রাখাইনকে বাংলাদেশের অংশ করার কোনো মানসিকতাই নেই: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ : মঙ্গলবার, জুলাই ৯, ২০১৯ পূর্বাহ্ণ ১:০১

শের ই গুল:

 

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যকে বাংলাদেশের অংশ করার কোনো মানসিকতাই বাংলাদেশের নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

সোমবার বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা জানান। প্রধানমন্ত্রীর সদ্যসমাপ্ত চীন সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

 

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মার্কিন কংগ্রেসের পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ এশিয়ার জন্য বাজেটবিষয়ক শুনানিতে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের এশিয়া প্রশান্ত-মহাসাগরীয় উপকমিটির চেয়ারম্যান ব্রাড শেরম্যান রোহিঙ্গাদের জন্য মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যকে দেশটি থেকে আলাদা করে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনার জন্য পররাষ্ট্র দফতরের প্রতি আহ্বান জানান।

 

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের কোনো মানসিকতাই বাংলাদেশের নেই।

 

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়িয়ে ৩৫ করার দাবিতে চলা আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে বয়স বাড়ানো হবে কিনা জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী ৩৫, ৩৬ ও ৩৭তম বিসিএসে অংশগ্রহণকারীদের বয়সভেদে পাসের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। এতে দেখা যায়, বেশি বয়সী পরীক্ষার্থীদের তুলনায় কম বয়সী পরীক্ষার্থীদের পাসের হার বেশি। এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানো উচিত কিনা সেটা দেশের মানুষকেই ভেবে দেখতে বলেন তিনি।

 

গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বলা হচ্ছে ভারতের গ্যাসের দাম কমানো হচ্ছে। কিন্তু ভারতের গ্যাসের দাম বাংলাদেশের তুলনায় বেশি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, সব থেকে বড় প্রশ্ন হলো আমাদের দেশে গ্যাসের প্রয়োজন আছে কি না? দেশে  যদি আমরা উন্নত করতে চাই সেখানে এনার্জি একটি বিষয়। বাংলাদেশে ২০০৮  সাল পর্যন্ত জিডিপি কতটুকু  বেড়েছে  আর এখন জিডিপি ৮ দশমিক ১  ভাগ পর্যন্ত অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।  এর কারন আমরা এনার্জির ক্ষেত্রে মনোযোগ দিয়েছি। আমরা নিজেরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করছি। গ্যাস  এ মুহূর্তে আমদানি করতে হচ্ছে। এলএনজির আমদানির জন্য খরচ যথেষ্ট বেশি পড়ে, এত কোন সন্ধেহ নাই। কিন্তু সেখানে দাম যেটুকু বাড়ানো হয়েছে তা না বাড়ালে আমাদের কাছে দুটি পথ আছে, হয় আমাদের জিডিপি যাতে না বাড়ে সেজন্য এলএনজির আমদানি বন্ধ করে দিয়ে অর্থনীতির উন্নতি সংকুচিত করে নিতে হবে। তখন অর্থনীতির উন্নতি হবে না। আর যদি সত্যিকারের উন্নতি চান তাহলে এটাতো মেনে নিতে হবে।

 

রাজধানী ওয়ারীতে ধর্ষনের পর হত্যার শিকার হওয়া শিশু সায়মার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, অপরাধীকে পুলিশ সংঙ্গে সংঙ্গে গ্রেফতার করেছে এবং সে ধর্ষনের কথা শিকার করেছে। ধর্ষনের মতো জঘন্য কাজ যারা করে তারা মানুষ না-উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,সরকার অপরাধীদের বিরুদ্ধে সংঙ্গে সংঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছে। এ ছাড়া ধর্ষন প্রতিরোধে নারীদের পাশাপাশি পুরুষদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

 

বিশ্বকাপ ক্রিকেট বাংলাদেশের পারফরম্যান্স অত্যান্ত চমৎকার ছিলো বলে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে ক্রিকেট খেলে, যেমন-বড় বড় দল তাদের পর্যন্ত হারিয়ে দিয়েছে। সাকিব, মোস্তাফিজ বিশ্বকাপে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। সোমবার গণভবনে চীন সফরের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন ক্রিকেট খেলায় বাংলাদেশ যথেষ্ট উন্নতি করছে। হয়তো সেমিতে যেতে পারেনি। চারটি দল সেমিতে গেছে। যে দলগুলো বাদ পড়েছে তারা সবাই কি খারাপ দল। দীর্ঘদিন ধরে যারা ক্রিকেট খেলছে তাদের সঙ্গে মোকাবিলা করেছে আমাদের ছেলেরা। এই সাহসই তো বড় কথা। সবাই যে সব খেলায় জিতবে এমন কোনো কথা নয়। তা ছাড়া ভাগ্যও লাগে। শেখ হাসিনা বলেন, খেলায় ধীরে ধীরে বাংলাদেশ আরও উন্নতি করবে। ইনশাআল্লাহ।

 

 

প্রসঙ্গত, পাঁচ দিনের দ্বিপক্ষীয় সরকারী সফরে গত ১ জুলাই চীনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২ জুলাই ডালিয়ান শহরে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের গ্রীষ্মকালীন সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি, ৪ জুলাই চীনর বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট ছাড়াও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে দু’দেশ পাঁচটি চুক্তি, তিনটি সমঝোতা ও একটি লেটার অব এক্সচেঞ্জে সই করে। ৫ জুলাই চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক ও তার দেওয়া নৈশভোজেও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী । সফর শেষে গত শনিবার দুপুরে দেশে ফেরেন তিনি।