মো: রাজন ইসলাম রাজু :

 

রাজধানীর উত্তরা, মুগদা, সবুজবাগ, যাত্রাবাড়ী, জুরাইন, কদমতুলী, সূত্রাপুর, কেরানীগঞ্জ সহ ঢাকাসহ আশপাশ জেলাগুলোতে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাসলাইনের ছড়াছড়ি। গ্যাস নেটওয়ার্কভুক্ত অন্য জেলাগুলোতেও অবৈধ সংযোগ কম নয়। কিন্তু অজানা কারণে গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো এই অবৈধ লাইন স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করতে পারে না। বছরের পর বছর অভিযান চলে।

সাময়িকভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্নও হয়। আবার সে সংযোগ পুনঃস্থাপিত হয়। এ কারণে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ লাইন বেড়েই চলেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে রাজধানীর খাবার হোটেল ও বিরিয়ানী দোকান গুলোতে অবৈধ গ্যাস লাইন লাগিয়ে চলছে হরদম ব্যবসা।

নারায়ণগঞ্জের মসজিদে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ম্ফোরণে বহু হতাহতের পর সরব হয়েছিল গ্যাস বিতরণের দায়িত্বে নিয়োজিত রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি তিতাস। জ্বালানি বিভাগও বিতরণ কোম্পানিগুলোকে কড়া নির্দেশ দিয়েছিল অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের। এরপর থেকে সারাদেশে জোরালো অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছিল তিতাসসহ অন্যান্য কোম্পানি। অথচ এখনও নির্বিকার বিতরণ কোম্পানিগুলো।

এছাড়া আর কোথাও অবৈধ লাইন উচ্ছেদে জোরালো অভিযান হয়নি। এসব অবৈধ লাইন থেকে যে কোনো সময় আবারও ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশজুড়ে অবৈধ সংযোগ ও পাইপলাইন :তথ্যমতে দেশে সাতটি গ্যাস বিতরণ কোম্পানি রয়েছে। ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে পাইপলাইনের সাহায্যে গ্যাস সরবরাহের মাধ্যমে ১৯৬০ সালে বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ শুরু হয়। বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহ শুরু ১৯৬৭ সালের দিকে। প্রথমে দেওয়া হয় ঢাকায়। এরপর দেশজুড়ে গ্যাসের নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি পেয়েছে।

সারাদেশে গ্যাস নেটওয়ার্কের পরিমাণ ২৪ হাজার ২৮৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে বিতরণ ও সার্ভিস লাইন প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার। এই লাইনের ৭০ শতাংশই ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে ঢাকা মুগদা, সবুজবাগ বাসাবো, যাত্রাবাড়ী,শ্যামপুর, জুরাইন, কেরানীগঞ্জ পাইপলাইনের অবস্থা বেশ খারাপ। ঢাকা বিভাগে গ্যাস সরবরাহের দায়িত্বে নিয়োজিত তিতাস গ্যাসের ১২ হাজার ২৫৩ কিলোমিটার পাইপলাইন রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় রয়েছে সাত হাজার কিলোমিটার, যার অধিকাংশই ঝুঁকিপূর্ণ। তিন-চার দশকের পুরোনো এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লাখ লাখ অবৈধ সংযোগ।

অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়ার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারী, ঠিকাদার ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে ফৌজদারি মামলা দায়ের করার কথা বলা হয় ওই বৈঠকে। বাস্তব চিত্র ভিন্ন। বিতরণ কোম্পানিগুলো এখনও সেভাবে অভিযান শুরু করেনি। সবচেয়ে বেশি অবৈধ লাইন রয়েছে তিতাসে।

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here