দায়িত্ব গ্রহণের পর নানা উদ্যোগ ও কর্মসূচি দিয়ে ঝিমিয়ে পড়া আওয়ামী লীগকে প্রাণের সঞ্চার করে চলেছেন তিনি। এতে শুধু গাজীপুর নয়, বেজায় খুশি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতারাও। ঝিমিয়ে পড়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জাহাঙ্গীরকে পেয়ে যেন চাঙা হয়ে উঠেছে। জাহাঙ্গীর আলম জানান, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

দলের নাম ভাঙিয়ে যাতে কেউ অন্যায় কাজ করতে না পারে সে লক্ষ্যেই নেতাকর্মীদের গড়ে তোলা হচ্ছে। ত্যাগী হলেও চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, নেশাগ্রস্থ এবং ভূমিদস্যুদের কমিটিতে রাখা হবে না। তিনি বলেন, ‘আমার নেত্রী বঙ্গবন্ধু-কন্যা আমার ওপর যে গুরুদায়িত্ব দিয়েছেন তা জীবনের বিনিময়ে অক্ষরে অক্ষরে পালন করবো। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যত জনপ্রতিনিধি আছে মন্ত্রী-মেয়র-কাউন্সিলর-আমলা- সবার চেয়ে সাহায্য সহযোগীতায় এগিয়ে আছেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম এমনটাই শুনা যায় বিভিন্ন মহলে।

স্থানীয়রা বলছেন, মানুষের জন্য মেয়রের যে অবদান তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তিনি খুবই বিচক্ষণতার সঙ্গে পরিস্থিতি অনুযায়ী বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগ নিয়ে থাকেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বৃহত্তর গাজীপুর নিয়ে যে মহাপরিকল্পনা মেয়র জাহাঙ্গীর আলম নিয়েছেন তা বাস্তবায়ন হলে বিশে^র মধ্যে অন্যতম একটি শহর হবে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন।