যমুনায় ভাঙন ঠেকাতে ব্যবহৃত হচ্ছে নিম্নমানের জিওব্যাগ

মো: নাসির উদ্দিন, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ

 

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদীতে ভাঙন ঠেকাতে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের জিওব্যাগ। ব্যাগে বালুর পরিবর্তে মাটি দিয়ে ভর্তি করে ভাঙন কবলিত এলাকায় ফেলা হচ্ছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নদী ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষ।

 

জানা যায়, গত ১৫ দিন ধরে উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের খানুরবাড়ী, কষ্টাপাড়া ও ভালকুটিয়া গ্রামের প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যমুনা নদীতে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। এ ভাঙনে ইতিমধ্যে শতাধিক পরিবার তাদের ঘরবাড়ী হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এতে ৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মস্জিদ, কালিমন্দির, আধা-পাকা ঘরবাড়ীসহ শতাধিক পরিবার ভাঙনের কবলে রয়েছে।

 

এদিকে, ভাঙন ঠেকাতে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ১ কিলোমিটার ভাঙন কবলিত এলাকার মধ্যে মাত্র ৭৫ মিটার এলাকায় ভাঙনরোধে অর্ধ কোটি টাকার প্রকল্পে জিওব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছে। এতে একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড যমুনা নদীতে জিওব্যাগ ডাম্পিং করছে। এদিকে বালুর পরিবর্তে পলি দোঁআশ মাটি দিয়ে ভর্তি করা জিওব্যাগগুলো নিম্নমানের হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা।

 

এছাড়া ভাঙন কবলিত ভূক্তভোগীদের অভিযোগ, নদীতে যেসব জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে তা অতি নিম্নমানের। যেখানে বালুর পরিবর্তে ভিট মাটি দিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া ভর্তিকৃত জিওব্যাগে ঘাস দেখা গেছে।

 

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আল আমিন হোসেন জানান, কিছু কিছু জিওব্যাগে ভিট মাটি পাওয়া গেছে। সেগুলো পরিবর্তন করা হচ্ছে।

 

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট আব্দুল লতিফ জানান, কিছু জিওব্যাগে মাটি ও ঘাস পাওয়া কথা স্বীকার করে বলেন, সেগুলো পরিবর্তনের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বলা হয়েছে।

 

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মফিদুল ইসলাম বলেন, ‘সঠিক জিওব্যাগেই বালু ভর্তি করে ভাঙন এলাকায় ডাম্পিং হচ্ছে। কিছু জিওব্যাগে একটু আট্টু সমস্যা আছে সেগুলো পরিবর্তন করা হয়েছে।

 

টাঙ্গাইলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, জিওব্যাগ বালু দিয়ে ভর্তি করেই ভাঙন এলাকায় ফেলার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যেখানে জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে সেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা সার্বোক্ষণিক দেখাশোনা করছেন।