রমজান মাস স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ উপহার

সাইমুর রাহাত রায়হানঃ

 

বছর ঘুরে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সুসংবাদ নিয়ে আগমন ঘটে পবিত্র মাহে রমজান মাসে। আরবী মাস অনুযায়ী রমজানের ১ তারিখ অর্থাৎ ১ম রোজা। আলহামদুলিল্লাহ্, মুসলিম উম্মাহ’র জন্য এক বিশেষ নিয়ামত ও ফজিলতপূর্ণ মাস হচ্ছে এই রমজান। আল্লাহ্ তা’লার পক্ষ থেকে বান্দাদের জন্য এটিই শ্রেষ্ঠ উপহার।

 

রমজান মাসের প্রধান ২টি ভিত্তি হচ্ছে- রোজা ও তারাবীহ। রমজানের প্রতিটি রোজা পালন করা প্রত্যেক বালেগ পুরুষ ও মহিলার জন্য ফরজ তথা আবশ্যক। শরীয়তের বিধান অনুযায়ী রমজান মাসের ১টি রোজাও তরক করা অনেক বড় কবিরা গুনাহ। তাই ইসলামের দৃষ্টিতে শরীয়ত সম্মত কারণ ব্যতীত বালেগ পুরুষ/নারী রোজা ছাড়তে পারবে না।

 

রমজান মাসের অন্যতম আরেকটি প্রধান ভিত্তি ও নিয়ামত হচ্ছে তারাবীহ’র নামাজ। এশার নামাযের পর ২০ রাকাত তারাবীহ’র নামাজের হুকুম রয়েছে। রমজানুল মুবারকে তারাবীহ’র নামাজের অনেক ফজিলত ও নেকি রয়েছে। এছাড়াও তারাবীহ’র নামাজ পড়ার পর মানসিক প্রশান্তি পাওয়া যায়। যারা নিয়মিত তারাবীহ’র নামাজ পড়েন তারাই এই নামাজের ফজিলত ও প্রশান্তি অনুভব করতে পারেন।

 

রমজান মাসের মূল ভিত্তি রোজা পালন ও তারাবীহ’র নামাজ হলেও এই মাসের নিয়ামত ও ফজিলত এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। রমজান মাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হচ্ছে পবিত্র আল-কুরআন। এই রমজান মাসেই পবিত্র আল-কুরআন মাজীদ নাযিল হয়েছিল। তাই এই মাসে কুরআনের তাৎপর্যতা অনেক বেশি। কুরআন মাজীদের ১টি হরফ পড়লে ১ টি নেকী বা সওয়াব পাওয়া যায়।

 

হাদীসে এসেছে, ১টি নেকী ১০টি নেকীর সমান। রমজান মাসের একটি বিশেষ ফজিলত হচ্ছে, এই রমজানে যে কোনো নেক আমল করলেই ৭০ গুণ বেশি সওয়াব/নেকী পাওয়া যায়। সুতরাং রমজান মাসে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করলে প্রত্যেক হরফের বিনিময়ে ৭০ গুণ বেশি সওয়াব/নেকী আমাদের আমলনামায় জমা হবে।

 

তাই মুসলিম ভাই-বোনেরা আসুন, পবিত্র মাহে রমজানের পবিত্রতা বজায় রেখে রমজানের নিয়ামত, ফজিলত এবং বরকতের মূল্যায়ণে আমরা রমজানের প্রত্যেকটি রোজা সঠিকভাবে পালন করি, রমজানে নিয়মিত তারাবীহ’র নামাজ আদায় করি, সকল প্রকার গুনাহ থেকে বিরত থাকি, বেশি বেশি নেক আমল করি, কুরআন তিলাওয়াত করি। সর্বোপরি উপরিউক্ত কাজ গুলোর মাধ্যমে মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নৈকট্য লাভের চেষ্টা করি।