রংপুর সিটি বাজারে মাছ কেটে ভাগ্য পরিবর্তন অস্বচ্ছল নারীদের

রংপুর প্রতিনিধি:

রংপুরের অসচ্ছল প্রায় ২৫ নারী মাছ কাটা পেশায় নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন এনেছে। কয়েক বছর আগেও যারা অন্যের বাড়িতে কাজ করে বা ভিক্ষা করে সংসার চালাতেন, তারাই এখন মাছ কেটে সংসারে এনেছেন স্বচ্ছলতা। পরিবারের ছেলেমেয়েরাও করছে লেখাপড়া। তাদের এ কাজে নগরীর ব্যস্ত কর্মজীবি মানুষেরাও অনেক খুশি। তবে তাদের বসার জন্য নির্ধারিত কোনো সেড না থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে মাছ কাটার কাজ করতে হচ্ছে। প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ টাকা করে জায়গা ভাড়াসহ পানির জন্য ১০ টাকা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীর জন্য ১৫ টাকা দিয়ে এ কাজ তাদের করতে হচ্ছে । এতকিছুর পরও তারা এ কাজ করে খুশি।

 

গতকাল মঙ্গলবার নগরীর সিটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ধারালো বটি দিয়ে যন্ত্রের মতো হাত চলছে এসব নারীদের। পায়ে বটি রেখে কাঠের ওপর সারাক্ষণ তারা মাছ কাটেন । এই মাছ কেটেই শুরু হয় দিন। এতেই জীবন ও সংসার।

 

মাছ কাটার পেশায় জড়িত নগরীর আমাশু কুকরুলের মজিবর মিয়ার স্ত্রী শেফালি বেগম (৪৫) জানান, নাটোর জেলায় তার স্বামীর বাড়ি। স্বামীর নির্মম অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে রংপুরে বোনের বাড়িতে চলে আসেন। বোনের অভাবের সংসারে শুরু হয় জীবন বাঁচানোর লড়াই। কাজের সন্ধানে বের হলে সিটি বাজারে এক দোকানদার কিছু মাছ কাটার কথা বলেন। এভাবে শুরু হয় তাঁর কর্মের জীবনের। প্রথম দিকে কাজ কম হলেও টানাটানি করে সংসার চলত। শেফালী বেগম এ কাজ করে দুই ছেলের বিয়ে দিয়েছেন। জমিও কিনেছেন। বর্তমান ছেলে ও ছেলের বউসহ নাতি নাতনি নিয়ে ভালই কাটছে দিন ।

 

এমনি ভাবে সাড়ে তিন বছর আগে এ কাজ প্রথম শুরু করেছিলেন গুরাতিপাড়ার শাহাদাত হোসেনের স্ত্রী কোহিনুর বেগম (৪৫)। গুরাতিপাড়ার মতিন মিয়ার স্ত্রী সালেহা (৫০), খেরবাড়ির বাকি মিয়ার স্ত্রী হাজরা বেগম (৪০) ও তার ননদ মাজেদা বেগম, মুলাটেলের কফিল মিয়ার স্ত্রী শ্যামলী বেগম (৩৪), জুম্মাপাড়ার সাজুর স্ত্রী আমেনা খাতুন সিগারেট কোম্পানির ময়না বেগম, তহমিনা বেগমসহ অনেকে। তাদের কারো স্বামী নেই আবার কারো স্বামী ছেড়ে চলে গেছেন। কারো স্বামী অন্য পেশায় জড়িত আছেন।

 

প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪ পর্যন্ত মাছ কাটার কাজে ব্যস্ত থাকেন এসব নারীরা। আর প্রতিদিন একজন নারী সকল খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৩শ’ থেকে সাড়ে ৫শ’ টাকা আয় করেন। তারা বলেন, যতো বেশি কাজ ততো বেশি টাকা।

 

তাদের জীবনের গল্প যেন বিভীষিকাময়। এক সময় সংসারের টানাটানি মেটাতে তাদের করতে হয়েছে অনেককে ভিক্ষা ও গৃহকর্মীর কাজ। এ পেশায় এসে তারা এখন তারা সাবলম্বী। প্রতি কেজি ছোট মাছ কাটতে ২০ টাকা, ৫ কেজির উপরে বড় মাছ ৫০ থেকে ৬০ টাকা নেন তারা।

 

ধাপ থেকে আসা নজরুল ইসলাম বলেন, এক কেজি শিং মাছ নিয়েছি। এখন বাড়িতে তো কাটতে পারবে না। মাছ কাটা নারীদের দ্বারা কেটে নিব। তারা যে কাজ করছে এটা সামান্য টাকার বিনিময়ে। আমি মনে করি তারা মানুষকে এক ধরনের সেবা দিয়ে আসছে। সেই সাথে কর্মসংস্থানও হচ্ছে দুখী নারীদের।