ময়মনসিংহ প্রতিনিধি :

ময়মনসিংহে সদর উপজেলায় যুবলীগের কমিটি নিয়ে দুই গ্রুপের মাঝে টানটান উত্তেজনা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা দেখা দিয়েছে। বৈধ একটি কমিটি থাকার পরেও ক্ষমতার বলে একটি মহল আরেকটি কমিটি দেওয়ার জের হিসেবে উক্ত ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। জেলার সদর উপজেলার পরাণগঞ্জ ইউনিয়নে উক্ত ঘটনা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চরম আতঙ্ক ও দুপক্ষের মাঝে তুমুল সংঘর্ষ ও প্রাণহানি ঘটার আশংকা বোধ করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। সূত্র মোতাবেক জানা যায়, ময়মনসিংহ কোতোয়ালী যুবলীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোশারফ হোসেনের যৌথ স্বাক্ষরে গত ১লা ডিসেম্বর ২০১৬ ইং তারিখে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার পরাণগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগের ৪১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। যে কমিটির সভাপতি পদে হারুন অর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক পদে শফিকুল ইসলাম শফিক দায়িত্ব পালন করছেন। কমিটির এক বৎসর অতিবাহিত হতে না হতেই ময়মনসিংহের প্রভাবশালী একটি রাজনৈতিক মহল তাদের নিজেদের আখের গোছাতে আর্শিবাদপৃষ্ঠ লোকজনের সমন্বয়ে বর্তমান বৈধ কমিটির বিপরীতে আরেকটি কমিটি দেওয়ার পায়তারা ও লবিং চালাচ্ছে। আগামীকাল ২৫ ডিসেম্বর বর্তমান কমিটির বিপরীতে আরেকটি কমিটি দেওয়ার জন্য ক্ষমতাসীন গ্রুপটি তাদের পাল্লা ভারী করতে আরেকটি কমিটি দেওয়ার জন্য সম্মেলনের ডাক দিলে একই স্থানে বর্তমান কমিটির নেতৃবৃন্দরা পাল্টা সম্মেলনের আহবান করেন। যে কারণেই পরাণগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগের দুই গ্রুপের মাঝে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বর্তমান কমিটির নেতৃবৃন্দ গতকাল শনিবার ইউনিয়ন ব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল বের করলে এতে ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ সহ সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। সাথে তাল মিলিয়ে মিছিলে স্লোগান ধরেন ইউনিয়নের আপামর জনসাধারণ। এতে পরাণগঞ্জ তথা গোটা চরঅঞ্চলের মাঝে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। পরাণগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগের বর্তমান কমিটির সভাপতি হারুন অর রশিদ অভিযোগ করে বলেন আমাদের বৈধ কমিটি থাকার পরেও ময়মনসিংহের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান তার গ্রুপকে লেলিয়ে দিয়েছেন আমাদের বিপরীতে আরেকটি কমিটি দেওয়ার জন্য। আমরা আমাদের বৈধ কমিটি থাকতে যতশক্তিধারী ব্যক্তিই হোক বিপরীত কোন কমিটি হতে দিবনা। সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে প্রতিহত করব। ইউনিয়নের সচেতন মহল দাবী করছেন যুবলীগের দুই গ্রুপের কমিটিকে ঘিরে দু পক্ষের মধ্যে কমিটি অনুমোদন নিয়ে যে সহিংসতার দেখা দিয়েছে তাতে ২৫ ডিসেম্বর প্রতিপক্ষ গ্রুপটি সম্মেলন করার চেষ্টা করলে পরাণগঞ্জ রনক্ষেত্রে পরিণত হবে। চরাঞ্চলবাসী এই অবস্থার অবসান চান। অচিরেই স্থানীয় আইন শৃঙ্খলার উন্নয়ন ও শান্তি শৃঙ্খলার স্বার্থে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এর জরুরী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here